বাফুফের ৫৮৭ কোটি টাকার প্রকল্প
এখনো আশা ছাড়েননি কাজী সালাউদ্দিন
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাম্প্রতিক সময়ের বড় অস্বস্তি, সরকারের কাছে জমা দেওয়া ৫৮৭ কোটি টাকার প্রকল্প। দেশের ফুটবলের পুনর্জাগরণসহ পুরুষ ও নারীদের শক্তিশালী জাতীয় দল গঠনের লক্ষ্যে বছরব্যাপি নানা প্রতিযোগিতা আয়োজন, প্রশিক্ষণ ও ফুটবল কাঠামো শক্তিশালী করতে সরকারের কাছে জমা দেওয়া এই উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অসম্মতির পর বেকায়দায় পড়েছে দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি।
যার তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নারী ফুটবলে। টাকার অভাবে জাতীয় নারী ফুটবল দলকে অলিম্পিক বাছাই খেলাতে মিয়ানমার পাঠাতে পারেনি বাফুফে। যে কারণে, বাফুফেকেও পড়তে হয়েছে তীব্র সমালোচনার মুখে। একদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া তার কোনো উপায় ছিল না।
তাহলে কি পাঁচ বছরের এই প্রকল্প পাস হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছে বাফুফে? এমন প্রশ্ন করা হলে মঙ্গলবার বাফুফে সভাপতি কাজী মো. বললেন, ‘না। এখনো আশা ছাড়িনি। এটা পাশ হবে। আমি আজই সকালে এই প্রকল্প নিয়ে অনেক কাজ করেছি। কথা বলেছি, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজনের সঙ্গে। আশা করছি, সহসাই এ কাজের অগ্রগতি হবে।’
এই প্রকল্পের আওতায় যে কাজগুলো করবে বাফুফে তার অন্যতম হচ্ছে পুরুষ ও নারী জাতীয় দলকে শক্তিশালী করা। সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসার পর নারী ফুটবল খেলোয়াড়দের বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাফুফে সভাপতি, তা পূরণ করতে কোন সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে তিনি।
নারী ফুটবলারদের পেছনে বাফুফের বিশাল ব্যয় বিফলে যায়নি। নারী দল সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেটা প্রমানও করেছে। কিন্তু পুরুষ ফুটবল দল নিয়ে কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছেন না বাফুফে সভাপতি। বিদেশি কোচিং স্টাফ, বিদেশি কন্ডিশনিং ক্যাম্প করিয়েও ফলাফল শূন্য। এ অবস্থা থেকে কি কোনো পরিত্রাণ নেই?
‘আছে। দেখি, আমাদের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) পাশ হয়ে গেলে বছরে ১০০ কোটি টাকা পাবো। তখন জাতীয় (পুরুষ) দল নিয়ে আমার বিশেষ একটা পরিকল্পনা আছে। আমি কিছু খেলোয়াড়কে বেতনের আওতায় নিয়ে আসবো। যে পরিমাণ বেতন ওরা এখন ক্লাব থেকে পায়, তেমনই বেতন দেওয়া হবে। চুক্তি করবো মাত্র চার মাসের জন্য। পারফরম্যান্স ভালো হলে টিকবে, না হলে বাদ। তখন শক্তিশালী একটি জাতীয় দল হবে বলেই আমার বিশ্বাস’-বলেছেন বাফুফে সভাপতি।
এখনও তো দলের পেছনে কম ব্যয় হয় না। তারপরও কেন রেজাল্ট পাওয়া যাচ্ছে না? বাফুফে সভাপতির জবাব, ‘ফুটবলাররা সারা বছর ক্লাবের অধীনে থাকে। দুই-একটা ক্লাব ছাড়া বাকিগুলোয় প্রপার ট্রেনিং হয় না। তাই জাতীয় দল যাদের ডাকা হয়, তাদের অনেকেই পুরো ফিট থাকে না। অনেক ফুটবলার আছে, যারা বেশি টাকা পেয়ে কোনো ক্লাবে গিয়ে সাইডলাইনে বসে থাকে। এখানে ক্লাবের কোনো দোষ নেই। ফুটবলার যদি খেলার চেয়ে টাকাকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাহলে অন্যদের কী করার আছে? আরেকটা বিষয়, আমি সব সময়ই বলি, আমাদের ক্লাব দল যতদিন এএফসি কাপে ভালো ফলাফল না করবে, ততদিন জাতীয় দলের পারফরম্যান্স ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কম।’
সরকারকে দেওয়া ৫ বছরের এই উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে প্রথমে সরকারের কাছে চাওয়া হয়েছিল ৪৫০ কোটি টাকা। নারী ফুটবল দল সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ‘প্রকল্প যাচাই কমিটি’র সুপারিশক্রমে ডিপিপি সংশোধন করে ১৩৭ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫৮৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। মেয়েরা সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাই তাদের জন্য ব্যয় বাড়ানো উচিত-এই যুক্তিতে ‘প্রকল্প যাচাই কমিটি’ ডিপিপি সংশোধন করে টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে ছেলে ও মেয়েদের চারটি একাডেমির জন্য ৩৫৭ কোটি টাকা। এর পরই রয়েছে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ৯৭ কোটি টাকা এবং কোচদের বেতনের জন্য ৯৩ কোটি টাকা।
আরআই/এমএমআর/এমএস