ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ধর্ম

আলহামদুলিল্লাহ অর্থ কী ও কখন বলবেন?

ইসলাম ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৭:৫১ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

‘আলহামদুলিল্লাহ’ অর্থ হলো সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহর তাআলার যে কোনো নেয়ামত বা অনুগ্রহ লাভ করলে, ভালো কোনো ঘটনা ঘটলে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও শোকর আদায় করি। এছাড়া আল্লাহ তাআলার যে অগণিত নেয়ামত আমরা প্রতিনিয়ত ভোগ করছি তার স্মরণ করেও বারবার বলি ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

‘আলহামদুলিল্লাহ’ কখন বলবেন?

  • আল্লাহ তাআলার যে কোনো নেয়ামত বা অনুগ্রহ লাভ করলে বলুন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।
  • কোনো সুখবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে বলুন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।
  • দুঃখ বা বিপদের সময় ধৈর্য ধরে আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট হয়ে বলুন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।
  • খাবার ও পানীয় গ্রহণ শেষে বলুন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।
  • অসুস্থতা থেকে সুস্থ হলে বলুন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।
  • কোনো বিপদ থেকে রক্ষা পেলে বলুন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।
  • যে কোনো ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করলে বলুন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।
  • যে কোনো ইবাদত বা নেক আমল করতে পারলে বলুন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।
  • প্রতি ওয়াক্তের ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার বলুন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।
  • কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াও আল্লাহর শোকর আদায়ের জন্য দিনের যে কোনো সময় বারবার বলুন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

আল্লাহর প্রিয় জিকির ‘আলহামদুলিল্লাহ’

‘আলহামদুলিল্লাহ’ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিকিরগুলোর অন্যতম। সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় জিকির চারটি; সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার। এগুলোর যে কোনোটি দিয়ে তুমি শুরু করতে পারো। (সহিহ মুসলিম: ৫৪১৬)

আরেকটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার পাঠ করা আমার কাছে ইহজগতের সব কিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়। (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৫)

বিশেষভাবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’র মাহাত্ম্য বর্ণনা করে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহর মাহাত্ম্য বর্ণনা ও প্রশংসার জন্য ‘আলহামদুলিল্লাহ'র চেয়ে উত্তম বাক্য আর নেই। (সুনানে তিরমিজি)

আরেকটি হাদিসে ‘আলহামদুলিল্লাহ’কে সবচেয়ে উত্তম দোয়া বলা হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেন, সর্বোত্তম ফজিলতপূর্ণ বাক্য `লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং সর্বোত্তম দোয়া `আলহামদুলিল্লাহ'। (সুনানে তিরমিজি)

নবীজি (সা.) আরও বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ আমলের পাল্লা পূর্ণ করে দেয়। আর ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ আসমান ও জমিনের খালি জায়গা সওয়াব দিয়ে পূর্ণ করে দেয়। (সহিহ মুসলিম)

একবার কয়েকজন দরিদ্র সাহাবি নবীজিকে গিয়ে বলেন, সম্পদশালী সাহাবিরা দান-সদকার মাধ্যমে নেক কাজে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের তো দান-সদকা করার মতো সামর্থ্য নেই। তখন নবীজি (সা.) তাদেরকে প্রতি নামাজের পর ‘সুবাহানাল্লাহ’ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ পাঠ করার পরামর্শ দেন।

আবু জর বলেন, নবীজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলা হলো, হে আল্লাহ্‌র রাসুল! বিত্তবান লোকেরা সওয়াবের ক্ষেত্রে আমাদের থেকে এগিয়ে গেছে। আমরা যা বলি, তারাও তা বলে এবং তারা ধন-সম্পদ ব্যয় করে, কিন্তু আমরা তা পারি না। নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমি আপনাদের এমন আমল বলে দিচ্ছি, যা করলে আপনারা আপনাদের অগ্রবর্তীদের ধরতে পারবেন এবং আপনারা যাদের অগ্রবর্তী তারা আপনাদের অতিক্রম করতে পারবে না। প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর `আলহামদুল্লিাহ', `সুবহানাল্লাহ' এবং `আল্লাহু আকবার' ৩৩ বার, ৩৩বার এবং ৩৪ বার পাঠ করুন। (সুনানে ইবনে মাজা: ৯২৭)

ওএফএফ

আরও পড়ুন