শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার
প্রথম চার ম্যাচে দুটি করে জয় করেছে দুই দলই। শেষ ম্যাচটা ছিল রূপক অর্থে ফাইনালই। এই ম্যাচ জয় মানেই সিরিজ জয়। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ক্রিকেটারদের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে প্রোটিয়া ক্রিকেটাররা। নিউজিল্যান্ডকে ৩৩ রানে হারিয়ে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা জিতে নিয়েছে ৩৩ রানের ব্যবধানে।
ক্রাইস্টচার্চে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা সংগ্রহ করে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান, যা ছিল পুরো সিরিজের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। জবাবে নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে সংগ্রহ করে মাত্র ১৫৪ রান। এ জয়ের মাধ্যমে কোচ শুখরি কনরাডের অধীনে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম বিদেশ সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় এবং টানা দ্বিতীয় দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ সাফল্য।
ব্যাট হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের মূল ভরকেন্দ্র ছিলেন কনর এস্তারহুইজেন। যিনি ৩৩ বলে ৭৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। ৫টি বাউন্ডারি ও ৬টি ছক্কার মার ছিল তার ইনিংসে। এস্তারহুইজেনের ক্যারিয়ার সেরা এবং টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক এটা তার। এর আগে চতুর্থ ম্যাচেও তিনি ফিফটি করেছিলেন।
ইনিংসে অনসাইডে আধিপত্য দেখিয়ে ৫২ রান করেন মাঠের সেই অংশে, যেখানে তার ছয়টি ছক্কার মধ্যে পাঁচটিই এসেছিল। স্পিনার কোল ম্যাকনচির ওপর তিনি বিশেষভাবে চড়াও হন- তার বলে সোজা মাথার ওপর দিয়ে, মিডউইকেট ও স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকান। মোট ৮ বলে ম্যাককনচির বিপক্ষে ২১ রান করেন। শেষ দুই ওভারে কাইল জেমিসন ও বেন সিয়ার্সের বিপক্ষে আরও ২৫ রান তোলেন। শেষ পর্যন্ত সিয়ার্সের ফুলটস মারতে গিয়ে জিমি নিশামের হাতে ধরা পড়েন। পুরো সিরিজে তার সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০০ রান, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ডেভন কনওয়ের চেয়ে ১০০ রান বেশি।

তার সঙ্গী রুবিন হারম্যানও ৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। ম্যাচের শুরুতেই বেন সিয়ার্সকে আক্রমণ করে চার বলে ১৪ রান নেন তিনি। পরে স্পিনের বিপক্ষেও সাবলীল ব্যাটিং করেন এবং এস্তারহুইজেনের সঙ্গে মিলে ম্যাকনচিকে টার্গেট করেন। তবে ১২ বল বাউন্ডারি না পেয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে সিয়ার্সের বলে পুল করতে গিয়ে টাইমিং মিস করেন।
মিড-অফে উড়ে আসা বলটি মিড-অন থেকে দৌড়ে এসে এক হাতে দারুণ ক্যাচ নেন নিক কেলি। হারম্যান আউট হন ৩৯ রানে, আর দ্বিতীয় উইকেটে তাদের জুটি ভাঙে ৫৯ রানে। অন্যদিকে জ্যাক ফকস ও জশ ক্লার্কসন তুলনামূলকভাবে মিতব্যয়ী বোলিং করলেও নিউজিল্যান্ডের বাকি বোলাররা ওভারপ্রতি ৯ রানের বেশি খরচ করেন। বিশেষ করে ম্যাকনচি ৪ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছিলেন।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে শুরু থেকেই ছিল অনিশ্চয়তা। তাদের প্রথম পছন্দের টপ অর্ডাররা ছিল অনুপস্থিত এবং অধিনায়ক টম ল্যাথাম তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে বুড়ো আঙুল ভেঙে ছিটকে যাওয়ায় এই ম্যাচেও খেলতে পারেননি। ব্যাটিংয়ে কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। সর্বোচ্চ ২৬ রান আসে বেভান জ্যাকবসের ব্যাট থেকে। দলের একমাত্র উল্লেখযোগ্য জুটি ছিল পঞ্চম উইকেটে জিমি নিশাম ও জ্যাকবসের ৫২ রানের পার্টনারশিপ; কিন্তু সেটিও ম্যাচের গতিপথ বদলাতে পারেনি।
ফিল্ডিংয়ে দুই দলই ছিল বেশ অগোছালো। ম্যাচে মোট ৯টি ক্যাচ মিস হয়েছে, যা ২০১৮ সালের জুন থেকে ইএসপিএনক্রিকইনফোর বল-বাই-বল তথ্য অনুযায়ী পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণ ছিল ছয়জনের সমন্বয়ে এবং তারা দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্স দেখায়। জেরাল্ড কোয়েৎজি ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। নতুন বলে ২ ওভারে ১১ রান দিয়ে চাপ তৈরি করেন এবং শেষদিকে ১৭তম ও ১৯তম ওভারে ফিরে এসে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন।
তার শেষ ওভারে জশ ক্লার্কসনকে কভারে ক্যাচ করান এবং ম্যাকনচিকে লং-অনে তুলে দেন। পুরো সিরিজে তিনি যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এবং সবচেয়ে কম ইকোনমি রেটের বোলার ছিলেন। এছাড়া উইয়ান মুল্ডার ২/২৮ এবং ওটনিয়েল বার্টম্যান ২/৩৩ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জেসন স্মিথের সময়টা ভালো যাচ্ছে না। এই সিরিজে পাঁচ ইনিংসে একবারও ২০ রানের বেশি করতে পারেননি। ফিল্ডিংয়েও শুরুতে একটি ক্যাচ ফেলেন, যখন ডেন ক্লিভার মাত্র ১ রানে ছিলেন। তবে পরে বার্টম্যানের বলে লিডিং এজ থেকে আসা ক্যাচটি ঠিকই নেন এবং ক্লিভার আউট হন ২২ রানে। পাওয়ারপ্লে শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল ৪৬/২, যা তাদের লক্ষ্য তাড়ায় অনেকটাই পিছিয়ে দেয়।
সব মিলিয়ে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্সে সিরিজের শেষ ম্যাচে পূর্ণ আধিপত্য দেখিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এস্টারহুইজেনের ব্যাটিং নৈপুণ্য এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে তারা নিশ্চিত করে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয়।
আইএইচএস/