নির্বাচনের চেয়ে বিএনপির নজর ছিল মনোনয়ন বাণিজ্যে

বিশেষ সংবাদদাতা প্রকাশিত: ০৭:৫৩ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০১৯
নির্বাচনের চেয়ে বিএনপির নজর ছিল মনোনয়ন বাণিজ্যে

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া প্রসঙ্গে বলেছেন, গত নির্বাচনে প্রতিযোগিতার চেয়ে তাদের নজর ছিল মনোনয়ন বাণিজ্য করায়। কারণ ৩০০ আসনের বিপরীতে কোনো কোনো আসনে তিনজন পর্যন্ত মনোনয়ন পেয়েছিল।

তিনি বলেন, মনোনয়ন বাণ্যিজের কারণেই বিএনপি জিততে পারেনি। লন্ডন থেকে ওহি আসে, আর সেই অনুযায়ী বিপুল টাকার বিনিময়ে বিএনপি নেতারা প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন। এভাবে ক্ষমতায় আসা যায় না, চোর হওয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রী আজ (শুক্রবার) বিকেলে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিকেল ৫টায় তার সরকারি বাস ভবন গণভবনে এই বৈঠক শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কার্যনির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচন করতে আসেনি, নির্বাচনকে তারা বাণিজ্যক্ষেত্র বানিয়েছিল। টাকা খেয়ে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় আগ্রহ ছিল না তাদের। নির্বাচন উপলক্ষে বাণ্যিজ্য করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের। যা জনগণ মেনে নিতে পারেনি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন জরিপ বলা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসছে। আমাদেরও বিশ্বাস ছিল জনগণ আমাদের বারবার চায়। সে বিশ্বাস আমরা বাস্তবে দেখেছি। নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ২০০৮-এর নির্বাচনেও কোনো প্রশ্ন ছিল না। এছাড়া জনগণের সেবা করতেই আমরা নির্বাচন করি।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে শান্তি ফিরিয়েছি। উন্নয়নের জোয়ার লেগেছে। পরিকল্পিত কাজ করে জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জন করেছি। সেই আস্থা আর বিশ্বাস থেকেই আওয়ামী লীগ এবারও সরকার গঠন করেছে। জনগণ উন্নয়ন চায়, শান্তি চায়। সুন্দরভাবে বাঁচতে চায়। আমরা দেশে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছি, যাতে আওয়ামী লীগ জনগণের আস্থা আর বিশ্বাস অর্জন করেছে। এজন্যই আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়।

তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার আগে দেশে ছিল অর্থনৈতিক মন্দা। দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল বিএনপি। এদের অপকর্মে দেশ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছিল। শান্তিতে চলাফেরা করতে পারতো না মানুষ। চুরি-ডাকাতি বা সন্ত্রাসবাদ এমনকি মাদকের বিস্তার ছিল দেশে। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি ছিল মানুষের। যে কারণে দেশের মানুষ তাদের ক্ষমতাচ্যুত করেছে। তাদের হাতে ক্ষমতা দেয়া হলে, দেশ লুট করে খাবে- এটা বুঝতে পেরেছে জনগণ।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির আমলে আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। নির্যাতনে বাড়িঘরে থাকতে পারেননি নেতাকর্মীরা। এমনকি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। আমাদের নগদ টাকাসহ অনেক সম্পদ লুট করে নিয়ে গিয়েছিল বিএনপি। মিথ্যা মামলায় আমাদের জর্জরিত করতে চেয়েছিল। আমাদের দলীয় কার্যক্রমের কোনো সুযোগই ছিল না। কিন্তু আমরা বিএনপির নামে কোনো মিথ্যা মামলা দিচ্ছি না। খালেদা জিয়ার মামলা আমরা করিনি। এতিমের টাকা খেয়ে পার পেয়ে যেতে পারেননি, তাদেরই লোকের দেয়া মামলায় খালেদা জিয়া আজ জেলে।

এফএইচএস/এমএমজেড/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :

এই বিভাগের সর্বশেষ