শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় জমজমাট নিউইয়র্কের ঈদ বাজার
ডাইভার্সিটি প্লাজা চত্বরে অস্থায়ী মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা-ছবি জাগো নিউজ
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় জমজমাট নিউইয়র্কের ঈদ বাজার। রকমারি পোশাকের বাহার নিয়ে সিটির বিভিন্ন স্থানে পোশাকের মেলা বসেছে। আর বাঙালি কমিউনিটির কাছে সুপরিচিত জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজার চত্বরে বসেছে পোশাক বেচাকেনার সবচেয়ে বড় অস্থায়ী মার্কেট।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতে বিভিন্ন পোশাক কেনাবেচার অস্থায়ী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নানান ধরনের বাহারি পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। পোশাকভেদে পোশাকের দাম চাইছেন তারা, ক্রেতারাও পছন্দের পোশাক কিনছেন নিজের সাধ্যের মধ্যে।
আরিফা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, আজ রোজার শেষ দিন, কাল ঈদ। তাই চাঁদরাতে কেনাকাটা করতে বের হলাম। শুধু কেনাকাটাই না, কমিউনিটির সবার সঙ্গে দেখা হয়—সেজন্যও বের হই এই সময়টায়।

বাংলাদেশ স্ট্রিটসহ আশেপাশের সব সড়কে ব্যাপক ভিড়
জ্যাকসন হাইটসের অস্থায়ী মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা শফিউল আলম জাগো নিউজকে বলেন, গত তিনদিন ধরে এখানে বেচাকেনার ব্যস্ততা অনেক বেশি। আজকে শেষ দিন হওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে। আমরা এই শেষ দিনটার অপেক্ষায় থাকি, যতটা সম্ভব স্টক থেকে পোশাক বিক্রি করার চেষ্টা করি। আমার কাছে ৪০ ডলার থেকে শুরু করে পাঁচশ ডলারের ড্রেসও আছে।
এদিকে বাংলাদেশ স্ট্রিটসহ আশেপাশের সব সড়কে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সড়কের নিরাপত্তায় নিউইয়র্ক পুলিশের বাড়তি সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। গাড়ির চাপ বাড়ায় সেখানকার যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। জ্যাকসন হাইটস ছাড়াও জ্যামাইকা, ব্রুকলিনসহ বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী পোশাকের বাজার বসেছে।
বাংলাদেশ স্ট্রিটে কেনাকাটা করতে আসা রিদা নাজমুল জাগো নিউজকে বলেন, বিদেশের মাটিতে ঈদ করতে ভালো লাগছে। বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনসহ সবাইকে নিয়ে ঈদ করছি—ভালো লাগছে। সবার জন্য কেনাকাটা করলাম। এই জায়গাটা বাংলাদেশের মতোই। এখানে পাঞ্জাবি, পাজামাসহ সবকিছুই পাওয়া যায়।

মেহেদির পসরা সাজিয়ে বসেছেন অনেকে
সুজন আহমেদ বলেন, আমরা জ্যাকসন হাইটসে এসেছি, এখানে ঈদের আনন্দমেলা চলছে। বাংলাদেশের কমিউনিটির সব মানুষ এখানে আসে। সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই, বেশ ভালো লাগে। সবাইকে ঈদ মোবারক।
ঈদকে কেন্দ্র করে তরুণীসহ নানান বয়সের মানুষের জন্য মেহেদির পসরা সাজিয়ে বসেছেন অনেকে। সেখানে নানান ধরনের বাহারি ডিজাইনে হাত রাঙিয়ে দিচ্ছেন তারা। ডিজাইন অনুযায়ী পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মেহেদি দিচ্ছেন দর্শনার্থীদের।
আইএইচআর/এসএইচএস