ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

তিন নতুনে অনভিজ্ঞ পাকিস্তানের ব্যাটিং, মোস্তাফিজ-তাসকিনদের সেরা সুযোগ!

আরিফুর রহমান বাবু | প্রকাশিত: ০৯:৩০ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬

এ সিরিজকে সামনে রেখে দুই দলের অধিনায়ক কথা বলেছেন। বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান মিরাজ তার নিজের চিন্তা, অনুভব, উপলব্ধি ও লক্ষ্য-পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে দল কেমন হবে, একাদশ কিভাবে সাজাবেন, সেটি খোলাসা করেননি।

কিন্তু পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বলেই দিয়েছেন, কাল (বুধবার) প্রথম ওয়ানডেতে তাদের একাদশে থাকছে তিনটি নতুন মুখ; সাহিবজাদা ফারহান, শামিল হোসেন ও মাজ সাদাকাত।

এর মধ্যে সাহেবজাদা ফারহান একদম নতুন নন। টি-টোয়েন্টি খেলেন। গত বছর ২৪ জুলাই এই শেরে বাংলায় বাংলাদেশের সাথে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে ৪০ বলে ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দিয়ে ওপেনার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন ফারহান। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাননি। রানেই আছেন।
এবং ফর্ম বিচারে এখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের টপ পারফরমার।

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নামিবিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একজোড়া সেঞ্চুরি আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৩ রান করেন। সবমিলিয়ে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৮৩ রান। সেই পারফরম্যান্সের পর অনুমিতভাবেই ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন। আর শামিল হোসেন বাঁহাতি ওপেনার। মাজ সাদাকাত ব্যাটার কাম স্পিনার।

ওয়ানডেতে তিন-তিনজন নতুন ব্যাটার নিয়ে পাকিস্তান মাঠে নামবে বাংলাদেশের বিপক্ষে। যার মধ্যে কেবলমাত্র সাহেবজাদা ফারহানেরই আছে বাংলাদেশের মাটিতে একটি মাত্র ম্যাচ (টি-টোয়েন্টি) খেলার অভিজ্ঞতা। বাকি দুজন, মানে অপর ওপেনার শামিল হোসেন ও মাজ সাদাকাত একদমই আনকোরা নবীন।

ঘরের মাঠে পাকিস্তানের ফ্রন্টলাইন ও মিডল অর্ডারে তিনজন নতুন ওয়ানডে পারফরমার—আজ থেকে ১০ থেকে ১৫ বছর আগে হলেও এটা কোনো ব্যাপার বলে গণ্য হতো না। কারণ তখন পাকিস্তানের ক্রিকেটের মান ছিল বেশ ওপরে। অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা উইলোবাজরাও বাংলাদেশের সাথে খেলতে নেমে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে বাংলাদেশের সর্বনাশ ডেকে আনতেন।

শুধু জাতীয় দলের হয়েই নয়, এক সময় বিশেষ করে ৯০ দশকের পুরো সময় থেকে বর্তমান শতাব্দীর প্রথম ৫-৬ বছর পাকিস্তানের অনেক আনকোরা তরুণ ব্যাটার বাংলাদেশের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন।

৮০ দশকের শেষ ভাগ থেকে পাকিস্তানের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট না খেলা অনেক ক্রিকেটার নিয়মিত ঢাকা লিগ খেলেছেন। করাচি ও লাহোরের গলির ক্রিকেট পেরিয়ে ক্লাব ক্রিকেট শুরু করা অনেক ব্যাটার বাংলাদেশের বাঘা বাঘা বোলারদের ইচ্ছেমতো পিটিয়ে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটাতেন। সেই দলে ইমরান নাজির, ইমরান ফরহাতের মতো ব্যাটারও আছেন; যারা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় লিগে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে অল্প কিছুদিনের মধ্যে পাকিস্তানের মূল দলে জায়গা করে নিয়েছেন।

কেউই খুব দীর্ঘ সময় স্থায়ী না হলেও বেশ কিছুদিন পাকিস্তান টপ অর্ডারের অন্যতম সেরা ব্যাটার ছিলেন ইমরান নাজির আর ইমরান ফরহাত।

শুধু ওই দুজনের কথা বলা কেন, লাহোরের ক্লাব ক্রিকেট খেলা নাদিম ইউনুস ঢাকা লিগের সব বড় আর নামি বোলারের নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছেন। একইভাবে আবাহনীর হয়ে খেলতে এসে ঢাকা স্টেডিয়ামের স্লথ গতির পিচে বল হাতে ঝড় তুলে সাফল্য দেখিয়েছেন লাহোরের ক্লাব ক্রিকেট খেলা ফাস্ট বোলার ওয়াক্কাস আহমেদ।

কিন্তু কঠিন সত্য হলো, পাকিস্তানের ক্রিকেটের সেই সুদিন আর নেই। এখন আর ওই অর্থে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসেন না। অনেকদিন পর এক সাহেবজাদা ফারহানের দেখা মিলেছে। তাও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। দেখার বিষয় ফারহান ওয়ানডেতে কী করেন। শামিল ও সাদাকাতই বা কিভাবে নিজেদের মেলে ধরেন।

বাংলাদেশের বোলারদের সামনে নিঃসন্দেহে একটা বড় সুযোগ—অনভিজ্ঞ, নতুন আনকোরা পাকিস্তান টপ ও মিডল অর্ডারে কাঁপন ধরানোর। দলে বাবর আজমের মতো ধরে খেলার পারফরমারও নেই। ওই তিনজন ব্যর্থ হলে বাকিদের পক্ষে ইনিংস নতুন করে সাজানো কষ্ট হবে। এক রিজওয়ান আহমেদই তখন ভরসা। আগা সালমানের ওপরও দায়িত্ব পড়বে। তার অবস্থাও ভালো না।

সব মিলিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের ওপর কর্তৃত্ব ফলানোর এক দারুণ সুযোগ বাংলাদেশের বোলারদের সামনে। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম বা নাহিদ রানা কি শুরুর দিকে ভয় ধরাতে পারবেন? মিডল ওভারে চাপে ফেলবেন মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেনরা?

যদি তা পারেন, তাহলে বাংলাদেশের সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি। কারণ সিনিয়রদের জায়গায় অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে উঠে আসা উদ্যমী তরুণদের দলে টেনে এবং প্রথম ম্যাচেই ৩ অভিষেকের সুযোগ দিতে চেয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক জানিয়ে দিলেন, তারা নতুনদের ওপর ভরসা করতে চান। তরুণরা উঠে আসুক—সেটাই তাদের চাওয়া।

পাকিস্তান তাদের মতো চিন্তা করবে, সেটা তাদের বিষয়। বাংলাদেশের সামনে কিন্তু পাক ব্যাটিংয়ে তিন তিনটি নতুন মুখ—অনেক বড় প্লাস পয়েন্ট। তাদের দাঁড়াবার ও থিতু হওয়ার সুযোগ না দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে সাজঘরে ফেরত পাঠাতে পারলেই ম্যাচের অনেকটা নিয়ন্ত্রণ চলে আসতে পারে হাতের মুঠোয়।

এরকম এক লাইন আপ নিয়ে ভারতের সাথে পাকিস্তান খেলতে নামলে ভারত সমর্থকরা হিন্দিতে বলতেন, ‘মওকা, মওকা।’ বাংলাদেশও কি পাকিস্তানের এ নবীন ও তারুণ্যনির্ভর দলকে চেপে ধরতে পারবে?

এআরবি/এমএমআর