মিস্টার বুলবুল, জাগো নিউজ কখনই সীমা ছাড়িয়ে কারো বিরুদ্ধে লিখে না
সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুুলবুল
‘বাবু ভাই আমাকে অনেক ড্যামেজ করেছেন। তাই তার মিডিয়া হাউজে ইন্টারভিউ দেব না।’
প্রিয় পাঠক, এই বাবু ভাই মানে আমি, আরিফুর রহমান বাবু। আর যিনি আমার সহকর্মী সৌরভ কুমারের কাছে আমার বিপক্ষে অভিযোগ এনে এমন মন্তব্য করেছেন, তিনি আমিনুল ইসলাম বুলবুল—বিসিবির সদ্য বিদায়ী সভাপতি।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সব সময়ের অন্যতম বড় তারকা আমিনুল ইসলাম বুলবুল। একজন জীবিত কিংবদন্তি আমাকে এভাবে দোষী সাব্যস্ত করে আমার মিডিয়া হাউজ জাগো নিউজে একান্ত সাক্ষাৎকার দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। আজ সোমবার সকালবেলা সহকর্মী সৌরভের মুখে কথাটি শুনেই মনটা বিষাদে ভরে গেল। সত্যি বলতে কী, সারাদিন আমার মনে বারবার একই প্রশ্ন কাঁটার মতো বিঁধল—আমি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কী এমন ক্ষতি করলাম? আমি আবার তাকে কখন ড্যামেজ করলাম?
প্রথমত, রিপোর্টার হিসেবে আমি প্রায় তিন যুগের ক্যারিয়ারে কারও ক্ষতি করেছি বলে মনে হয় না। আর সবচেয়ে বড় কথা, সাংবাদিকতা করতে গেলে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ দিতে হয়। কোনোটা কারও পক্ষে যায়, আবার কোনোটা কারও বিপক্ষে যায়। কেউ যদি সেটাকে একান্তই তার নিজের বিপক্ষে অবস্থান বলে ধরে নেন, তাহলে বিপদ। এটা সত্য, গত দুই-তিন মাস বাংলাদেশের মিডিয়ায় আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে নিয়ে অনেক প্রতিবেদনই প্রকাশ হয়েছে। তার কোনোটা তার পক্ষে, আবার কোনোটা তার বিপক্ষে। আমাদের জাগো নিউজেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতিকে নিয়ে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তার ক্ষতি করার মানসে কোনো লেখা প্রকাশিত হয়নি।
আমি তো জাগো নিউজে কাজ করি। জাগো নিউজ কখনই কারও নগ্ন বিরোধিতা করে না। অনলাইন ও ইউটিউবের অনেক হাউজের পরিমিতিবোধ কম থাকলেও জাগো নিউজ কখনই সীমা ছাড়িয়ে যায় না। ৯ বছর ধরে কাজ করছি এই নিউজ পোর্টালে—কখনো দেখিনি জাগো নিউজে কোনো রগরগে কিছু প্রকাশিত হতে। যা লেখা জাগো নিউজে ছাপা হয়, তার অথেনটিসিটি থাকে। আষাঢ়ে গল্প, গাঁজাখুরি কাহিনি আর একতরফা লেখা কখনই জাগো নিউজে প্রকাশিত হয় না। আমি যদি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আক্রমণ করে কিছু লিখি, তা কখনই প্রকাশিত হবে না—বা হতো না।
আর সবচেয়ে বড় কথা, আমার প্রায় তিন যুগের ক্রীড়া সাংবাদিকতা ক্যারিয়ারে কারও বিপক্ষে লিখে তার ক্ষতি সাধনের কোনো নজির নেই। আমিনুল ইসলাম বুলবুলই প্রথম, যিনি এই অভিযোগ তুললেন। তার বোর্ডের ফারুক আহমেদ, নাজমুল আবেদিন ফাহিম, ইফতিখার রহমান মিঠু, নাজমুল হোসেন—কেউই এমন অভিযোগ আনেননি।
সাবেক সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ তো তিন দিন আগেও রাতে ফোন করে কথা বললেন। কই, তার মুখে তো এমন অভিযোগের ছিটেফোঁটাও পাইনি!
