ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. প্রবাস

মালয়েশিয়ায় মানবপাচারে জড়িত ১৯ বাংলাদেশি আটক

আহমাদুল কবির | মালয়েশিয়া | প্রকাশিত: ১০:১১ এএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বিদেশি নাগরিক পাচারের সঙ্গে জড়িত গ্যাং সোজুল নামের একটি পাচারকারী চক্রের সন্ধান পেয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ ঘটনায় মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) একজন স্থানীয় নাগরিক ও একজন বাংলাদেশি নারীসহ ১৯ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে। ঘটনাটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রোববার কুয়ালালামপুরের জালান কুচাই লামা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মানবপাচারে জড়িত ২০ বিদেশিকে আটক করা হয়। যারা আটক হয়েছেন তারা অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে তিনি জানান।

তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। এ সময় একটি সুপারমার্কেটের পার্কিং এলাকায় পাচারকৃত অভিবাসী বহনকারী একটি ফোর-হুইল ড্রাইভ যান ও একটি স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে ছয়জন বাংলাদেশি পুরুষ, একজন বাংলাদেশি নারী এবং একজন মিয়ানমারের পুরুষ নাগরিককে আটক করা হয়।

এরপর তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে কুচাই লামা এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালানো হয়। মানবপাচারকারী চক্র এই ভবনটিকে ট্রানজিট বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতো। পরে সেখানে আরও ১২ জন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা প্রতিবেশী দেশ থেকে সদ্য প্রবেশ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন রাজ্য ও ক্লাং ভ্যালিতে পাঠানোর অপেক্ষায় ছিলো। আটকদের বয়স ১৮ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে বলে জানান ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক।

মালয়েশিয়ায় মানবপাচারে জড়িত ১৯ বাংলাদেশি আটক

জানা গেছে, অভিযানকালে দুটি যানবাহন, একাধিক বাংলাদেশি পাসপোর্ট, নগদ ৮২ হাজার ১০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং ৩ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার জব্দ করা হয়। আটক ২০ জন বিদেশিকে পরবর্তী তদন্তের জন্য পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

জাকারিয়া শাবান আরো জানান, মামলাটি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭ (এটিপসোম), ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬-এর আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে সক্রিয় ছিল। তারা তৃতীয় দেশের রুট ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করাত এবং কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ঢুকিয়ে সরাসরি ক্লাং ভ্যালিতে নিয়ে আসত। সেখান থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো হতো।

চক্রটি জনপ্রতি ১২ হাজার রিঙ্গিত করে আদায় করত এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ রিঙ্গিত অবৈধ মুনাফা করেছে বলে ধারণা করছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক আরও বলেন, দেশের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত যে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

এমআরএম/এমএস