ইরান বিশ্বকাপ খেলবেই, কোনো ‘প্ল্যান বি’ নেই: ফিফা সভাপতি
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কার্যত দূর করে দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ‘প্ল্যান এ-ই একমাত্র পরিকল্পনা’, অর্থাৎ কোনো বিকল্প ছাড়াই বিশ্বকাপে খেলবে ইরান।
তুরস্কের আনতোলিয়ায় কোস্টারিকার বিপক্ষে ইরানের প্রস্তুতি ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইনফান্তিনো বলেন, বর্তমান জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও ফিফার লক্ষ্য হচ্ছে ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্বকে এক করা। তিনি আশ্বাস দেন, বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ইরানকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে এবং তাদের জন্য ‘সেরা পরিবেশ নিশ্চিত’ করা হবে। ইরান কোস্টারিকাকে হারিয়েছে ৫-০ গোলে।
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হবে ১০ জুন, যৌথভাবে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা। এই আসরে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং মোট ম্যাচ হবে ১০৪টি- যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
তবে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয় মূলত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে ঘিরে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যার ফলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। তারা গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোতে আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছিল।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান দলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিতর্ক আরও বাড়ে।
কিন্তু ফিফা সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের সূচি বা ভেন্যুতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না এবং ড্র অনুযায়ীই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ইরান গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিশর-এর বিপক্ষে খেলবে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে।
ইরান এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে চতুর্থবারের মতো এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত তারা কখনও নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি- এবার সেই লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে দলটি।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দলের মানসিক দিকেও। কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ইরানের খেলোয়াড়রা যুদ্ধাহত শিশুদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আবেগঘন বার্তা দেয়। এ ম্যাচে তারা ৫-০ গোলের বড় জয় তুলে নেয়, যা তাদের প্রস্তুতির ইতিবাচক দিকও তুলে ধরে।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও কূটনৈতিক চাপের মধ্যেও ফিফার দৃঢ় অবস্থান পরিষ্কার—ইরান বিশ্বকাপ খেলবে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অংশ নেবে। ফুটবলের মাধ্যমে ঐক্য ও শান্তির বার্তা ছড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
আইএইচএস/