ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. প্রবাস

প্রতিহিংসা নয়, জনকল্যাণই হোক রাজনীতির মূলমন্ত্র

মোহাম্মদ মাহামুদুল | প্রকাশিত: ০৯:৪১ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বহু উত্থান-পতন, ত্যাগ ও সংগ্রামের সাক্ষী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনার পর শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করতে বাধ্য হন। সেই কঠিন সময় পেরিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বীরউত্তম শহীদ জিয়াউর রহমানের সময় দেশে ফিরে রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি হয়—যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহনশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে অনেকেই উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন। তার দেশে ফিরে রাজনীতি করা, বক্তব্য প্রচার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা বিতর্ক ও সীমাবদ্ধতার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

গণতন্ত্রের মূলভিত্তি হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার এবং পারস্পরিক সহনশীলতা। ক্ষমতা কখনো চিরস্থায়ী নয়—এটি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। আজ যারা ক্ষমতায়, কাল তারা বিরোধী দলে থাকতে পারে। তাই প্রতিটি রাজনৈতিক দলের উচিত ক্ষমতায় থাকাকালে উদারতা, সহনশীলতা এবং ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় দেওয়া।

রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, প্রতিহিংসা নয়। প্রতিহিংসার রাজনীতি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। দেশের মানুষ সবসময় একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে ভিন্নমতকে সম্মান করা হবে এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনও ছিল জনগণের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি কোনো একক ব্যক্তি বা দলের আন্দোলন ছিল না; বরং এটি ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার, আশা ও আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ সময় রাজপথে থাকা মানুষদের অবদান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকবে।

আজ সময় এসেছে অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার। ক্ষমতায় থাকা বা না থাকা—উভয় অবস্থাতেই রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হলো দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া, জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সহনশীল, দায়িত্বশীল এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর। আমরা আশা করি, বর্তমান ও ভবিষ্যতের নেতৃত্ব প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কারণ ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু ন্যায়, সততা এবং জনগণের ভালোবাসা চিরস্থায়ী হয়ে থাকে।

এমআরএম