ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

নতুন ধারার নেতৃত্বে তারেক রহমান, প্রথম মাসেই স্পষ্ট বার্তা

খালিদ হোসেন | প্রকাশিত: ০৬:৩৬ পিএম, ১৮ মার্চ ২০২৬

রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি ছোট দৃশ্যই বড় বার্তা হয়ে ওঠে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—বরং নেতৃত্বের এক নতুন দর্শনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রটোকল কমানো, সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে যাওয়া, সাদামাটা শুভ্র পোশাক পরা, মন্ত্রী-এমপি ও কর্মকর্তাদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতির নির্দেশ—সব মিলিয়ে তার প্রথম মাস যেন একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে; ক্ষমতা মানুষের জন্য, দূরত্বের জন্য নয়।

রাজনীতি বিশ্লেষক এবং সমাজ বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপগুলো প্রশাসন ও রাজনীতিতে এক ধরনের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছে।

আরও পড়ুন
যানজটে আটকা নতুন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর, তবুও বন্ধ করা হয়নি কোনো সড়ক
১১ উপজেলায় ২২ হাজার কৃষক পাচ্ছেন ফার্মার্স কার্ড, পহেলা বৈশাখে উদ্বোধন
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ৫ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী
সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রটোকল কমানো: স্বস্তি নাকি ঝুঁকি?

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কমানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। তবে এ নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে।

নতুন ধারার নেতৃত্বে তারেক রহমান, প্রথম মাসেই স্পষ্ট বার্তারাজধানীর সড়কে যানজটে বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাকে কাছে পেয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন পথচারীরা, ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার রিকশাচালক সেলিম মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি ১০ বছর ঢাকায় রিকশা চালাই। সব সময় দেখেছি প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলে পুলিশ দুই-তিন ঘণ্টা আগে থেকেই রাস্তায় মানুষজনের চলাচল বন্ধ করে দিত। কিন্তু তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার যাতায়াতের পথে তিনি রাস্তা বন্ধ করেন না। মানুষজনের চলাচলে পুলিশ আগের মতো বাধা দেয় না, দুই-তিন ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় না। রাস্তা বন্ধ না হওয়া, সাধারণ মানুষের বাধাহীন চলাচলের বিষয়টি সবচেয়ে ভালো লাগছে।’

আরও পড়ুন
খাল খনন উদ্বোধনের পর কর্দমাক্ত অবস্থায় মঞ্চে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী
উত্তরাঞ্চল থেকে কৃষিভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রি গড়ার উদ্যোগ নিয়েছি
‘মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই তারেক রহমানের লক্ষ্য’
সংসদ হবে দেশের সব সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু: প্রধানমন্ত্রী

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান মোহন বলেন, ‘এটা আমি মোটেও সমীচীন মনে করি না। বিশ্বের সব রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য নিরাপত্তা সবার আগে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি মানুষের মাঝে না গিয়ে কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর মনে রাখা উচিত, বাংলাদেশের সবাই বন্ধু নয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জামায়াত তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তার বিরোধী শক্তি আছে।’

মহিউদ্দিন খান মোহন বলেন, বাংলাদেশে দুজন রাষ্ট্রপ্রধান—জিয়াউর রহমান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তাই এ ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। জিয়াউর রহমান নিরাপত্তার বিষয়ে অবহেলা করেছিলেন। তৎকালীন এনএসআই মহাপরিচালক এস. এ. হাকিমের সতর্কবার্তা গুরুত্ব দিলে হয়তো চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটত না। তবে মনে হচ্ছে নতুন কিছু শুরু হচ্ছে। পাঁচ বছরের মূল্যায়ন এক মাসে করা সম্ভব নয়। এখন সরকারের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ চলছে। ১৮০ দিন পার হলে প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে। তবে শুরুটা ভালো।

নতুন ধারার নেতৃত্বে তারেক রহমান, প্রথম মাসেই স্পষ্ট বার্তাইফতার মাহফিলে গত ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে সেলফি তোলে এতিম শিশুরা, ছবি: পিএমও কার্যালয়

