ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ধর্ম

অজু ভঙ্গের ১০ কারণ

ইসলাম ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:২০ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অজুর পরিচয়

ইসলামে অজু কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের একটি পন্থা। নামাজ, তাওয়াফ, কোরআন স্পর্শ করার জন্য অজু অবস্থায় থাকা বাধ্যতামূলক। কোরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজের জন্য অজু করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাজের জন্য উঠবে, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসাহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত পা (ধৌত কর)। (সুরা মায়েদা: ৬)

জিকির, তিলাওয়াতসহ অনেক আমল অজু ছাড়াও করা যায়, কিন্তু অজু অবস্থায় করলে সওয়াব বেড়ে যায়। কোনো আমলের উদ্দেশ্য ছাড়াও অজু করা, অজু অবস্থায় থাকা সওয়াবের কাজ। বিভিন্ন হাদিসে অজু অবস্থায় ঘুমানোরও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

অজু ভঙ্গের কারণ

অজু ভঙ্গের প্রধান কারণগুলো এই:

  • ১. পেশাব ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে পেশাব, পায়খানা, বাতাস, কৃমি ইত্যাদিসহ যে কোনো কিছু বের হলে অজু ভেঙে যায়।
  • ২. শরীরে যে কোনো জায়গা থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে গড়িয়ে পড়লে অজু ভেঙে যায়।
  • ৩. খাবার, পানি, রক্ত বা পিতের পানি মুখ ভরে বমি হলে অজু ভেঙে যাবে। অল্প অল্প করে কয়েক বার যদি বমি হয় এবং সবগুলোর মিলিত পরিমাণ যদি মুখ ভরে বমির সমান হয়, তাহলেও অজু ভেঙে যায়।
  • ৪. দাঁত বা মাড়ি থেকে অল্প রক্ত বের হলে অজু ভাঙবে না। কিন্তু যদি বেশি রক্ত বের হয়, থুথু ফেললে যদি দেখা যায় থুথুর চেয়ে রক্তের পরিমাণ বেশি, তাহলে অজু ভেঙে যায়।
  • ৫. যৌনাঙ্গ থেকে কামরস (যৌন উত্তেজনার সময় বীর্য বের হওয়ার আগে সাধারণত যা নির্গত হয়) বের হলে অজু ভেঙে যায়।
  • ৬. নারীদের যৌনাঙ্গ থেকে ইস্তেহাজার রক্ত বের হলে অজু ভেঙে যায়। (হায়েজ-নেফাস ছাড়া কোনো অসুস্থতার কারণে নারীদের যৌনাঙ্গ থেকে রক্ত বের হলে তাকে ইস্তেহাজা বলা হয়।)
  • ৭. নারীদের স্তন থেকে দুধ ছাড়া অন্য কিছু যেমন রক্ত, পুঁজ বা শরীরের রস বের হলে অজু ভেঙে যায়।
  • ৮. নারীরা নিজেদের যৌনাঙ্গে আঙুল প্রবেশ করালে অজু ভেঙে যায়।
  • ৯. পেছনের রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হতে পারে এমনভাবে ঘুমালে, কিছুক্ষণ বেহুশ থাকলে বা উন্মাদ থাকলে অজু ভেঙে যায়।
  • ১০. নামাজের মধ্যে অট্টহাসি হাসলে অজু ভেঙে যায়।

এগুলো অজু ভঙ্গের কারণ নয়

অনেকে অজু ভঙ্গের কারণ মনে করলেও হানাফি মাজহাব অনুযায়ী এগুলো অজু ভঙ্গের কারণ নয়:

  • ১. শরীরের কোনো ক্ষতস্থান থেকে অল্প (গড়িয়ে পড়ে না এ রকম) রক্ত বা পুঁজ বের হলে অজু ভাঙে না।
  • ২. এক/দুইবার অল্প পরিমাণ বমি হলে (মুখ ভরে নয়) অজু ভাঙে না। তবে অল্প অল্প করে কয়েক বার যদি বমি হয় এবং সবগুলোর মিলিত পরিমাণ যদি মুখ ভরে বমির সমান হয়, তাহলে অজু ভেঙে যায়।
  • ৩. পেছনের রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হবে না এমন অবস্থায় ঘুমালে অজু ভাঙে না। যেমন কেউ যদি বাসের সিটে বা চেয়ারে বসে হেলান দিয়ে ঘুময়, তাহলে অজু ভাঙে না।
  • ৪. স্বামী স্ত্রীর বা স্ত্রী স্বামীর শরীর স্পর্শ করলে বা চুমু খেলে অজু ভাঙে না যদি কামরস (যৌন উত্তেজনার সময় বীর্য বের হওয়ার আগে সাধারণত যা নির্গত হয়) বের না হয়।
  • ৫. যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলে অজু ভাঙে না যদি বীর্য বা কামরস বের না হয়।
  • ৬. চুল, দাড়ি-গোঁফ, শরীরের যে কোনো জায়গার লোম বা নখ কাটলে অজু ভাঙে না।

ওএফএফ

আরও পড়ুন