ব্যক্তিজীবনে, বিশেষ করে কথাবার্তায় কখনো সখনো রূঢ় হলেও; ক্রীড়া সাংবাদিক, ক্রিকেট ও ক্রীড়া লেখক আরিফুর রহমান বাবু কখনই রুক্ষ নন। যথেষ্ট সংযত, পরিণত, পরিমিত এবং শতভাগ পেশাদার।
ভাষার প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমি বরাবরই অনেক বেশি সতর্ক। একটি লেখার ভাষা, গাঁথুনি কেমন হওয়া উচিত, কোনো লেখার অর্থ কী দাঁড়াবে, কারও ব্যক্তিজীবন বা সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না—তা আমি খুব খুঁটিয়ে দেখে তারপর লিখি। আমি কখনই যা খুশি তা লিখি না। আমার লেখার ভাষা সব সময় পরিশীলিত। কারও বিপক্ষে কিছু লেখার আগে তার গুণের কথাও মাথায় রাখি। এজন্য আমার লেখায় ঢালাও সমালোচনা থাকে না। একটি নির্দিষ্ট ইস্যুর বাইরে যাই না। কারও কথা বা কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা ও সমালোচনা করতে গেলেও তার আগে তার ভালো গুণ ও কাজের প্রশংসা করতে ভুল করি না। এসব কারণে আমার লেখায় অনেক চুলচেরা বিশ্লেষণ থাকে।
এমনকি টিভি ও ইউটিউব লাইভ বা টকশোতেও মেপে, সংযত হয়ে কথা বলার চেষ্টা করি। আমার মুখের কথা ও লেখায় কারও ব্যক্তিজীবন, কর্মজীবন, সংসার ও সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হোক—সাধারণত আমি তা করি না।
এক কথায়, আমার কথাবার্তা ও আচরণে কখনো কখনো বাড়তি আবেগ, উত্তেজনা ও রাগ-ক্ষোভ প্রকাশ পেলেও আমার লেখায় সে অর্থে উত্তেজনা থাকে না। আমি অযথা তো নয়ই, কারও বড় ধরনের দোষত্রুটি পেলেও তার খুব বড় সমালোচনা করি না। যতটুকু না করলে নয়, ততটুকুই করি। তাও ভাষা ব্যবহারে আপ্রাণ চেষ্টা থাকে সংযত থাকার। অযথা খোঁচাখুঁচি থাকে না। কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা, অযথা বা উটকো সমালোচনা করা এবং এক কথায় বা লেখায় কারও নেতিবাচক সমালোচনা করে তার ক্যারিয়ার, ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনের ক্ষতি করে দেওয়ার কাজটা আমার দ্বারা হয় না। আমি ওভাবে লিখি না।
অযথা কারও পেছনে লেগে থাকা কিংবা খুব বেশি সমালোচনা করি না বলেই হয়তো আমার লেখার প্রতিবাদ হয় না। আমার ৩৪ বছরের বেশি ক্রীড়া সাংবাদিক জীবনে হাতে গোনা দু-একটি ঘটনা হয়তো পাওয়া যাবে, কিন্তু সেগুলো অনানুষ্ঠানিক। আমার লেখার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ আসেনি এখনো। এটা আমি খুব গর্ব করেই বলতে পারি।
এমন নয়, আমার জব লাইফ ছোট। একটু লো-প্রোফাইল মেইনটেইন করি বলে হয়তো আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডদেরও অনেকের অজানা—এ মুহূর্তে মাঠমুখী সাংবাদিকদের মধ্যে আমি সিনিয়র মোস্ট।
ক্যারিয়ারের প্রথম ২০ বছর কেটেছে জনকণ্ঠে। জনকণ্ঠে থাকা অবস্থায় ২০০৫ সালে ৬ মাসের জন্য সমকালে গিয়েছিলাম। আবার ফিরে এসে ২০১০-এর শেষ অবধি জনকণ্ঠেই কাজ করেছি। এরপর সকালের খবরে প্রায় ৫ বছর এবং জাগো নিউজে প্রায় ৯ বছর কাটিয়ে দিলাম। হাজার হাজার বাই-লাইন স্টোরি আমার।
কিন্তু আমার জানা মতে, আমার লেখা নিয়ে তির্যক সমালোচনার রেকর্ড খুব কম। আপ্রাণ চেষ্টা করি একটু রয়ে-সয়ে সমালোচনা করতে। কিন্তু এবার সেই তকমাটা গায়ে লেগে গেল। একজন নামী ও বরেণ্য ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব দিলেন আমাকে একটা নতুন তকমা—আমি নাকি তার অনেক ক্ষতি করেছি।
ভাবটা এমন যে, মিডিয়ার সবাই তার প্রশংসায় ধন্য, তার গুণকীর্তনে ব্যস্ত ছিল, আমি শুধুই তার সমালোচনা করেছি। এবং খুঁজে খুঁজে এমন রিপোর্ট করেছি, যা তার অনেক ক্ষতি করেছে। তার ভাষায়, বাবু ভাই অর্থাৎ আমি তার জন্য “বিগ ড্যামেজড”।
তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বাবু ভাইয়ের সঙ্গে তো নয়ই, বাবু ভাইয়ের মিডিয়া হাউজের সাথেও কোনো রকম আনুষ্ঠানিক কথাবার্তা বলবেন না।
তার দাবি, আমি তার অনেক ক্ষতি করেছি? কিন্তু অনেক ভেবেচিন্তে দেখলাম, আমি তার কোনো ক্ষতি করেছি বলে মনে করতে পারলাম না। বরং বারকতক তার ভাষ্য ছাপিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছি।
আর তিনি বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া যাওয়া নিয়ে যত তির্যক কথাবার্তা, সমালোচনা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ হয়েছে, বেশিরভাগ সময় আমিই যেচে রিপোর্ট করে তার ইমেজ ক্ষুণ্ন হওয়া বন্ধ করতে রেখেছি কার্যকর ভূমিকা। তাকে বিপাকে ফেলা, অযথা সমালোচনা করে তাকে ছোট করার কাজটি আমার দ্বারা হয়নি।
তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়া নিয়ে যতবার কথা উঠেছে, নানা গুঞ্জনে আশপাশ ছেয়ে গেছে—প্রতিবার আমিই সে উদ্ভূত পরিস্থিতির ইতিবাচক মোকাবিলায় তাকে সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। বলতে পারি, তাকে বড় ধরনের বিতর্কে জড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করতে সচেষ্ট ছিলাম।
এর মধ্যে জানুয়ারির সম্ভবত ৯ তারিখের পর থেকে তিনি আমার সঙ্গে গত ৩ মাসের বেশি সময় ধরে কথা বলেন না। এ দীর্ঘ সময়ে আমার দেওয়া অন্তত ১৫–১৭টি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ‘সিন’ করেও তিনি জবাব দেননি। ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছি তিন-চারটি—একটিরও জবাব আসেনি। অথচ প্রতিবার তিনি তা দেখেছেন, রিপ্লাই দেননি। আমি তার ওই আচরণে মোটেই অবাক হইনি। এর আগে তিনি আমাকে প্রায় ২ বছর ব্লক করে রেখেছিলেন—একটা মিথ্যে অজুহাতে।
তবে তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়া-আসা নিয়ে যত নাটকীয় ঘটনার উদ্ভব ঘটেছে, তখন যতটা সম্ভব পজিটিভ নিউজ করেছি। হ্যাঁ, এটা সত্য—রোজার ছুটির আগে তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়া নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। তখন আমিও কিছু নিউজ করেছি। তিনি যে বিসিবির কাউকে বলে যান না—শেষবারও যাননি। সিইও, এমনকি সহ-সভাপতির কার কী কাজ, তাও ঠিক করে দেননি। এসব নিয়ে সমালোচনাধর্মী নিউজ করেছি। কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া নিয়ে আমিই শেষবার বিসিবি সিইওর সঙ্গে কথা বলে অথেনটিক নিউজ করেছি।
তারপর একসময় যখন কথা উঠলো, তিনি আর দেশে আসবেন না—তখনও আমি সবার আগে বিসিবি সিইওর সঙ্গে কথা বলে লিখেছি যে, তিনি ঈদের ছুটির পর আসবেন ২৬ মার্চ। এরপরও তার দেশে ফেরা নিয়ে সংশয় দেখা দিল—তখন ঈদের পরপরই বিসিবির একাধিক কর্তার বক্তব্য দিয়ে নিউজ করি, বিসিবি সভাপতি আসবেন ২৮ মার্চ। শেষ পর্যন্ত সেটা সত্যও হয়েছে। কার্যত এটাই ছিল তার বিসিবি সভাপতি হিসেবে শেষবারের মতো দেশে আসা। শেষ খবর, তিনি গতকাল রোববার রাতেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
এসব প্রতিবেদনের বাইরে আর একটি নিউজ আমি করেছি—এই বোর্ড থাকবে না। আমিনুল ইসলাম বুলবুলও হয়তো আর বোর্ড সভাপতি থাকবেন না। তার বদলে সম্ভবত তামিম ইকবালই হবেন বোর্ড প্রধান। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। এর মধ্যে ড্যামেজড করার কী হলো? বুঝলাম না।
