বিফলে কোহলির ৫৪তম সেঞ্চুরি
ভারতের মাটিতে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ জিতলো নিউজিল্যান্ড
সিরিজ জয় করে নেওয়া নিউজিল্যান্ড দলের উচ্ছ্বাস/ছবি: সংগৃহীত
ভারত সফরে ইতিহাস গড়লো নিউজিল্যান্ড। এক বছর আগে এই দেশেই প্রথমবার টেস্ট সিরিজ জয়ের পর এবার ভারতের মাটিতে নিজেদের প্রথম ওয়ানডে সিরিজও জিতে নিলো কিউইরা। ইনজুরিতে বিধ্বস্ত দল নিয়ে সফরে এসে প্রথম ম্যাচ হেরেও দারুণ প্রত্যাবর্তনে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় তারা।
ইন্দোরে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে সফরকারীরা প্রথমে ব্যাট করে ৩৩৮ রানের বড় লক্ষ্য দাঁড় করায় ভারতের সামনে। জবাব দিতে নেমে বিরাট কোহলির দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের বোলারদের সামনে ২৯৬ রানে থেমে যায় ভারত। যার ফলে ৪১ রানে পরাজয় মানতে হয় স্বাগতিকদের। এই হারে ভারতের ঘরের মাঠে টস জিতে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ভেঙে গেলো। অন্যদিকে ভারতের মাটিতে এই প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জিতলো কিউইরা।
ব্যাট হাতে নিউজিল্যান্ডের নায়ক ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস। সিরিজে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন মিচেল- এটি ভারতের বিপক্ষে তার চতুর্থ এবং ভারতের মাটিতেই চতুর্থ সেঞ্চুরি। অন্যদিকে ৮৮ বলে ১০৬ রান করে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্লেন ফিলিপস। ৫৮ রানে তৃতীয় উইকেটের পতনের পর চতুর্থ উইকেটে ২১৯ রানের বিশাল জুটি গড়ে ভারতের বোলিং আক্রমণ পুরোপুরি ভেঙে দেন এ দু’জন।
এই জুটির সুবাদেই নিউজিল্যান্ড ৩৩৭ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ভারত। ৭১ রানে চার উইকেট হারিয়ে বসে তারা। দলের সঙ্গে ছিলেন না হার্দিক পান্ডিয়া ও অক্ষর প্যাটেল, আর ছয় নম্বরের পর ব্যাটিং গভীরতা নিয়েও ছিল সংশয়।
তবু আশা জাগিয়ে রাখেন বিরাট কোহলি। ওয়ানডেতে নিজের ৫৪তম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন তিনি। কোহলির সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৯৯ রানের জুটি গড়েন হর্ষিত রানা। এরপর দারুণ ব্যাটিং করেন নিতিশ কুমার রেড্ডি। যেখানে দু‘জনই করেন নিজেদের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি।

কোহলির ইনিংসটি ছিল তিন ধাপে বিভক্ত। শুরুতে আগ্রাসী ব্যাটিং- প্রথম ২৪ বলেই চারটি চার ও একটি ছক্কা। এরপর উইকেট পড়তে থাকায় আসে ধীরস্থির পুনর্গঠনের পর্ব- ৫২ বলে মাত্র একটি বাউন্ডারি। শেষদিকে প্রয়োজনীয় রানরেট বেড়ে গেলে ফের আক্রমণে যান কোহলি। ৭৪ থেকে ১০০- মাত্র ১৫ বলেই পূর্ণ করেন শতক।
তবে শেষ পর্যন্ত চাপ সামলাতে পারেননি। হর্ষিত রানার বিদায়ের পর সব দায়িত্ব এসে পড়ে কোহলির কাঁধে। ২৭ বলে ৪৬ রান দরকার থাকতেই নবম ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি। ওয়ানডেতে রান তাড়ায় ২৯টি সেঞ্চুরির মধ্যে মাত্র পঞ্চমবার ব্যর্থ হন কোহলি।
বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ভিন্ন সময়ে ভিন্ন বোলাররা অবদান রাখেন। কাইল জেমিসন নতুন বলে সুইং ও সিমে ভুগিয়ে তুলে নেন শুভমান গিলের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা স্পিনার জাইডেন লেনক্স ১০ ওভারে ৪২ রান দিয়ে নেন দুই উইকেট। ফিলিপসও অধিনায়ক মাইকেল ব্রেসওয়েলের অনুপস্থিতিতে আট ওভার সাশ্রয়ী বোলিং করেন।
ভারতের স্পিনার কুলদীপ যাদব ও রবীন্দ্র জাদেজা ছিলেন ব্যয়বহুল- ছয় ওভার করে বোলিং করে দেন মোট ৮৯ রান। আবারও স্পিন বিভাগে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকলো নিউজিল্যান্ড।
শেষদিকে ভারতের পক্ষে মোহাম্মদ সিরাজ দারুণ বোলিং করেন। ১০ ওভারে মাত্র ৪৩ রান দিলেও উইকেট পাননি। আর্শদীপ সিং ও হর্ষিত রানা তিনটি করে উইকেট নিলেও রানের লাগাম টানতে পারেননি।
ইন্দোরের হলকার স্টেডিয়ামের ইতিহাস বিবেচনায় ৩৩৭ রান তাড়া করার মতো স্কোরই ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোহলির সর্বোচ্চ চেষ্টাও ভারতের সিরিজ হার এড়াতে যথেষ্ট হয়নি।
আইএইচএস/একিউএফ