ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. বিশেষ প্রতিবেদন

চার লাখ মানুষের স্বপ্ন একটি সেতু

প্রকাশিত: ০৪:৩৪ এএম, ২০ মে ২০১৬

বরগুনা শহরের প্রাণকেন্দ্র খাগদন নদীর উপর ব্যস্ততম সেতুটি স্থানীয়ভাবে লাকুরতলা ব্রিজ নামেই পরিচিত। এই সেতুটি পার হয়ে তিনটি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের প্রায় চার লাখ অধিবাসীর জেলা শহরে প্রবেশ করতে হয়। প্রতিদিন গড়ে দশ হাজারেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী এই সেতুপিার হয়ে শহরের স্কুল কলেজগুলোতে যাতায়াত করে থাকে।

জানা গেছে, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটিকে গত এক যুগ আগেই ঝুকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমান অবস্থা এতটাই নড়বড়ে যে, যখন তখন ভেঙে পড়ে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। তাই সেতুর ওজন কমানোর জন্য এর উপরের পাকা অংশ ভেঙে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। ভাঙাচোরা, আঁকাবাঁকা কয়েকটি লোহার পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। রিকশা-মোটরসাইকেল তো দূরের কথা, মানুষ হেঁটে গেলেও কাঁপছে সেতুটি। যে কোনো মুহূর্তে সেতুটি ধসে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও ব্যস্ততম এই সেতুটি নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

Barguna

এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও বাধ্য হয়ে স্কুল-কলেজ, অফিস আদালত ও দোকানপাটের কাজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনে এ সেতুটি পার হয়েই যোগাযোগ করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের।

বরগুনার সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আ. রব ফকীর জানান, বরগুনা সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নসহ বামনা ও বেতাগী উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় চার লাখ অধিবাসী এই সেতু পার হয়ে জেলা শহরে যাতায়াত করে থাকে।

লাকুরতলা এলাকার অধিবাসী ওহিদুজ্জামান কাবুল বলেন, সেতুটির নিচের পিলারগুলো এতোই দূর্বল যে মূল সেতুর মাঝখানের অংশটি অনেকখানি দেবে গেছে।  তিনি আরও বলেন, এখন দুর্যোগ মৌসুম। বাড়ছে জোয়ারের পানির চাপও। তাই যে কোনো মুহূর্তে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

গৌরিচন্না ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রায় সব সময়ই সেতুটির উপরে অর্ধশত লোক যাতায়াত করতে থাকে। তাই সেতুটি কোনোভাবে ভেঙে পড়লে এক সঙ্গে অনেক মানুষের প্রাণ সংহার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সেতুটি দু’বার সংস্কার করা হয়েছিল তবে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ চলাচলের কারণে তা দু’দিনেই আবার ভেঙে যায়। জনগুরুত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেতুটি পাকা করে নির্মাণ করা জরুরি।

Barguna

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে বরগুনা শহরের কাঁচাবাজার এলাকায় ৩০ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৭৩ দশমিক ১৭ মিটার দৈর্ঘ্য বরগুনা-লাকুরতলা সেতুটি নির্মাণ করে বরগুনার এলজিইডি। নির্মাণের পর ২০ বছর পার হলেও জেলার সর্বোচ্চ জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি সংস্কারে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে এলজিইডি বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেতুটির ব্যস্ততা বেড়েছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লোড হওয়ায় সেতুটি দ্রুতই ভেঙে যাচ্ছে। সেতুটি নিয়ে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সেতুটির নিচ দিয়ে যাতে লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌ-বাহন চলতে পারে সেজন্য সেতুটিকে অনেক উঁচু করে তৈরির পরামর্শ দিয়েছে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

এসএস/পিআর

আরও পড়ুন