৪৯৯ রানের টি-টোয়েন্টির এক থ্রিলারে রেকর্ডবইয়ে তোলপাড়
২৫৩/৭
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের (২৫৩/৭) স্কোরটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের নকআউট বা প্লে-অফ ম্যাচে যেকোনো দলের করা সর্বোচ্চ রান। একই তালিকায় ইংল্যান্ডের এই ম্যাচের স্কোর (২৪৬/৭) দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ২০২৪ সালে সাব-রিজিওনাল ইউরোপ কোয়ালিফায়ারের গ্রুপ-এ ফাইনালে ইতালির স্কোর ২৪৪/৪, রোমানিয়ার বিপক্ষে।
বৃহস্পতিবারের আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচে ২০০+ রান হয়েছিল মাত্র একবার-২০১২ সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০৫/৪, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
৬
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের ২৫০+ রান করার সংখ্যা ৬ বার, যা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে দ্বিগুণ। সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়েও ভারতের ২৫০+ স্কোর সবচেয়ে বেশি, যা সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ৫টি রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
৪
পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ৪টি ফাইনাল (২০০৭, ২০১৪, ২০২৪ এবং ২০২৬), যা কোনো দলের জন্য সর্বোচ্চ।
শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এবং ইংল্যান্ড প্রত্যেকে ৩ বার করে ফাইনালে উঠেছে। ভারতই প্রথম ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, যারা পরবর্তী আসরেও ফাইনালে উঠেছে। এর আগে টানা দুই আসরে ফাইনালে উঠেছিল কেবল পাকিস্তান (২০০৭, ২০০৯) এবং শ্রীলঙ্কা (২০১২, ২০১৪)।
১৫
পুরুষদের আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারত ১৫ বার ফাইনালে উঠেছে, যা অস্ট্রেলিয়ার ১৪টি রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। ভারত উঠেছে: ওয়ানডে বিশ্বকাপ– ৪ বার, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ– ৪ বার, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি– ৫ বার, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ– ২ বার।
৪৯৯
বৃহস্পতিবার ভারত ও ইংল্যান্ড মিলে মোট ৪৯৯ রান করেছে, যা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মিলিত রান। সর্বোচ্চ: ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৫১৭ রান)।
এছাড়া এই ৪৯৯ রান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রান। এর আগে রেকর্ড ছিল ২০১৬ সালে ইংল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা– ৪৫৯ রান (ওয়াংখেড়ে)।
১০৫
ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেলের ১০৫ রান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ফিন অ্যালেনের ১০০* (দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে)। এই ১০৫ রান পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের নকআউট ম্যাচে পঞ্চম সর্বোচ্চ স্কোর।
২২ বছর ১৩৩ দিন বয়সে বেথেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি করা তৃতীয় কনিষ্ঠ ব্যাটার। তার আগে আছেন: ব্রায়ান বেনেট (২১ বছর ৩২৪ দিন), আহমেদ শেহজাদ (২২ বছর ১২৭ দিন)।
বেথেলের প্রথম শতক (প্রথম শ্রেণি, লিস্ট-এ এবং টি-টোয়েন্টি) তিনটিই এসেছে আন্তর্জাতিক ম্যাচে, যা ইতিহাসে প্রথম।
৪৬
বেথেল ৪৬ বলে শতক করেন, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দ্রুততম শতক। এই তালিকায় প্রথম ফিন অ্যালেন (৩৩ বলে)।
বেথেল মাত্র ১৯ বলে ফিফটি করেন, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে দ্রুত অর্ধশতক।
০
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের ৮৯ রানের চেয়ে বেশি রান করা কোনো ভারতীয় ব্যাটার নেই। একই স্কোর করেছিলেন বিরাট কোহলি (৮৯*), ২০১৬ সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
১৯
ভারতের ইনিংসে ১৯টি ছক্কা, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এর আগে নেদারল্যান্ডস বনাম আয়ারল্যান্ড (২০১৪ সালে সিলেটে) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম জিম্বাবুয়ে (এই বিশ্বকাপ, ওয়াংখেড়ে) ম্যাচে সমান ছক্কা হয়েছিল।
৭
৭ ছক্কা জোফরা আর্চারের এক ম্যাচে দেওয়া সর্বোচ্চ ছক্কার যৌথ রেকর্ড। এর আগে স্টুয়ার্ট ব্রড (ভারতের বিপক্ষে, ২০০৭) এবং জেভিয়ার ডোহার্টি (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ২০১২) সমান ছক্কা হজমের রেকর্ড গড়েন।
আর্চার ৪ ওভারে ৬১ রান দেন, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ইংলিশ বোলারের জন্য সর্বোচ্চ।
৬৪
ভারতের স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ৬৪ রান দিয়েছেন, যা ভারতের জন্য টি-টোয়েন্টিতে যৌথ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান খরচ। এটি বিশ্বকাপে ভারতের কোনো বোলারের সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার রেকর্ড।
৭৩
দুই দল মিলে ৭৩টি বাউন্ডারি মেরেছে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং সব টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
৩৬০
৩৬০ রান এসেছে শুধু বাউন্ডারি থেকে—যা টি-টোয়েন্টিতে যৌথভাবে সর্বোচ্চ এবং বিশ্বকাপে প্রথমবার ৩০০+ বাউন্ডারি রান। ৪০ ওভারের মধ্যে মাত্র ৪ ওভারে কোনো বাউন্ডারি হয়নি।
৩৪
দুই দল মিলে ৩৪টি ছক্কা মেরেছে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নতুন রেকর্ড এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের ইতিহাসে যৌথভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ।
৮৮
এই বিশ্বকাপে ভারতের মোট ৮৮টি ছক্কা, যা কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ বা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ড ছিল ২০২৫ সালে বুলগেরিয়ার ৭৮ ছক্কা।
এমএমআর