ক্রিকইনফোর বর্ষসেরার দৌড়ে বাংলাদেশের দুই বোলার
প্রতি বর্ষপঞ্জিতে ব্যক্তিগত সেরা ব্যাটিং ও বোলিং পারফরম্যান্সকে স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয় 'ইসএসপিএনক্রিকইনফো' অ্যাওয়ার্ড। এই পুরস্কারগুলো নির্ধারণ করেন সাবেক ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার এবং ক্রিকইনফোর-এর জ্যেষ্ঠ লেখকদের নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন জুরি বোর্ড।
২০২৫ সালের সেরা পারফরম্যান্সে এবার বাংলাদেশ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ মেহেদী হাসান আর তাসকিন আহমেদ।
শেখ মেহেদী জায়গা করে নিয়েছেন বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি বোলারদের মধ্যে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন বরুণ চক্রবর্তী, মোহাম্মদ নওয়াজ, শাহিন শাহ আফ্রিদি এবং কুলদিপ যাদব।
অন্যদিকে তাসকিন মনোনয়ন পেয়েছেন বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি লিগের সেরা বোলিং পারফরম্যান্সে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এই তালিকায় আছেন নাথান ম্যাকএন্ড্রু, নাথান এলিস, মোহাম্মদ সিরাজ, জশ হ্যাজেলউড, হারপ্রিত ব্রার, রাইলি মেরেডিথ, নাথান সওটার, গুদাকেশ মোতি এবং খোজাইমা তানভীর।
শেখ মেহেদী: ৪/১১ (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি, কলম্বো)
২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারার পর বাংলাদেশ তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামে, যেখানে দুই দলই একটি করে ম্যাচ জিতেছিল। প্রথম দুই ম্যাচে না খেলা শেখ মেহেদী তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেন।
ইনিংসের শুরুতেই বল হাতে নিয়ে চার ওভারের প্রত্যেকটিতে একটি করে উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগার গড়েন তিনি। এর মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের ভিত্তি তৈরি হয়।
প্রথম ওভারেই তিনি ক্লাসিক অফস্পিনে বল ঘুরিয়ে কুশল পেরেরাকে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। পরের ওভারে ড্রিফট করানো বলে দিনেশ চান্দিমালকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে টপ-এজ করেন। পাওয়ারপ্লের পরের স্পেলে বোল্ড করেন চারিথ আসালাঙ্কাকে। এরপর ১১তম ওভারে উইকেট-মেইডেন করে বিপজ্জনক পাথুম নিশাঙ্কার উইকেট তুলে নেন শেখ মেহেদী। সবমিলিয়ে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন এই অফস্পিনার।
১১ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ৬৬/৫। শেষ পর্যন্ত তারা ৭ উইকেটে ১৩২ রান তুলতে পারে। বাংলাদেশ ১৭ ওভারেই লক্ষ্য তাড়া করে জয় নিশ্চিত করে।
তাসকিন আহমেদ: ৭/১৯ (বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে, মিরপুর)
পেস বোলিংয়ে অবিশ্বাস্য স্পেলে বিপিএল ইতিহাসের সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ড গড়েন তাসকিন। ৭-১৯, টি-টোয়েন্টিতে সবমিলিয়ে এটি কোনো বোলারের তৃতীয় সেরা বোলিং।
এটি ছিল তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইফার। প্রথমবারের নয় বছর পর এই কীর্তি দেখান তাসকিন। বিপিএলের সবশেষ মৌসুমে ১২ ইনিংসে ২৫ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন এই পেসার।
এমএমআর