‘কীভাবে যেন বারবার ইতিহাসের অংশ হয়ে যাই’
সানজিদা আক্তার; দেশের ফুটবলের পোস্টারগার্ল তকমা লেগে আছে তার নামের সাথে। অনূর্ধ্ব-১৪ থেকে শুরু করে জাতীয় দলে খেলেছেন লম্বা একটা সময়। এ মূহূর্তে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও দেশে ও দেশের বাইরের ঘরোয়া ফুটবল এখনো দাপিয়ে বেড়ান এই নাম্বার সেভেন। বাংলাদেশের প্রথম সাফজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। ছিলেন দ্বিতীয় সাফজয়ী দলেও।
উপমহাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ভারতের ইস্টবেঙ্গলের প্রথম বিদেশি নারী ফুটবলার হিসেবে খেলে ইতিহাস গড়েছেন। এবার তিনি আরেকটি ইতিহাস গড়লেন নেপালের ঘরোয়া লিগে প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে নাম লিখিয়ে। মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া আনফা উইমেন্স লিগে ঝাপা ফুটবল ক্লাবে খেলবেন সর্বশেষ তিনি খেলেছেন দেশের ঘরোয়া ফুটবলে পুলিশ এফসিতে।
এক যুগ আগের সানজিদা আক্তারের একটি অর্জনের কথা মনে আছে সবার। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় হওয়া এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন সানজিদা আক্তার। ওই পারফরম্যান্স করে এশিয়ার সেরা ১০ নারী ফুটবলারের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিলেন সানজিদা। দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সানজিদা বারবারই ইতিহাসের অংশ হয়েছেন। নেপালের লিগ খেলতে গিয়ে মঙ্গলবার রাতে কাঠমান্ডু থেকে জাগো নিউজকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সানজিদা আক্তার।
জাগো নিউজ: প্রথম বাংলাদেশি নারী ফুটবলার হিসেবে নেপালের লিগে খেলতে যাওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন।
সানজিদা আক্তার: আপনাকে ধন্যবাদ। দোয়া করবেন।
জাগো নিউজ: নেপালের ঘরোয়া লিগে খেলতে গিয়ে আপনি তো আরেকটি ইতিহাস তৈরি করলেন। যেমনটি করেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের প্রথম বিদেশি নারী ফুটবলার হিসেবে খেলে। বিষয়টি কেমন লাগে আপনার কাছে?
সানজিদা আক্তার: আসলে কীভাবে যেন আমি বারবার ইতিহাসের অংশ হয়ে যাই। এটা অবশ্যই ভালো লাগার।
জাগো নিউজ: এমন ইতিহাস আর কি আছে আপনার?
সানজিদা আক্তার: দেখেন ২০২২ সালে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আমি সেই দলের গর্বিত সদস্য ছিলাম। তার মানে দেশের ফুটবলের বড় একটি ইতিহাসের অংশ ছিলাম। এখন আমাদের দল এশিয়ান কাপে খেলেছে। তবে সাফের ওই অর্জন ছিল দেশের নারী ফুটবলের বাঁক ঘুরিয়ে দেওয়ার একটা অর্জন।
জাগো নিউজ: দ্বিতীয়বার যখন সাফ জিতেছিল বাংলাদেশ দুই বছর পর। সেই দলেও তো ছিলেন আপনি।
সানজিদা আক্তার: হ্যাঁ, ছিলাম। মানে পরপর দুইবার সাফ জিতে বাংলাদেশের গড়া ইতিহাসের পাতায়ও ছিলাম।
জাগো নিউজ: আপনিতো একবার এশিয়ার সেরা ১০ ফুটবলারের তালিকায় ছিলেন, তাই না?