সাদা পোশাকে রাজনৈতিক ইমেজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত সাদামাটা সাদা শার্ট পরে অফিস করেন। মাঝেমধ্যে কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচি থাকলেও সাদামাটা পাঞ্জাবি বা টি-শার্ট পরেন।

এ ব্যাপারে সিনে কারিগরের প্রতিষ্ঠাতা এবং স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক সাকিল সৈকত বলেন, চলচ্চিত্রে দৃশ্য নির্মাণে সিগনিফিকেন্ট হচ্ছে প্রতীকী উপস্থাপন। সিগনিফায়ার হচ্ছে রাজনৈতিক চরিত্র নিজেই। যেমন: ইন্দিরা গান্ধি বা বেনজির ভুট্টো কিংবা জিয়াউর রহমান বা তারেক রহমানের সিগনিফিকেন্ট হচ্ছে নির্দিষ্ট পোশাক বা চারপাশের পরিবেশ। পোশাক ও প্রটোকলের সরলীকরণ একজন নেতাকে ক্ষমতার দূরত্ব থেকে জনমানুষের কাছের মানুষে রূপান্তরিত করে। এটা শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

নতুন ধারার নেতৃত্বে তারেক রহমান, প্রথম মাসেই স্পষ্ট বার্তাগত ২৬ ফেব্রুয়ারি সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ছবি: সংগৃহীত

সচিবালয় থেকে জনতার পথে

সচিবালয় থেকে হেঁটে তারেক রহমানের ওসমানী উদ্যানে যাওয়া রাজনৈতিক ও প্রতীকী—দুই দিক থেকেই আলোচনায় এসেছে।

এ ব্যাপারে সাকিল সৈকত বলেন, হলিউডি বা বলিউডি ধারার অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রে ‘নায়ক’-এর প্রতিরূপ হিসেবে কল্পনা করতে পারি এই দৃশ্যকে। যেমন: হলিউডের টম ক্রুজ ‘মিশন ইমপসিবল’-এ অসম্ভবকে সম্ভব করেন। কিংবা বলিউডের নায়ক সিনেমায় সমাজের অসংগতি দূর করতে দারুণ পদক্ষেপ নিয়ে মানুষের প্রিয় হয়ে ওঠেন। নায়কের বীরোচিত উপস্থিতি দর্শক হৃদয়ে ঝড় তুলেন। তারেক রহমানের অকুতোভয় চাহনি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে সব ভয় উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় পদক্ষেপ দর্শক হৃদয়ে অনুরণন তুলে। এটি যেন চলচ্চিত্রের সেই ক্লাইম্যাক্স সিন যা দর্শক হৃদয়ে কাঁপন ধরায়।

আরও পড়ুন
নিজ দপ্তরে লাইট ও এসির মাত্রা কমালেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দুই কিডনিই বিকল নুসরাতের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ: এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ

‘ওসমানী উদ্যান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান। সচিবালয় হলো রাষ্ট্রযন্ত্রের অভ্যন্তর, আমলাতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার প্রতীক। সেখান থেকে হেঁটে উন্মুক্ত উদ্যানে আসা মানে ক্ষমতার ভেতর থেকে জনতার দিকে যাত্রা ও গণআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা।’ বলছিলেন সাকিল সৈকত।

নতুন ধারার নেতৃত্বে তারেক রহমান, প্রথম মাসেই স্পষ্ট বার্তা

প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও কর্মসংস্কৃতি

প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত অফিস করা, ছুটির দিনেও কাজ করা এবং প্রশাসনিক মনিটরিং—এসব উদ্যোগ প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তা জাগো নিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সব কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। সবচেয়ে প্রশংসিত হচ্ছে ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ এবং অবিরত কাজ করা। সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে যাওয়া, ছুটির দিনেও কাজ করা এবং সব দপ্তর মনিটরিং করা—এটি জনগণের দুর্ভোগ লাঘব ও উন্নয়নের জন্য দরকারি পদক্ষেপ। সব দপ্তর মনিটরিং, সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে যাওয়া, সব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন—জনগণের কাছে প্রশংসিত। প্রথমবার কোনো রাজনৈতিক দল এত দ্রুত নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও এমপিদের সচিবালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি ফাইল নিষ্পত্তির গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