অথচ আমি কোনো রেফারেন্স দিয়ে বলব না—অনেক নেগেটিভ নিউজ করার পরও তিনি একাধিক মিডিয়া হাউজকে ইন্টারভিউ দিয়েছেন। আমাকে দেননি।
বুলবুল বোর্ড সভাপতি হিসেবে দেশে আসার পর বার চারেক তাকে জাগো নিউজের লাইভ টকশোতে যেতে অনুরোধ করেছি, আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমি হলফ করে বলতে পারি, আমার মুখের সামনে তিনি সেটা অস্বীকার করতে পারবেন না। প্রতিবার বলেছেন যাব—দিন-তারিখ দিয়েও যাননি। আপনি জাগো লাইভে অ্যাটেন্ড না করায় অফিস ম্যানেজমেন্টের কাছে আমি ছোট হচ্ছি—এমন বলার পরও আমার সে অনুরোধ রক্ষা করেননি।
আমি কারও সঙ্গে তুলনায় যেতে চাই না। অন্য মিডিয়া হাউজকে খাটো করে বলছি না—জাগো লাইভের তুলনায় অনেক কমজোরি ও অখ্যাত টিভি চ্যানেল আর ইউটিউবেও একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। কিন্তু জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেননি। উল্টো শেষ মুহূর্তে বিসিবি সভাপতির চেয়ার থেকে সরে গিয়ে বলে বসলেন—আমি নাকি তার অনেক ক্ষতি করেছি। তাই আমার হাউজের সঙ্গে তিনি আর কথা বলবেন না।
এটা কেমন ভদ্রতা? কেমন শিষ্টাচার? আমি বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাই।
আমি তো আর এই প্রজন্মের সাংবাদিক নই, যে ইতিহাস পড়ে আর পরিসংখ্যান ঘেঁটে মূল্যায়ন করব। আমার চোখের সামনে তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় তারকা হয়েছেন। তার সম্পর্কে কোনো তথ্য-উপাত্ত না নিয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বলতে পারব অবলীলায়।
তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম কারেক্ট ব্যাটার। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার আগে তিন পান্ডবের একজন। ঢাকা লিগ ও জাতীয় দলের সফল ব্যাটারদের অন্যতম। প্লেয়ার হিসেবে তাকে আমি অনেক উঁচুতে রাখি।
আমার চোখে তিনি শুধুই বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান আর প্রথম বিশ্বকাপ অধিনায়ক নন—দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সব সময়ের এক বড় তারা। তাকে ছোট করার কোনো ইচ্ছাই আমার নেই। আর আমি তা করবই বা কেন? আমার তো সে এখতিয়ার নেই।
আমি যে কথাগুলো লিখলাম, সেটাও হয়তো কোনোদিন লিখতাম না। এর আগে তিনি যে অনেকের সঙ্গে আমাকেও ২ বছর ব্লক করে রেখেছিলেন, কই—আমিও তো সে কথা কাউকে বলিনি! আমার হাউজ জাগো নিউজে একটি লাইনও লিখিনি।
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিপক্ষে একটি অভিযোগ প্রায় ৯০ ভাগ ক্রীড়া সাংবাদিকের। তা হলো, তিনি ভীষণ সেন্টিমেন্টাল। কোনো সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। তার বিপক্ষে কোনো কিছু লেখা হলেই তিনি চটে যান। সেই রিপোর্টার, রাইটারকে নিজের প্রতিপক্ষ শিবিরের লোক ভাবতে শুরু করে দেন এবং একসময় তাকে আনফ্রেন্ড বা ব্লক করে দেন।
এখনো বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট রিপোর্টারদের অন্তত ২৫–৩০ জনকে তিনি আনফ্রেন্ড, অথবা ব্লক করে রেখেছেন।
তাকে এই অভিযোগ থেকে মুক্ত করতে এবং এই নেতিবাচক অভ্যাস বদলাতে আমিই উদ্যোগী হয়েছিলাম। গত বছর অক্টোবরের বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ বিসিবি নির্বাচনের পর আমিনুল ইসলাম বুলবুল নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে যখন প্রথম প্রেস কনফারেন্স করেন, সোনারগাঁ প্যান প্যাসিফিক হোটেলের সেই জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ছোটবেলার বন্ধুর দাবি নিয়ে বলেছিলাম—‘প্রিয় বুলবুল ভাই, একটি অনুরোধ—কারও কোনো রিপোর্ট পছন্দ না হলে তাকে দয়া করে আনফ্রেন্ড করবেন না কিংবা ব্লক করবেন না। এতে করে সম্পর্ক নষ্ট হয়, তিক্ততা তৈরি হয়, পারস্পরিক সম্পর্কটা বৈরী হয়ে যায়। তার চেয়ে আপনি ধৈর্য ধরে সমালোচনাগুলো ইতিবাচক মানসিকতায় নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে তিক্ততার বদলে মিডিয়ার সঙ্গে আপনার মধুর সম্পর্ক তৈরি হবে।’
