ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. প্রবাস

সাইপ্রাসে যুদ্ধ আর বেকারত্বে দিশেহারা বাংলাদেশিরা

প্রবাস ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪:৫১ পিএম, ২১ মার্চ ২০২৬

মাহাফুজুল হক চৌধুরী

ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে এবারের ঈদুল ফিতরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেখানে উৎসবের আমেজ থাকার কথা, সেখানে বিরাজ করছে যুদ্ধ আতঙ্ক আর চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে দেশটিতে পাড়ি জমানো হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য এবারের ঈদ হয়ে দাঁড়িয়েছে এক তিক্ত অভিজ্ঞতার নাম।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সাইপ্রাস এখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কেন্দ্রে। ইরান থেকে মাত্র ১২০০ কিলোমিটার দূরত্বের এই দেশটিতে মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতি প্রবাসীদের মনে যুদ্ধের শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঘটনায় স্থানীয় সিপ্রিয়টদের পাশাপাশি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাংলাদেশিরাও। হামলার পর পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও থমথমে ভাব কাটেনি জনমনে।

গত এক-দুই বছরে প্রায় ২ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সাইপ্রাসে গিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় সেখানে কাজের বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সিপ্রিয়টরাই যেখানে কাজ পাচ্ছে না, সেখানে প্রবাসী শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। অনেকেরই খাবারের টাকা পর্যন্ত এখন দেশ থেকে আনতে হচ্ছে।

আক্ষেপ করে শিহাব শাহীন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘৮ মাস হলো আসছি। না পাইলাম জব, না পাইলাম শান্তি। পরিবার ছেড়ে এখানে এসে জীবন যেন থমকে গেছে।’

আরেক প্রবাসী রনি জানান, সারারাত ডিউটি শেষে অসুস্থ স্ত্রীর জন্য হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করাই এখন তার প্রবাস জীবন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো সাইপ্রাসে ঈদের কোনো সরকারি ছুটি বা বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নেই। শহরের বাইরে মসজিদের অভাবে আজান পর্যন্ত শোনা যায় না। কাজের চাপে অনেক প্রবাসী ১০ বছরেও একবার ঈদের নামাজ পড়তে পারেননি।

মিরাজ আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থী জানান, হাজার অনুরোধ সত্ত্বেও তার মালিক তাকে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেননি।

সাইপ্রাসের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ থেকে নতুন কাউকে শুধু টাকা আয়ের উদ্দেশ্যে সেখানে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন। স্থানীয় মিডিয়াতেও মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব নিয়ে কোনো প্রচার না থাকায় প্রবাসীরা নিজেদের চরম একা ও অবহেলিত বোধ করছেন।

সব মিলিয়ে যুদ্ধ আতঙ্ক, কর্মসংস্থান সংকট আর ধর্মীয় উৎসব পালনে বাধার কারণে সাইপ্রাসে প্রবাসীদের এবারের ঈদ যেন এক বিষাদময় অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।

এমআরএম/এমএস