ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

স্কুল ক্রিকেট

হৃদয় চান সূচিতে বদল, শান্তর চাওয়া বিদেশ সফর

ক্রীড়া প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৩:১০ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

স্কুল ক্রিকেটে এবারের আসর শুরু হবে আগামীকাল (শুক্রবার) থেকে। এবারের আসরে দেশের ৩৫০টির বেশি স্কুলের প্রায় ৮ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। আজ (বৃহস্পতিবার) টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক ও বর্তমানে গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান কাজী হাবিবুল বাশার সুমন। এছাড়া জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়ও উপস্থিত ছিলেন।

শান্ত আর হৃদয়কে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার বলছিলেন, ‘স্কুল ক্রিকেটে উঠে আসা ক্রিকেটারের আদর্শ উদাহরণ।’

টানা ৪ বছর স্কুল ক্রিকেট খেলেছেন হৃদয়। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে উঠে এসেছেন শান্তও। স্কুল ক্রিকেটের স্মৃতি তুলে ধরে দুইজনই দিয়েছেন আবেগঘন বক্তব্য।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে হৃদয় বলেন, ‘স্কুল ক্রিকেটের বিষয়ে কিছু বলতে গেলে একটু ইমোশনাল হয়ে পড়ি। কারণ একদম শুরুতে আমার জীবনের শুরুটাই হয়েছে এই স্কুল ক্রিকেট দিয়ে। আমি বগুড়া পুলিশ লাইন্স থেকে পড়াশোনা করেছি। এমনকি বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলার আগেও আমি স্কুল ক্রিকেট দিয়েই শুরু করেছিলাম।’

স্কুল ক্রিকেটের স্মৃতি তুলে ধরে হৃদয় বলেন, ‘স্কুল ক্রিকেটের অনেক স্মৃতি আছে, এখনও সেগুলো মনে পড়ে। বিশেষ করে একই ব্যাট, একই হেলমেট পরে যখন আমরা ব্যাটিংয়ে নামার জন্য সবাই তাড়াহুড়ো করতাম। তখন (ক্রিকেটের) সরঞ্জাম খুব বেশি ছিল না, যেটা বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে এসে আমরা পাই। অনেক সময় ব্যক্তিগত জিনিস দিয়েই খেলতে হতো। কিন্তু এর মধ্যেও একটা আলাদা আনন্দ ছিল, অনেক উত্তেজনা থাকতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি স্কুল ক্রিকেট এমন একটা জায়গা যেখান থেকে অনেক প্লেয়ার উঠে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও উঠবে। আমি চার বছর খেলেছি। আমার বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল একবার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল।’

টুর্নামেন্টের সময়সূচি নিয়ে পরামর্শ দিয়ে হৃদয় বলেন, ‘আমি সবসময় স্কুল ক্রিকেট ফলো করি। যদি ভুল না করি, গত বছর বা এক-দুই বছর আগে বৃষ্টির কারণে টসে চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারিত হয়েছিল। আমি অনুরোধ করব, যদি বৃষ্টির মৌসুমের আগে টুর্নামেন্টটা করা যায় তাহলে খেলোয়াড়রা সব ম্যাচ খেলতে পারবে। আমার নিজের স্কুলও দুই-তিনটা ম্যাচ টসে হেরে বাদ পড়েছিল।’

হৃদয় আরও বলেন, ‘আমি চাই প্রত্যেকটা খেলোয়াড় যেন যথেষ্ট সুযোগ পায়। ভালো ভেন্যুতে খেলুক, বড় বড় স্কোর হোক, অনেক উইকেট পড়ুক। যারা ভালো সুযোগ পাবে তারা যেন সেটা কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে। আশা করি এই টুর্নামেন্টটা প্রতি বছরই চলতে থাকবে। গত ১১ বছর ধরে চলছে, ভবিষ্যতে আরও উন্নতি হবে।’

অন্যদিকে নাজমুল হোসেন শান্ত মনে করেন, স্কুল ক্রিকেট তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আমার ক্রিকেটের শুরুটা হয়েছিল বয়সভিত্তিক ক্রিকেট দিয়ে, যেটা বিসিবির অধীনে হয়। অনূর্ধ্ব-১৭ এর সময় স্কুল ক্রিকেটের একটা টুর্নামেন্ট খেলতে দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। এজন্য বিসিবিকে ধন্যবাদ।’

ওই সফরটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘সেই সময় কেরালায় একটা টুর্নামেন্ট হয়েছিল। আমার মনে হয় সেটা আমার ক্যারিয়ারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ ওই টুর্নামেন্টে আমি সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলাম। এরপর অনূর্ধ্ব-১৮ হয়ে খুব দ্রুত অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পাই।’

স্কুল ক্রিকেটের গুরুত্ব তুলে ধরে শান্ত বলেন, ‘আমি মনে করি স্কুল ক্রিকেটকে অনেক বড়ভাবে দেখা উচিত। ক্রিকেট বোর্ড এবং প্রাইম ব্যাংককে ধন্যবাদ যে তারা প্রত্যেকটা স্কুলকে সাহায্য করছে। এই টুর্নামেন্টটাকে যদি আরও বড়ভাবে আয়োজন করা যায় এবং খেলোয়াড়দের সঠিক সুবিধা দেওয়া যায়, তাহলে তারা আরও আগ্রহ নিয়ে অংশ নেবে। অনেক সময় দেখা যায় স্কুলগুলোকে আমন্ত্রণ জানাতে হয়। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়লে তারা নিজেরাই অংশ নিতে আগ্রহী হবে।’

বিদেশ সফরের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমার মনে আছে তখন একবারই বিদেশ সফরের সুযোগ হয়েছিল। এরপর আর হয়েছে কিনা জানি না। যদি সম্ভব হয় স্কুল ক্রিকেট থেকে সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে বিদেশে ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি করা যায়, তাহলে খেলোয়াড়দের জন্য সেটা খুব ভালো হবে এবং এই টুর্নামেন্টের প্রতি আগ্রহও আরও বাড়বে।’

এসকেডি/এমএমআর