নতুন ধারার নেতৃত্বে তারেক রহমান, প্রথম মাসেই স্পষ্ট বার্তাদিনাজপুরে কোদাল হাতে মাটি কেটে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ছবি: পিআইডি

ইতিহাসের পুনরুদ্ধার: খাল খনন কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় কোদাল হাতে মাটি কেটে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় তার পরনে ছিল ধূসর রঙের পোলো টি-শার্ট, নীল জিন্স প্যান্ট আর মাথায় লাল-সবুজ ক্যাপ।

এসময় সাহাপাড়া খালের অপর পাশে নারী-পুরুষের দল ডোলা ও কোদাল নিয়ে মাটি কাটতে শুরু করেন। সমাবেশস্থলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা মুহুর্মুহু করতালি দিতে থাকেন।

তারেক রহমানের মাটি কাটার মধ্য দিয়ে ৫৪ জেলায় খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন
চা বিক্রেতা নানি-নাতনির কাছে ঈদ উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী সবার কথা ধৈর্য ধরে শুনছেন, কাউকে কিছু চাপিয়ে দিচ্ছেন না
ডিসি মাসুদকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন, অপহরণের ১ ঘণ্টায় স্কুলছাত্র উদ্ধার
কথা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দিলেন ‘ফ্যামিলি কার্ড’

১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও সাদা গেঞ্জি, গ্যাবাডিনের প্যান্ট এবং মাথায় ক্যাপ পরে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছিলেন। তারই কর্মসূচির আলোকে তারেক রহমানের সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল‍্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি অংশগ্রহণ, খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা, এটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ।

নতুন ধারার নেতৃত্বে তারেক রহমান, প্রথম মাসেই স্পষ্ট বার্তাপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ মার্চ ঢাকার বনানীতে কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন, ছবি: পিআইডি

মানবিকতা ও জনসম্পৃক্ততা: নতুন রাজনৈতিক ধারা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত এক মাসে এক ঝাঁক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড; ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানি প্রদান; ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ; সব নির্বাচনি এলাকার অসহায় ও গরিবদের জন্য শাড়ি, থ্রিপিস ও হাজি রুমাল বরাদ্দ এবং সব পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য ঈদ উপহার। এছাড়া পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু হবে।

আরও পড়ুন
খাল খননে শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ততার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
পাঁচ বছরে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য
নারীর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

সমাজ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম মাসের পদক্ষেপগুলো সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি সরকারকে জন অংশগ্রহণমূলক করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের ইশতিহারে যা প্রকাশ করেছেন, তা দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে দৃশ্যমান। ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রক্রিয়ায় অনেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচিত হওয়ার পর ইশতিহার এড়িয়ে যেত। এবার ভিন্নতা লক্ষ্য করছি—বর্তমান সরকার যা বলেছে তা বাস্তবায়ন করছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ এবং বিশ্বাসের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।

নতুন ধারার নেতৃত্বে তারেক রহমান, প্রথম মাসেই স্পষ্ট বার্তাপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্ল‍্যাক বেঙ্গল ছাগল বিতরণ করেন, ছবি: পিআইডি

প্রথম মাসের বার্তা

বিএনপি সরকারের প্রথম মাসের ঘটনাগুলো শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়—বরং নতুন নেতৃত্বের রাজনৈতিক বার্তা। সরলতা, শৃঙ্খলা, জনসম্পৃক্ততা এবং মানবিক উদ্যোগের সমন্বয়ই বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সংস্কৃতির সূচনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন মঙ্গলবার তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মাত্র ২৮ দিনে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি মুহূর্তে তিনি (তারেক রহমান) নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট প্রতিফলন।’

কেএইচ/এমএমএআর

আরও পড়ুন