ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ধর্ম

তাওয়াক্কুল অর্থ কী?

ইসলাম ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪:৩৯ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আরবি শব্দ ‘তাওয়াক্কুল’ অর্থ ভরসা করা বা নির্ভর করা। তাওয়াক্কুল আলাল্লাহ অর্থ হলো আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা ও আস্থা রাখা। তাওয়াক্কুল আলাল্লাহ অর্থ আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা ও আস্থা রাখা। ইসলামের পরিভাষায় তাওয়াক্কুল বলে তাওয়াক্কুল আলাল্লাহ বা আল্লাহর ওপর ভরসাই বোঝানো হয়ে থাকে।

কোরআনের আয়াতে তাওয়াক্কুল

কোরআনের বেশ কিছু আয়াতে আল্লাহ তাআলা তার ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাওয়াক্কুলকে মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এখানে এ রকম কিছু আয়াত উল্লেখ করছি।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

যদি আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করেন তবে তোমাদের ওপর বিজয়ী কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমাদেরকে লাঞ্ছিত করেন তবে কে এমন আছে যে, তোমাদেরকে এর পরে সাহায্য করবে? আর আল্লাহর উপরই যেন মুমিনগণ তাওয়াক্কুল করে। (সুরা আলে ইমরান: ১৬০)

আর মুসা বলল, হে আমার কওম, তোমরা যদি আল্লাহর প্রতি ইমান এনে থাক, তবে তাঁরই ওপর তাওয়াক্কুল কর, যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাক। (সুরা  ইউনুস: ৮৪)

আসমানসমূহ ও জমিনের গায়েব আল্লাহরই এবং তাঁরই কাছে সব বিষয় প্রত্যাবর্তিত হবে। সুতরাং তুমি তাঁর ইবাদাত কর এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল কর। আর তোমরা যা কিছু কর সে ব্যাপারে তোমার রব গাফেল নন। (সুরা  হুদ: ১২৩)

তাদেরকে তাদের রাসুলগণ বলল, আমরা তো তোমাদের মতই মানুষ, কিন্তু আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তোমাদের কাছে প্রমাণ নিয়ে আসার সাধ্য আমাদের নেই। শুধু আল্লাহর ওপরই মুমিনদের তাওয়াক্কুল করা উচিত। (সুরা  ইবরাহিম: ১১)

নিশ্চয় যারা ইমান এনেছে এবং তাদের রবের ওপর তাওয়াক্কুল করেছে, তাদের ওপর শয়তানের কোনো ক্ষমতা নেই। (সুরা নাহল: ৯৯)

আর তুমি কাফের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করো না এবং তাদের নির্যাতন উপেক্ষা কর আর আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল কর; তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। (সুরা আহজাব: ৪৮)

যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য মুক্তির পথ তৈরি করে দেন। আর তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন; যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করে; আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। (সুরা তালাক: ২-৩)

মহানবীর (সা.) হাদিসে তাওয়াক্কুল

তাওয়াক্কুলের ফজিলত ও গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে মহানবীর (সা.) বিভিন্ন হাদিসেও। এখানে আমরা এ রকম কিছু হাদিস উল্লেখ করছি।

আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন ইবরাহিমকে (আ.) আগুনে নিক্ষেপ করা হয়, তখন তিনি বলেছিলেন, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্ম বিধায়ক। (সহিহ বুখারি: ৭৬)

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসুলকে (সা.) বলতে শুনেছি, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি যথাযথভাবে ভরসা করতে, তাহলে তিনি তোমাদেরকে পাখিদের মত রিজিক দান করতেন। তারা ভোরে খালি পেটে বের হয়ে যায় এবং দিনের শেষে ভরা পেটে ফিরে আসে। (সুনানে তিরমিজি)

আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা যখন গর্তে আশ্রয় নিলাম। তখন আমি নবীজিকে (সা.) বললাম, যদি কাফেররা তাদের পায়ের দিকে তাকায়, তাহলে আমাদের দেখে ফেলবে। তিনি বললেন, হে আবু বকর! আপনি কি মনে করেন, আমরা দুজন? আল্লাহ আমাদের তৃতীয়জন হিসেবে রয়েছেন। (সহিহ বুখারী: ৩৬৫৩)

ইবনে আববাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের ৭০ হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। আর এসব লোক তারাই যারা ঝাঁড়ফুঁক করে না। অশুভ লক্ষণ বা কুসংস্কারে বিশ্বাস করে না, যারা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে। (সহিহ বুখারি: ৫২৯৫)

ওএফএফ

আরও পড়ুন