আমিনুল ইসলাম বুলবুল সেদিন কথা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, চেষ্টা করবেন আর নেগেটিভ রিয়্যাকশন শো না করতে। কিন্তু হায়! আমার সঙ্গেই তিনি শেষ ২ মাস কথা বলেননি। কেন বলেননি? অবশেষে আজ ১৩ এপ্রিল জানলাম তার কারণ—জানলাম, আমি তার অনেক ক্ষতি করেছি।
একটা কথা বলে রাখি—তামিম ইকবাল আর আমিনুল ইসলাম বুলবুল যখন বিসিবি নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছিলেন, তখন তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিএনপিপন্থীদের একটি বড় অংশ নির্বাচন বয়কট করার সময়ও আমি তথা জাগো নিউজ যতটা সম্ভব নিরপেক্ষ থেকে নির্মোহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছি। যার কোনো কোনো লেখা বা লেখার অংশ কিংবা টকশোর কোনো কোনো ব্যাখ্যা তামিমদের বিপক্ষে গেছে। সিনিয়র বিবেচনায় আমিনুল ইসলামের পক্ষে গেছে। কিন্তু তখন তিনি কোনো প্রশংসা করেননি। এখন যে লেখা তার বিপক্ষে গেছে, এখন তিনি রেগে-মেগে আগুন!
তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়া নিয়ে অনেক রটনা, ঘটনা, জল্পনা-কল্পনা আর গুঞ্জন ছিল। তিনি কাউকে না বলে দায়িত্ব বণ্টন না করে অস্ট্রেলিয়া চলে যান। এসব লিখেছি—তখন আমি হয়ে গেলাম প্রতিপক্ষ। তখন আমার লেখা ক্ষতির কারণ হয়েছে।
এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএসপি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সব প্রচারমাধ্যমেই বলা হয়েছে—আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এবং যেহেতু তার কাউন্সিলরশিপ পাওয়ার প্রক্রিয়াটাই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ এবং প্রচলিত আইন ও রীতির বাইরে গিয়ে, তাই বলা হয়েছে—জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিসিবির নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাউন্সিলরশিপ বাতিল হয়ে যেতে পারে।
এগুলো কোনোটাই তার পদচ্যুতির জন্য লেখা হয়নি। যুক্তি মেনে এবং ক্যালকুলেশন করে তবেই লেখা হয়েছে, যাতে আবেগ ছিল না। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরোধিতাও ছিল না—বরং নির্মোহ বিশ্লেষণটাই করা হয়েছে। সেটাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিলে তো আর কিছু করার নেই।
তিনি যে প্রক্রিয়ায় কাউন্সিলরশিপ নিয়েছেন, সেটা আইনের পরিপন্থী এবং সরকারের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে—সেটা কোনো মিথ্যে অভিযোগ নয়। সেই কথা লেখাও কোনো মিথ্যাচার নয়। সেটাকে ক্ষতি ভাবলে আর কিছুই বলার থাকবে না—নেইও।
একজন সাংবাদিকের সব লেখা, সব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ আপনার পক্ষে থাকবে না। কারও লেখা আপনার বিপক্ষে গেলে তাকে আনফ্রেন্ড করে দেওয়া, ব্লক করা—আপনার পুরোনো স্বভাব। ফোন না ধরাও আপনার অভ্যাস। এখন আপনার বিপক্ষে লেখা লেখক ও সাংবাদিকদের দোষী সাব্যস্ত করবেন? তারা আপনার ক্যারিয়ারকে ড্যামেজ করেছে—এমন অভিযোগ তুলবেন?
এটা কেমন ভদ্রতা? এটা কেমন শিষ্টাচার?
এআরবি/এমএমআর