ভাগ্য বদলাতে গিয়ে রণক্ষেত্রে প্রবাসীরা, কাঁদছে পরিবার
এআই দিয়ে বানানো ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং পাল্টাপাল্টি হামলায় গভীর সংকটে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা প্রায় ৬০ লাখ প্রবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে দেশে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রণক্ষেত্রে প্রাণ গেলো দুই বাংলাদেশির
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে পৃথক হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন:
সালেহ আহমেদ: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা। গত শনিবার আরব আমিরাতের আজমানে ইফতার শেষে কাজ করার সময় বিস্ফোরণে তিনি নিহত হন।
মোহাম্মদ তারেক: চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দা। সোমবার রাতে বাহরাইনের একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে ডিউটিরত অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তিনি মারা যান।
আহত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রবাসীরা
কুয়েতে ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন চার বাংলাদেশি- আমিনুল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), রাবিউল ইসলাম (পাবনা), মাসুদুর রহমান (নোয়াখালী) ও দুলাল মিয়া (কুমিল্লা)। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে, ইরানে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসীর ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হবিগঞ্জের লুৎফুর রহমান ও রুমান মিয়ার মতো অনেকের সাথেই গত এক সপ্তাহ ধরে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। বিস্ফোরণ আর বোমা হামলার খবরের মধ্যে স্বজনদের ফোন বন্ধ পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দেশের পরিবারগুলো।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে চাপা আতঙ্ক
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের প্রবাসীরা জানিয়েছেন, সরাসরি যুদ্ধ না চললেও আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্রের আনাগোনা এবং ড্রোন হামলার ভয়ে তারা তটস্থ। আকাশসীমা আংশিক বন্ধ ও ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনেও অনেকে দেশে ফিরতে পারছেন না।
সরকারের অবস্থান ও উদ্যোগ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসগুলোকে প্রবাসীদের পাশে থাকার এবং স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়া মাত্রই নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এমআরএম/এমএস