ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

সাতকানিয়ার সংসদ সদস্যকে জামায়াতের এমপি বললেন নদভী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:৪২ পিএম, ২১ মার্চ ২০২৪

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগড়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ মোতালেবকে জামায়াতের এমপি বলে সম্বোধন করেছেন আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

একই আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘নির্বাচনের পর থেকে সাতকানিয়া-লোহাগড়ায় জামায়াত তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। শিবির কয়েক হাজার মানুষ নিয়ে মিছিল করেছে। মনে হচ্ছে তারা এখান থেকে ইসলামি স্টেটের কাজ শুরু করেছে। তাহলে স্বতন্ত্র এমপি সাহেব সরকারের এমপি, না কি জামায়াতের এমপি আমি জানি না।’

বৃহস্পতিবার (২১মার্চ) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সাতকানিয়া-লোহাগড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনতি’, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর ‘হামলা-মামলা’র প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

নদভী বলেন, ‘৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর থেকে এখন সাতকানিয়া-লোহাগড়ায় নৌকা নাই, নৌকা নাই মানে আওয়ামী লীগ নাই। স্বতন্ত্র আছে, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, স্বতন্ত্রও নাই, জামায়াত আছে। এখন জামায়াতের এমন কোনো ক্যাডার নাই, যারা মাঠে নাই।’

তার দাবি, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী সাতকানিয়া-লোহাগড়ায় নিজের বাড়ি যেতে পারছেন না। এছাড়া গত দুই মাসে ছয়টি হত্যাকাণ্ডসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর প্রায় দুই মাসে ৬ মার্ডার হয়েছে। যেখানে আমার ১০ বছরে একজনও মার্ডার হয়নি। আমি এমপি হওয়ার আগে যে পরিস্থিতি ছিল, এখন তার চাইতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী উপজেলা নির্বাচন কেন্দ্র করে কি ঘটনা ঘটে আমি জানি না। এমন কোনো দিন নাই ডাকাতি হচ্ছে না, কেউ না কেউ আহত হচ্ছে।

এসব ঘটনার জন্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ডা. আ.ম.ম মিনহাজুর রহমান ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগড়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা এম এ মোতালেবকে দায়ী করেন আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

তিনি বলেন, ‘সাতকানিয়া-লোহাগড়ায় আজকের এই অরাজকতার মূল নায়ক হচ্ছেন একজন সন্ত্রাসী-গডফাদার। ২০১৪ সালে তিনি আমার সঙ্গে ছিলেন। একবার আমি একটি প্রকল্প উদ্বোধন করতে গেলে তার সাঙ্গপাঙ্গরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে সেখানে চলে এসেছিল, তাই আমি আর তাকে আমার কাছে ঘেষতে দেইনি।’

নদভী বলেন, ‘আমি এমপি হওয়ার পর কেরানীহাট এলাকার মুসলিম উদ্দিন ও ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের জমি দখলের চেষ্টা করে। এরপর থেকে তিনি আমার পেছনে আধাজল খেয়ে নামেন। মোক্ষম সুযোগ হিসেবে নেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাঁধে ভর করে নৌকাকে ডোবান।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ ইদ্রিসসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী প্রায় ৪৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেবের কাছে।

এএজেড/জেডএইচ/জেআইএম