ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

মোটরচালক লীগের কমিটি অনুমোদন দিলেন বিএনপি নেতা!

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০৯:৩৩ পিএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী মোটরচালক লীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে। তিনি নিজে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন দাবি করলেও সেটা অস্বীকার করেছেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। রয়েছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।

বিএনপির পদধারী নেতা হয়েও আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্ষুব্ধ হয়েছে দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা নেতাকর্মীদের একাংশ।

এর আগে ফিরোজ খান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ ব্যবহার করে এলাকায় পোস্টার, বিলবোর্ড টাঙানোর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভুয়া পদ ব্যবহার করে রাতারাতি তিনি আওয়ামী লীগ নেতা সেজে প্রতারণা করছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের।

উপজেলা মোটরচালক লীগ সূত্রে জানা যায়, ২৭ জুলাই ফরিদপুর জেলা মোটরচালক লীগের সভাপতি রুহুল আমিন তালুকদার (খোকন), সাধারণ সম্পাদক মাসুদ মাতব্বর ও সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার স্বাক্ষরিত প্যাডে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট নগরকান্দা উপজেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

ঘোষিত ওই কমিটিতে গুলজার হাসানকে সভাপতি ও হানিফ পাটোয়ারীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তবে জেলা কমিটির অনুমোদিত প্যাডে উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ফিরোজ খানকেও স্বাক্ষর দিতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফিরোজ খান যুদ্ধাপরাধীর ছেলে হিসেবে এলাকায় আগে থেকেই পরিচিত। একাত্তরে উপজেলার শহীদনগরে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো তাণ্ডবে তার প্রত্যক্ষ মদত ও সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া উপজেলা শান্তি কমিটির তালিকায় ১১ নম্বরে মকবুল খানের নাম রয়েছে বলেও জানা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, চারদলীয় জোট সরকারের সময় বিএনপির ক্ষমতা ব্যবহার করে নগরকান্দা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলা-মামলায় হয়রানি করেন ফিরোজ খান। সম্প্রতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষ ও হামলায় তিনি নেতৃত্ব দেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি উপদেষ্টা ফিরোজ খান জাগো নিউজকে বলেন, শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর নির্দেশ মোতাবেক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অনুমোদিত প্যাডে আরও অনেক নেতা স্বাক্ষর দিয়েছেন। তাই আমিও দিয়েছি।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, আমি আগে বিএনপি করতাম। এখন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছি। আমি এখন আওয়ামী লীগ করি।

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ফিরোজ খান এর আগে বিএনপির উপদেষ্টা ছিলেন এটা ঠিক। কিন্তু তিনি অনেক লোকজন নিয়ে অনুষ্ঠান করে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়।

কিন্তু ফিরোজ খানের এ পদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় অথবা জেলা আওয়ামী লীগের কোনো অনুমোদন নেই বলেও জানান তিনি।

নগরকান্দা উপজেলা মোটরচালক লীগের সভাপতি গুলজার খান জাগো নিউজকে বলেন, শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর নির্দেশেই কমিটি অনুমোদন হয়েছে। আমাকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। তবে মোটরচালক লীগের কমিটিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর লাগে না, এটা আমার জানা ছিল না। এটা জেলা কমিটিই ভালো বলতে পারবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলা মোটরচালক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, মাস দুয়েক আগে আমরা নগরকান্দা উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেই। অনুমোদিত প্যাডে জেলা সভাপতি, সম্পাদক ও আমার স্বাক্ষর রয়েছে। এরপর যদি কেউ ওই প্যাডে অনুমোদন দিয়ে থাকে সেটা আমার জানা নেই। তবে জেলা কমিটির বাইরে অন্য কারও অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ নেই।

ফিরোজ খানের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ফিরোজ খান বিএনপির লোক। তিনি কখনোই আওয়ামী লীগ করেননি। তবে তিনি বিভিন্ন স্থানে নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ ব্যবহার করেন বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আছে। ফিরোজ খান এ পদ নিয়ে মিথ্যাচার করছেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোদাররেস আলী ঈসা জাগো নিউজকে বলেন, কোনো থানায়ই বিএনপির কমিটি নেই। নগরকান্দায়ও নেই। ২০১২ সালে আমরা তাকে বহিষ্কার করেছি।

২০১৫ সালে নগরকান্দা বিএনপির কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে ফিরোজ খানের নাম ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই কমিটিতেও তিনি ছিলেন না। বিষয়টি তো কাগজ-কলমের নয়।

এন কে বি নয়ন/এসজে/জিকেএস