ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

‘এখন মনে হয় কাবাডি খেলায় এসে ভালোই করেছি’

রফিকুল ইসলাম | প্রকাশিত: ০৭:২২ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২২

গত সোমবার পল্টন ময়দান সংলগ্ন কাবাডি স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের জার্সি উন্মোচন হলো ঘটা করে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টে এই জার্সি পরেই খেলবেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।

জার্সি উন্মোচন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠান বিছানায় শুয়েই দেখেছেন জাতীয় কাবাডি দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মাসুদ করিম। ইনজুরির কারণে তার যে ঘরের ম্যাটের এই টুর্নামেন্ট খেলা হচ্ছে না।

গত বছরের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মাসুদ করিমের বাঁ-পায়ের গোড়ালি ভেঙে যায়। যে কারণে তিনি মিস করেছেন ভারতের প্রো-কাবাডি খেলাও। গত বছর প্রথম বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডির ফাইনাল খেলা মাসুদ এবারের টুর্নামেন্টে দর্শক।

বিছানায় শুয়ে-বসেই তিনি দেখবেন সতীর্থদের খেলা। দুর থেকে শুভ কামনা জানাবেন দলকে। দেশের অন্যতম সেরা এই রেইডার দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু কাপ শুরুর আগে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও প্রত্যাশা নিয়ে ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জাগো নিউজকে।

জাগো নিউজ : কেমন আছেন? পায়ের অবস্থা এখন কেমন?
মাসুদ করিম : আছি ভালো। পায়ের অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে। ডাক্তার বলেছেন, এভাবে উন্নতি হতে থাকলে দু-তিন মাস পর হাঁটতে পারবো।

জাগো নিউজ : প্রথম বঙ্গবন্ধু কাপের শুধু ফাইনাল খেলেছিলেন। আপনি চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য; কিন্তু এবার তো পুরো টুর্নামেন্টই মিস করছেন?

মাসুদ করিম : আসলে এটা দুর্ভাগ্য। গত বছর আমার করোনা ছিল বলে সব ম্যাচ খেলতে পারিনি। ফাইনালের আগের দিন করোনা নেগেটিভ হয়েছিলাম। কোচ আমাকে ফাইনালে ডেকেছিলেন, খেলেছিলাম।

জাগো নিউজ : আপনার কি মনে হয় বাংলাদেশ শিরোপা ধরে রাখতে পারবে? কোন দেশকে প্রধান প্রতিপক্ষ ভাবছেন?

মাসুদ করিম : এবার প্রস্তুতি ভালো। সিনিয়-জুনিয়র মিলিয়ে দলটাও ভালো। আমার সতীর্থদের প্রতি বিশ্বাস আছে। তারা ভালো খেলে চ্যাম্পিয়নশিপ ধরে রাখবে।

গতবার আমরা ফাইনালে কেনিয়াকে হারিয়েছিলাম। ভালো দল। এবারও তারা ভালো কিছু করার চেষ্টা করবে। কেনিয়ার পাশাপাশি শ্রীলংকাকেও আমি শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরবো। এই দুটি দলের যে কেউ আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হতে পারে।

Masud Karim

জাগো নিউজ : ইদানীং তো কাবাডি বেশ জমজমাট। প্রতিটি ঘরোয়া আয়োজনই হয় উৎসবমুখর পরিবেশে। এই পরিবর্তনকে কীভাবে দেখছেন?

মাসুদ করিম : সত্যি বলতে কি এখন মনে হয় কাবাডি খেলায় এসে ভালোই করেছি। কারণ, এখন অনেক প্রচার হচ্ছে। টিভিতে খেলা সরাসরি দেখাচ্ছে। আমরা যারা খেলি তাদের এলাকার মানুষ দেখছেন, আত্মীয়স্বজনরা দেখছেন। এলাকায় এলে সবাই অন্যরকমভাবে দেখছেন। আমার পূর্বসূরিরা কিন্তু এমন কাভারেজ পাননি। কাবাডি খেলোয়াড় হিসেবে আমি গর্ববোধ করি।

