‘বোঝাতেই হয়নি, খুশি মনে রাজি হয়েছে’, লিটনের প্রশংসায় সিমন্স
পাকিস্তান সিরিজের দল ঘোষণার বিবৃতিতেই লিটন কুমার দাসকে মিডল অর্ডারে খেলানোর পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন নির্বাচক প্যানেলের চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। সিরিজ শুরুর আগে অনুশীলনেও লিটনকে দেখা গেছে পুরোনো বলে ব্যাটিং করতে।
ওয়ানডেতে নিয়মিত ওপেনিং করা এই ডানহাতিকে মিডল অর্ডারে নামানোর পরিকল্পনা নিয়ে এবার কথা বলেছেন টাইগারদের হেড কোচ ফিল সিমন্স। দলের স্বার্থে মিডল অর্ডারে খেলার কথা বলার পর খুশি মনেই রাজি হয়েছেন লিটন।
সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পারফর্মেন্সের গ্রাফ নিম্নমুখী। সবচেয়ে শঙ্কায় বিষয়, ৫০ ওভার ব্যাটিংও করতে পারছে না টাইগাররা। এক্ষেত্রে মিডল অর্ডারকেই বেশি ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। বিশেষ করে ১৬ থেকে ৩৫ ওভারের মধ্যে ব্যাটিং ও বোলিং, দুই বিভাগেই টানা ব্যর্থ হচ্ছেন ক্রিকেটাররা। অনেককে চেষ্টা করে ফল না পাওয়ায় এবারের সিরিজে লিটন ও আফিফকে ফেরানো হয়েছে দলে।
আগামী ১১ মার্চ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে টাইগাররা। এই ম্যাচের আগে আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন মিরাজ-শান্তদের হেড কোচ ফিল সিমন্স। সেখানে মিডল অর্ডারে ব্যর্থতার প্রশ্নে সিমন্স বলেন, ‘হ্যাঁ, মিডল ওভারে আমরা যতটা ভালো হতে চেয়েছিলাম ততটা হতে পারিনি। আমি এইমাত্র বললাম যে, আমরা এই সময়টাতে কতটা রান নিচ্ছি, কতগুলো সিঙ্গেল বা বাউন্ডারি পাচ্ছি— সেসব নিয়ে অনেক বেশি কাজ করব। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।’
ওপেনার লিটন দাস ওয়ানডেতে সাম্প্রতিক সময়ে লাগাতার ব্যর্থ হচ্ছিলেন। গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জায়গা হারান তিনি। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফেরার ম্যাচে ডাক (০) মেরে আবার বাদ পড়েন দল থেকে। তাকে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা, নাকি তার নিজের ফর্ম নাকি, অন্য কোনো কারণে মিডল অর্ডারে নামানো হবে এমন প্রশ্নও উঠে আসে সংবাদ সম্মেলনে।
উত্তরে সিমন্স প্রথমে যুক্তি দেন ৫০ ওভার কিপিং করার, ‘প্রথমত, ৫০ ওভার কিপিং করার পর এসে ওপেন করাটা খুবই কঠিন। এছাড়া সে আমাদের দলের স্পিন খেলার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। তাই মাঝের ওভারগুলোতে সে থাকলে সুবিধা হবে। আমি আগেই বলেছি মিডল ওভার আমাদের দুর্বল জায়গা । তাই তার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আশা করি আমরা কাঙ্ক্ষিত ফল পাব।’
তবে নিয়মিত ওপেন করে আসা লিটন মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করাকে দলের প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন বলে মনে করেন সিমন্স। তিনি বলেন, ‘সে যেকোনো পজিশনে ব্যাটিং করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আমার মনে হয় এখন সে নিজের খেলা নিয়ে অনেক বেশি নির্ভার এবং সে এটাকে দলের প্রয়োজনে অবদান রাখার একটা সুযোগ হিসেবে দেখছে।’
২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করেছিলেন লিটন। সেখানে বিশ্বকাপ অভিষেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তিনি। এবার তাকে বোঝাতে ওই সময়ের পারফরমেন্স কাজে লেগেছে কিনা প্রশ্নে সিমন্স জানান, বোঝার প্রয়োজনই হয়নি। তিনি বলেন, ‘লিটনকে আমাদের কিছুই বোঝাতে হয়নি। আমরা যখন তাকে বলেছি দলের স্বার্থে এটা প্রয়োজন, সে খুশি মনেই রাজি হয়েছে। সে যখন অধিনায়ক থাকে তখন যেমন দলের জন্য সব করতে রাজি থাকে, এখনো সে তেমনই আছে। তাই তাকে রাজি করাতে আমাদের কোনো বেগ পেতে হয়নি।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলায় মাঝে অনেকদিনই খেলার বাইরে ছিলেন ক্রিকেটাররা। তবে বিসিএল টাইগারদের ওয়ানডে ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করছে বলে মনে করেন সিমন্স, ‘বিরতিটা ছেলেদের জন্য বেশ কষ্টের ছিল, আমি তাদের সাথে কথা বলেছি এবং তারা সত্যিই খুব খারাপ বোধ করছিল। তবে বিসিএল-এর ওই টুর্নামেন্টটি আমাদের অনেক সাহায্য করেছে। আমরা আবার ৫০ ওভারের ক্রিকেটের মানসিকতায় ফিরতে শুরু করেছি এবং এই তিনটি ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। আমার মনে হয় আমরা সঠিক পথেই আছি।’
এসকেডি/আইএইচএস/