সানজিদা আক্তার: হ্যাঁ। ২০১৪ সালে। ঢাকায় হয়েছিল এএফসি নারী অনূর্ধ্ব-১৬ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব। এশিয়াজুড়ে হওয়া ওই বাছাইয়ে পারফরম্যান্স বিবেচনা করে এএফসি সেরা দশ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ করেছিল। আমি ছিলাম ৭ নম্বরে। সেটাও একটা ইতিহাস।
জাগো নিউজ: ঘরোয়া নারী ফুটবলে প্রথম হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। আপনি ছিলেন।
সানজিদা আক্তার: হ্যাঁ। দেশের ঘরোয়া লিগে প্রথম হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়া বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড় ছিলাম আমি। সেটাও তো ইতিহাসের অংশ।
জাগো নিউজ: আপনি ইস্টবেঙ্গলে খেলেছেন। ক্লাবটি লিগে তেমন ভালো পারফরম্যান্স করতে পারেনি। তবে আপনি একটি দর্শনীয় গোল করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ভারতের ফুটবলে রীতিমত হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। নেপালে কী লক্ষ্য?
সানজিদা আক্তার: আসলে আমি যখন যেখানেই খেলি নিজের সেরা দিয়ে চেষ্টা করি। নেপালে আমি যেহেতু প্রথম বাংলাদেশি নারী ফুটবলার। আমি অবশ্যই ভালো কিছু করার চেষ্টা করবো।
জাগো নিউজ: আজকে গেলেন নেপালে। কালকেই (বুধবার) আপনাদের ম্যাচ। খেলতে পারবেন কি প্রথম ম্যাচ?
সানজিদা আক্তার: প্রথম ম্যাচ খেলা নিশ্চিত না। কারণ, কিছু আনুষ্ঠানিকতা আছে। তবে কাল না খেললেও দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে খেলবো।
জাগো নিউজ: ক্লাবটির সাথে কতদিনের চুক্তি হয়েছে আপনার?
সানজিদা আক্তার: আমি এক মাসের চুক্তি করে এসেছি।
জাগো নিউজ: অনেকটা হঠাৎই আপনার নেপালের লিগে যোগ দেওয়া। যোগাযোগ কি আগে থেকেই ছিল?
সানজিদা আক্তার: যোগাযোগ হয়েছিল। প্রথমে আমি খেলতে চাইনি। পরে রাজি হয়েছি। তাই হুট করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলে আসা।
জাগো নিউজ: সর্বশেষ পুলিশ এফসির হয়ে ঘরোয়া লিগ খেলেছিলেন। নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট?
সানজিদা আক্তার: চেষ্টা করেছি সেরাটা খেলার। ১০ ম্যাচ খেলে ৭টি গোল করেছি। লিগে আমাদের দল চার নম্বর হয়েছে।
জাগো নিউজ: আপনি ভুটানের লিগেও খেলেছেন। ওই লিগে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কী বলবেন?
সানজিদা আক্তার: থিম্পু সিটিতে খেলেছিলাম। তবে বেশি ম্যাচ খেলা হয়নি। দুই ম্যাচ খেলে দুটি গোল করেছিলাম।
জাগো নিউজ: নেপালের এই ক্লাবে আর কোনো বিদেশি ফুটবলার আছে?
সানজিদা আক্তার: আসলে আমি কিছু সময় আগে এসেছি। ক্যাম্পে উঠে এ মূহূর্তে আমি ডিনার করছি আর আপনার সাথে কথা বলছি। খোঁজখবর সেভাবে নেওয়া হয়নি। তবে শুনেছি আমাদের ক্লাবে একজন ভুটানি ফুটবলার আছেন। পরিচয় হয়নি এখনো।
জাগো নিউজ: সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
সানজিদা আক্তার: আপনাকেও ধন্যবাদ।
আরআই/এমএমআর/এমএস
সর্বশেষ - খেলাধুলা
- ১ ‘কীভাবে যেন বারবার ইতিহাসের অংশ হয়ে যাই’
- ২ রানআউট ইস্যুতে আগাকে দায়ী করে বাংলাদেশের পক্ষই নিলো এমসিসি
- ৩ আইসিসির সঙ্গে কথা বলেই সকল সিদ্ধান্ত নেব: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- ৪ বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়টি তদন্ত করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
- ৫ বুলবুলের একার সিদ্ধান্তেই কি এনএসসিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসলো বিসিবি?