জাগো নিউজ : জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান দেখেই মনে হয়েছে পুরো টুর্নামেন্ট দারুণ জমজমাট হবে। সতীর্থরা আপনাকে মিস করবেন, যেমন আপনি সবকিছু মিস করছেন।

মাসুদ করিম : আমি ময়মনসিংহে থাকলেও আমার হৃদয় পড়ে থাকবে কাবাডি কোর্টে। কারণ, কাবাডি আমরা হৃদয়ে গেঁথে আছে।

জাগো নিউজ : আপনার বাড়ি তো হালুয়াঘাটে। ফুলপুর থাকছেন কেন?
মাসুদ করিম : আমার ছেলের বয়স সাড়ে ৫ বছর। ফুলপুরে একটা মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছি। তাই এখানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছি।

জাগো নিউজ : আপনার ভারতের প্রো-কাবাডিতে খেলার কথা ছিল। চোট পেয়ে আর খেলা হয়নি।

মাসুদ করিম : হ্যাঁ। উত্তর প্রদেশ (ইউপি) যোদ্ধা আমাকে নিয়েছিল। দলটি আমাকে ১০ লাখ রুপি দিয়ে কিনেছিল। ২০-২১ নভেম্বরের দিকে আমার ভারত যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৩ নভেম্বর গোড়ালি ভেঙ্গে যায়। আমি দু’বার (২০১৮ ও ২০১৯) ওই দলেই খেলেছি। করোনার কারণে ২০২০ সালে হয়নি। এবার গেলে তৃতীয়বার হতো।

জাগো নিউজ: আপনার গোড়ালি ভাঙার পর চিকিৎসার জন্য ফেডারেশনের ভূমিকা কেমন ছিল?

মাসুদ করিম: ফেডারেশন আমাকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছে। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক গাজী মো. মোজাম্মেল হক স্যার সব সময় আমার খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। দরকার হলে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর আশ্বাসও দিয়েছেন তারা।

জাগো নিউজ : আপনি তো ২০১৪ সাল থেকে টানা জাতীয় দলে খেলেছেন। নাকি গ্যাপ আছে?

মাসুদ করিম : ২০১৪ এশিয়ান গেমসে আমার জাতীয় দলে অভিষেক। ২০১৬ সালের এসএ গেমসের ক্যাম্প থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম। ওই বছর এসএ গেমস ও ভারতে অনু্ষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলিনি। তাছাড়া জাতীয় দলে সব সময় ছিলাম। অধিনায়কত্ব করি ২০১৭ সালে নেপালে চার জাতি টুর্নামেন্ট থেকে।

জাগো নিউজ : বলছিলেন কাবাডি খেলোয়াড় হিসেবে গর্ববোধ করেন। কখনো কি মনে হয় অন্য খেলায় গেলে এর চেয়ে ভালো হতো?

মাসুদ করিম : না। কারণ, আমি এ পর্যন্ত এসেছি কাবাডি খেলোয়াড় হিসেবেই। আমাকে সবাই কাবাডির মাসুদ করিম বলেই চিনেন, সম্মান করেন। এটাই আমার কাছে বড় পাওয়া। তাছাড়া কাবাডি খেলেই আমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছি। ছোট ভাইকে লেখাপড়া করিয়েছি, তার চাকরিও হয়েছে। সবকিছুই আমরা কাবাডি খেলার কারণে।

জাগো নিউজ : জাতীয় দলের সতীর্থদের জন্য কি বার্তা থাকবে আপনার?
মাসুদ করিম : এখনো দল চূড়ান্ত হয়নি। যারা চূড়ান্ত দলে জায়গা পাবে তাদের উদ্দেশ্যে আমার একটা বার্তা থাকবে-দেশের জন্য খেলতে হবে। নিজেদের সেরাটা দিতে হবে এবং চ্যাম্পিয়নশিপ ধরে রাখতে হবে।

জাগো নিউজ : আপনাকে ধন্যবাদ এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা থাকলো।
মাসুদ করিম : আপনাকেও ধন্যবাদ।

আরআই/আইএইচএস