ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

বয়কটের হুমকি পেরিয়ে আজ কলম্বোয় মহারণ

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯:৫৪ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আইসিসির যেকোনো আসরেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। তবে এবার সেই ম্যাচ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ম্যাচটি বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। পরে তিন শর্তে ম্যাচটি খেলতে রাজি হয় পিসিবি।

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচটি না হলে বিরাট অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো আইসিসিকে। আইসিসি আর ব্রডকাস্টারদের ক্ষতি হতে পারতো ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। যদিও সেই বিপদ আপাতত কেটে গেছে। দুই দেশের সমর্থকরাও চেয়েছিলেন যাতে করে ম্যাচটা মাঠে গড়ায়। ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও জানিয়েছিলেন, টিকিট কাটা হয়ে গেছে, আমরা কলম্বো যাচ্ছি। আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কাও অনুরোধ জানায় পাকিস্তানকে ম্যাচটি খেলার জন্য। বিক্রি হয়ে গেছে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ৩৫ হাজার টিকিট।

তবে দুই দেশের এমন উত্তাপটা এবারই প্রথম নয়। সবশেষ গতবছরের এপ্রিলে কাশ্মিরের পেহেলগামে বন্দুকধারিদের হামলায় ২৬ জন নিহতের ঘটনায় পাকিস্তানে আক্রমণ চালায় ভারত। তখনও ভারতের পক্ষ থেকে দাবি ওঠে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কটের। শেষ পর্যন্ত সেটি না হলেও পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। সেটি নিয়েও তৈরি হয় নানা বিতর্কের। পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন ভারত ট্রফি নেয়নি এসিসি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির হাত থেকে।

গতকাল কলম্বোতে সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য ক্রিকেটের চেতনাকে সমুন্নত রাখার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আগা। তিনি বলেন, ‘খেলাটা ক্রিকেটের চিরাচরিত চেতনার মধ্যেই হওয়া উচিত। আমি কী আশা করি সেটা বিষয় নয়। ক্রিকেট শুরুর পর থেকে যেভাবে খেলাটা হয়ে আসছে, সেভাবেই এটা খেলা উচিত। বাকি সিদ্ধান্ত তাদের (ভারত), তারা যা খুশি করতে পারে।’

রাজনৈতিক উত্তাপ এই ম্যাচটার ওপর চিরকালই থাকবে। তবে মাঠের খেলা বয়কট না করা ক্রিকেটের জন্যই সুখবর। দুই দেশের ভক্তরা ছাড়াও ক্রিকেটবিশ্বের কোটি-কোটি দর্শকরা চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় থাকে এই দুই দলের লড়াই দেখার জন্য।

বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে কেবল একবার জয় পেয়েছে পাকিস্তান। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরের ফাইনালে এই ভারতের বিপক্ষেই হেরে শিরোপাবঞ্চিত হয়েছিল পাকিস্তান। তবে সেসব ভুলে গিয়ে ভালো কিছুর প্রত্যাশা সালমানের কন্ঠে, ‘বিশ্বকাপে তাদের বিপক্ষে আমাদের রেকর্ড ভালো নয়। কিন্তু প্রতিটি ম্যাচই একটি নতুন দিন। জিততে হলে সেদিন ভালো ক্রিকেট খেলতেই হবে। ইতিহাস বদলানো যায় না, তবে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়। আমরা সেই শিক্ষাগুলো নিয়েছি এবং ভালো পারফরম্যান্স করে জয়ের চেষ্টা করব।’

তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে রেকর্ড ভালো থাকলেও অতীত নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব, ‘অতীতে আপনি যা করেছেন, তা মাঠে নিয়ে আসা যায় না। কারণ কখনও কখনও সেগুলো আত্মতুষ্টি তৈরি করতে পারে। তখন আপনি খেলার আগেই নিজেকে এগিয়ে ভাবতে পারেন। যদি খেলায় নিয়ন্ত্রণ রাখতে চান এবং মনকে শান্ত রাখতে চান, তাহলে সব সময় নতুনভাবে শুরু করতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আগামীকালের জন্য এটাই আমাদের সেরা পদ্ধতি হবে। এটিকে একেবারে নতুন ম্যাচ হিসেবে দেখা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা একটি স্বাভাবিক লিগ ম্যাচ হিসেবে নেওয়া। এতে আপনি সতেজ থাকতে পারবেন, ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং মানসিকভাবে শান্ত থাকতে পারবেন।’

টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের ১৬ বারের দেখায় ১৩ বার জয় পেয়েছে ভারত আর তিনবার পাকিস্তান। দুই দলের সবশেষ পাঁচ দেখায় সবকটিতে জয় পেয়েছে ভারত। একটি ম্যাচও জিততে পারেনি পাকিস্তান। চলমান টুর্নামেন্টে দুই দলের শুরুটা হয়েছে দারুণ। নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট পাকিস্তানের। সমান ৪ পয়েন্ট ভারতেরও যুক্তরাষ্ট্র ও নামিবিয়াকে হারিয়ে।

আইএন