রমজানের আত্মিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে
রমজানের প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে ছবি: ফ্রিপিক
আল্লাহর রাসুল (সা.) শাবান মাস থেকেই রমজানের জন্য প্রস্তুত হতেন। তিনি শাবান মাসে অন্য মাসগুলোর তুলনায় বেশি রোজা রাখতেন, বেশি নফল ইবাদত করতেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কায়স (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে অন্যান্য মাসের তুলনায় শাবান মাসে নফল রোজা রাখা বেশি পছন্দনীয় ছিল। (সুনানে আবু দাউদ: ২১০১)
আয়েশা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসে প্রতিদিন রোজা রাখতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে বেশি নফল রোজা আর কোনো মাসে রাখতে দেখিনি। (সহিহ বুখারি: ১৯৬৯)
আমাদেরও কর্তব্য রমজান আসার আগেই রমজানের রোজা ও ইবাদতের জন্য আত্মিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া। বেশি বেশি নামাজ পড়া, নফল রোজা রাখা। ছোট বড় জানা অজানা সব পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। গত রমজানে সফর, অসুস্থতা বা অন্য কোনো ওজরের কারণে ছুটে যাওয়া রোজা এখনও কাজা করা না হয়ে থাকলে এ রমজান শুরু হওয়ার আগেই কাজা রোজাগুলো রেখে ফেলা উচিত।
পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত কোনো সমস্যার কারণে যদি রমজানের রোজায় ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা থাকে এবং আগে থেকে প্রস্তুতি নিলে সেটা এড়ানো সম্ভব হয়, তাহলে সেই চেষ্টাও করা উচিত। রমজানে যেন বিনা বাধায় আল্লাহর ইবাদত করা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন:
রোজার নিয়ত, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
ইফতারের দোয়া, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
এখানে আমরা রমজানের আত্মিক ও শারীরিক প্রস্তুতির জন্য কিছু পরামর্শ তুলে ধরছি:
রমজানের আত্মিক-মানসিক প্রস্তুতি
১. নিয়ত ও আত্মশুদ্ধির মানসিকতা
রমজান কেবল না খেয়ে থাকার নাম নয়; এটি আত্মসংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস। তাই নিজের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের পরিকল্পনা করুন। গুনাহ থেকে বাঁচার দৃঢ় সংকল্প করুন।
২. ইবাদতের রুটিন গড়ে তুলুন
রমজানের আগে থেকেই নফল নামাজ আদায় শুরু করুন। প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াতের সময় নির্ধারণ করুন। জিকির ও দোয়ার অভ্যাস বাড়ান। তাহলে রমজানে হঠাৎ চাপ অনুভব হবে না।
৩. ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলুন
রোজার সময় ক্ষুধা ও ক্লান্তি আসতেই পারে। ধৈর্য ধারণের অনুশীলন করুন। রাগ নিয়ন্ত্রণ ও সহনশীল আচরণে অভ্যস্ত হন। এগুলো রমজানের মূল শিক্ষার অংশ।
রমজানের শারীরিক প্রস্তুতি
১. খাদ্যাভ্যাসে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনুন
রমজানের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই খাবারের রুটিনে পরিবর্তন আনা উচিত। ভারী ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার কমিয়ে হালকা ও সুষম খাবার গ্রহণের অভ্যাস করুন। দিনে একবার বেশি খাবার খাওয়ার বদলে নির্দিষ্ট বিরতিতে অল্প অল্প করে খান।
২. পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার জন্য শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি সঞ্চয় জরুরি। আঁশযুক্ত খাবার, ফলমূল, শাকসবজি ও চর্বিহীন প্রোটিন গ্রহণ করুন। বাদাম, বীজ জাতীয় খাবার দীর্ঘস্থায়ী শক্তি দেয়। অতিরিক্ত চিনি, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। এতে শরীর রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ডিহাইড্রেশন এড়াতে আগে থেকেই পানি পানের অভ্যাস বাড়ান। প্রতিদিন অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করুন। ডাবের পানি, তাজা ফলের রস, তরমুজের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল খেতে পারেন। শরীরে পর্যাপ্ত পানি থাকলে রোজার সময় মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও দুর্বলতা কম হবে।
৪. ঘুমের রুটিন ঠিক করুন
রমজানে সাহরি ও ইফতারের কারণে ঘুমের সময় বদলে যায়। আগে থেকেই একটু আগে ঘুমাতে যাওয়া ও ভোরে ওঠার অভ্যাস করুন। পর্যাপ্ত ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও মানসিক স্থিতি বজায় রাখে। অপর্যাপ্ত ঘুম রোজার সময় ক্লান্তি ও দুর্বলতার কারণ হতে পারে।
৫. ক্যাফেইন ও চিনি কমান
হঠাৎ করে কফি বা চা বন্ধ করলে মাথাব্যথা হতে পারে। তাই—ধীরে ধীরে ক্যাফেইন গ্রহণ কমান। চিনিযুক্ত খাবার কমিয়ে প্রাকৃতিক খাবারের দিকে ঝুঁকুন। এতে শরীর রোজার প্রথম দিনগুলোতে ধাক্কা খাবে না।
৬. হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস করুন
রমজানের আগে থেকে হালকা হাঁটা বা স্ট্রেচিং করলে শরীর সক্রিয় থাকে। অতিরিক্ত ব্যায়াম নয়, বরং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম শরীরের সহনশীলতা বাড়ায়।
অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য পরামর্শ
যাদের গ্যাসটিক বা আলসারের সমস্যা আছে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ সেবন করুন যেন সমস্যা কমে আসে, রোজা রাখতে কষ্ট না হয়।
ডায়বেটিসের সমস্যা থাকলে রমজানের আগে থেকেই খাবার দাবারের ব্যাপারে সাবধান হোন। ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট থাকুন। দিনের বেলা ওষুধ খাওয়ার রুটিন থেকে থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রমজানের আগে থেকেই ঔষধ খাওয়ার রুটিন পরিবর্তন করুন।
ওএফএফ