ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. প্রবাস

যুক্তরাজ্যে অবৈধ প্রবাসী আটকে সাঁড়াশি অভিযান

এস ইসলাম | প্রকাশিত: ১০:৩৪ এএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে কাজ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অবৈধ কর্মসংস্থানবিরোধী অভিযানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

জুলাই ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালে দেশজুড়ে অভিযান বেড়েছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। ফলে গ্রেফতারের সংখ্যাও বেড়েছে ৮৩ শতাংশ। এই সময়ে মোট ১৭ হাজার ৪০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়, যেখানে গ্রেফতার করা হয়েছে ১২ হাজার ৩০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে।

অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল নেইল সেলুন, গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্র, নাপিতের দোকান, টেকঅ্যাওয়ে রেস্তোরাঁসহ এমন সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যেখানে অবৈধ শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এসব কার্যক্রম বৈধ শ্রমবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং অপরাধচক্রকে উৎসাহ দিচ্ছে।

গত বছর ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিভাগকে অতিরিক্ত ৫০ লাখ পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়ার ফলে অভিযান আরও জোরদার করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ অবৈধ অভিবাসন কমাতে এবং মানবপাচার চক্রের কার্যক্রম দুর্বল করতে সহায়ক হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, আমাদের সমাজে অবৈধভাবে কাজ করার কোনো স্থান নেই। আইন প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, যেন অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের জন্য যুক্তরাজ্যে কাজ করার সুযোগ না থাকে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে লন্ডনে সবচেয়ে বেশি অভিযান ও গ্রেফতার হয়েছে। শুধু রাজধানীতেই দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস ও সাউথ ওয়েস্ট অঞ্চলেও গ্রেফতারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের তল্লাশি চালানো হয়। গুদাম, নির্মাণস্থল ও বাজার এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আটক করে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে, অবৈধ কর্মসংস্থান ঠেকাতে নতুন আইন ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার। কর্মস্থলে পরিচয় যাচাই আরও কঠোর করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অবৈধ অভিবাসনের ‘ভুল আশ্বাস’ বন্ধ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

এমআরএম/এমএস