ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়ে গেইলের কাছাকাছি তানজিদ তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:০৮ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর বলে অফ সাইডে পুশ করেই দৌড় দিলেন, আর থামলেন না। দৌড়ে রান পূর্ণ করেই দিলেন এক লাফ, ঘুরে আরেকটি। এরপর এক হাতে হেলমেট আরেক হাতে ব্যাট উঁচু করে হোম অফ ক্রিকেটের দর্শক ঠাসা গ্যালারির অভিবাদনের জবাব দিলেন। হয়ে গেলো বিপিএলে তিন সেঞ্চুরি। বাংলাদেশিদের মধ্যে এখন এই তরুণ ওপেনারই সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক।

শুক্রবার বিপিএলের ফাইনালে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে ৬১ বলে সেঞ্চুরি করা তামিম খেলেছন ঠিক ১০০ রানের ইনিংস। যেখানে ৬ চারের সঙ্গে হাঁকিয়েছেন ৭ ছক্কা। যেখানে রাজশাহীর দলীয় সংগ্রহ ১৭৪ সেখানে তামিম একাই করেছেন শতরান। অর্থাৎ দলের ৫৭.৪৭ শতাংশ রানই এসেছে তার ব্যাট থেকে।

এবারের বিপিএলে খুব একটা ধারাবাহিক ছিলেন না তামিম। লিগ পর্ব আর প্লে অফ মিলিয়ে ১২ ম্যাচে মাত্র ১ ফিফটিই ছিল তার সম্বল। তবে পুরো টুর্নামেন্টের খেলা যেন ফাইনালের জন্যই জমিয়ে রেখেছিলেন এই ব্যাটার। যেখানে রীতিমত একা হাতে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বোলারদের কচুকাটা করেছেন তিনি।

বিপিএলে এ নিয়ে তৃতীয়বার সেঞ্চুরি করলেন তামিম। যেটা বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিপিএলের ইতিহাসে বাংলাদেশিদের মধ্যে দুটি করে সেঞ্চুরি আছে তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়ের।

সবমিলিয়ে বিপিএলের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় দুই নম্বরে তামিম। ৫ সেঞ্চুরি করে সবার ওপরে ক্রিস গেইল। বিপিএলে ৩৯ ইনিংস খেলে তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তামিম। গেইলের ৫ সেঞ্চুরির রেকর্ড ৫২ ইনিংস খেলে।

এছাড়া দুটি সেঞ্চুরি করতে ১১৭ ইনিংস খেলেছেন তামিম ইকবাল। এই আসরে তিনি নেই, আর তাকে বিপিএলে দেখার সম্ভাবনা নেই বললেও চলে। ৬১ ইনিংস ব্যাটিং করে ২ সেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ তামিমের জাতীয় দলের সতীর্থ তাওহীদ হৃদয়। এছাড়াও বিপিএলে দুটি করে সেঞ্চুরি করেছেন জনসন চার্লস, আন্দ্রে ফ্লেচার, অ্যালেক্স হেলস, এভিন লুইস ও উসমান খান।

বিপিএল ইতিহাসের ফাইনালেও এটি তৃতীয় সেঞ্চুরির ঘটনা। এর আগে ২০১৭ আসরে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ১৮ ছক্কার রেকর্ড গড়ে ৬৯ বলে ১৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন গেইল। ২০১৯ আসরের ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ১১ ছক্কায় ৬১ বলে ১৪১ রান করেন তামিম। পুরো বিপিএলেই এই দুটো ইনিংস ব্যক্তিগত সর্বোচ্চর তালিকায় শীর্ষ দুইয়ে আছে।

নিলামের আগেই এবার তানজিদ তামিমকে সরাসরি চুক্তিতে দলে ভিড়িয়েছিল রাজশাহী। তবে ব্যাট হাতে ছন্দে ছিলেন না তিনি। প্রথম সাত ইনিংসে ৩০ রানের গন্ডি পার হতে পারেননি একবারও। অষ্টম ম্যাচে ৪৩ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে। ফাইনালের আগে সেটাই ছিল তার খেলা একমাত্র বলার মতো ইনিংস। ফাইনালের মঞ্চে নিজের পুরোনো রুপে ফিরলেন এই তরুণ ওপেনার।

শুক্রবার টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামে রাজশাহী। সাহিবজাদা ফারহান ভুগলেও অন্যপ্রান্তে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন তামিম। মাত্র ২৯ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। ফিফটি পর রানের গতি কমে যায়, জীবনও পান দুইবার। ৫৪ রানে ডিপ স্কয়ার লেগে তার ক্যাচ ফেলেন মুগ্ধ। আর ৮৮ রানে গালিতে জীবন পান শেখ মেহেদীর কাছে। ৬১ বলে সেঞ্চুরির পথে খুঁত ধরতে গেলেই এই দুটো! বাকি ৫৯ বলে তামিম ছিলেন অনবদ্য।

এসকেডি/এমএমআর