‘সরকার বেতন দিলে খেলাধুলায় সবার আগ্রহ বাড়বে’
এই প্রথম সরকার ক্রীড়াবিদদের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য পেশাদার কাঠামোয় নিতে আসার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এরই মধ্যে ক্রীড়াঙ্গনে বেতন কাঠামো তৈরির নির্দেষ দিয়েছেন ফেডারেশনগুলোকে।
তিনি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের তালিকা দিতে বলেছেন তিনি। একটি নীতিমালা তৈরি করে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের চুক্তির আওতায় এনে বেতন দেবে সরকার।
সরকারের এমন ঘোষণায় খেলোয়াড়দের মধ্যে খুশির বন্যা। অনেক গরীব ঘরের সন্তান আছেন যাদের ওপর নির্ভরশীল তাদের পরিবার। কিন্তু খেলাধুলা করে তারা পরিবারকে সেভাবে সহযোগিতা করতে পারেন না।
এই যেমন নারী কাাবাডি খেলোয়াড় ময়না আক্তার সেতু সরকারের এই সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংকা করে বললেন- এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে সবার মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে। বরিশালের গৌরনদী থেকে তিনি জাগো নিউজকে জানাচ্ছিলেন তার প্রতিক্রিয়া।
প্রশ্ন: আপনি নিশ্চয়ই জেনেছেন সরকার জাতীয় দলের ক্রীড়াবিদদের জন্য বেতন বা সম্মানী দিতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কি?
উত্তর: এটা অবশ্যই একটা ভালো খবর। আমরা অনেক ক্রীড়াবিদ আছি যারা সাধারণ পরিববার থেকে উঠে এসেছি। সরকার থেকে যদি বেতন হিসেবে কিছু টাকা পাওয়া যায় তা হবে অনেক বড় ব্যাপার।
প্রশ্ন: দেশে ৫৩ টার মতো খেলা। সব খেলার জাতীয় দলের ক্রীড়াবিদদের বেতন দিতে সরকারের বিশাল বাজেটের প্রয়োজন। তাই টাকার পরিমাণ কতটা সম্মানজনক হবে তা নিয়ে কথা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?
উত্তর: আমি মনে করি টাকার পরিমান মুখ্য নয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের জন্য অনুরেপ্ররণা হবে সেটাই বড় বিষয়। আমি মনে করি, এই সিদ্ধান্তে খেলার প্রতি সবার আগ্রহ বাড়বে।
প্রশ্ন: আপনি কত সালে কাবাডি খেলা শুরু করেছেন? ক্যারিয়ার নিয়ে যদি সংক্ষেপে কিছু বলতেন।
উত্তর: আমি আগে অ্যাথলেটিকস খেলতাম। আমার ইভেন্ট ছিল উচ্চ লম্ফ। আমার স্কুলের স্যার বরিশাল বিভাগীয় কাবাডি দলের জন্য পছন্দ করেন। ২০২১ সালে আমি ঢাকায় প্রথম খেলি বাংলাদেশ গেমসে।
প্রশ্ন: কখনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলেছেন?
উত্তর: গত বছর বাহরাইনে হওয়া ইয়ুথ এশিয়ান গেমসে খেলেছিলাম। সেটাই ছিল আমার প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া। জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছিলাম। তবে এখনো খেলা হয়নি।
প্রশ্ন: পরিবারের অন্য কেউ খেলাধুলা করেন?
উত্তর: আমি ছাড়া পরিবারের কেউ খেলাধুলা করেন না। আমরা দুই ভাই ও দুই বোন। আমি সবার ছোট। বরিশালের গৌরনদী ডিগ্রি কলেজ থেকে আমি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবো। আমার বাবা অসুস্থ্য। আমার বয়স যখন মাত্র ৬ মাস তখন সড়ক দূর্ঘটনায় গুরতর আহত হয়েছিলেন বাবা। পা ভেঙ্গে যায়। কোনো কাজ করতে পারেন না। এমনকি ঠিক মতো হাঁটতেও পারেন না একা একা।
প্রশ্ন: কাবাডি খেলে কি কোনো টাকা-পয়সা পান? আপনাদের সংসার চলে কিভাবে?
উত্তর: যখন কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ক্যাম্প হয় তখন কিছু টাকা পাই। সেই টাকা দিয়ে বাবা-মাকে অল্প সহযোগিতা করতে পেরেছি। আমাদের মতো সাধারণ পরিবার থেকে যারা এসে খেলাধুলা করেন তারা সরকার থেকে নিয়মিত টাকা পেলে অনেক উপকার হবে।
প্রশ্ন: আপনি এখনো জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাননি। যদি সুযোগ পান তাহলে লক্ষ্য কি থাকবে?
উত্তর: জাতীয় দলে সুযোগ পেলে অবশ্যই টিকে থাকার চেষ্টা করবো। জানি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে টিকতে হবে। সেটাই করতে হবে আমাকে।
প্রশ্ন: ধন্যবাদ।
উত্তর: আপনাকেও ধন্যবাদ।
আরআইএইচএস/