কায়রোয় ব্যাট-বলের লড়াই, চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স
ছবি-সংগৃহীত
বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিশর-যেখানে ফুটবলই মূলত জনপ্রিয় খেলা, সেই দেশেই ক্রিকেটকে ঘিরে এক ভিন্নধর্মী আয়োজনের সাক্ষী হলো দেশটিতে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিখ্যাত আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ স্টুডেন্টস প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬ (বিএসপিএল)।
ফুটবল কিংবদন্তি মোহাম্মদ সালাহর দেশের সাধারণ মানুষের কাছে তুলনামূলক অপরিচিত ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে এই টুর্নামেন্টটি পরিণত হয় প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া আসরে। শুধু বাংলাদেশই নয়, এতে অংশ নেয় ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপালের শিক্ষার্থীরাও—যা পুরো আয়োজনকে দেয় আন্তর্জাতিক মাত্রা।
আটটি দলের অংশগ্রহণে জমজমাট এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয় শক্তিশালী দুই দল—কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও চিটাগং কিংস। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে চিটাগং কিংসকে ২৪ রানে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে নেওয়াজ শরীফের নেতৃত্বাধীন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

ফাইনালে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১২ ওভারে ১৬১ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন বাংলাদেশি খেলোয়াড় রোহান রিজভী। এছাড়া মাত্র ১৫ বলে ঝড়ো ৫১ রান করে ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেন আরেক বাংলাদেশি খেলোয়াড় মুহাম্মাদ মুস্তফা, যা দলের জয়ের ভিত মজবুত করে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে চিটাগং কিংসের অধিনায়ক পাকিস্তানি খেলোয়াড় বাশির আরিফ এবং ভারতীয় খেলোয়াড় মুহাম্মাদ ইশরাকের দুর্দান্ত ইনিংসে জয়ের আশা জাগলেও মধ্যক্রমের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে হয় দলটিকে।
পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ১৩২ রান ও ৮ উইকেট নিয়ে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন পাকিস্তানের মুহাম্মদ রিজওয়ান।

ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন মিশর ক্রিকেট কমিউনিটির অতিথি এবং মদিনাতুল বু’উস ইসলামিয়ার নেতা। খেলা শেষে সেরা খেলোয়াড়দের মাঝে ট্রফি বিতরণ করা হয় এবং ফাইনালিস্ট দুই দলের সব খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় স্মারক মেডেল।
এই আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা, যাদের প্রচেষ্টায় বিদেশের মাটিতে ক্রিকেটের এমন প্রাণবন্ত আসর সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
প্রবাসের মাটিতে এমন উদ্যোগ শুধু বিনোদনই নয়, বরং ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঐক্য ও নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
এমআরএম