ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

ফাইনালে টসই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ

প্রকাশিত: ১০:৪০ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০১৬

বিশ্বকাপের ফাইনালের সামনে দাঁড়িয়ে আসলে কোনভাবেই বলা যায় না কে ফেভারিট। ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ দু’দলই খুব ভালো খেলেছে। দু’দলের খেলাই ভালো লেগেছে। বিশেষ করে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে দু’দলই সমান সমান। তবে এই ম্যাচে আমার মনে হচ্ছে টসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উইকেট কেমন হবে মোটেও বলা যাচ্ছে না। কারণ, এই মাঠে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে ছিল ব্যাটিং বান্ধব উইকেট; কিন্তু এরপর দেখলাম এই মাঠে যতগুলো খেলা হয়েছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড, ভারত-পাকিস্তান, সবগুলো খেলাতেই ছিল বোলিং বান্ধব উইকেট। তবে ফাইনালে আশা করবো একটা ব্যাটিং উইকেট হবে এবং আমরা যারা খেলা দেখবো কিংবা যারা রানের জন্য খেলা দেখতে যাবে, তারা যেন বিনোদিত হতে পারে।

দুই টি-টোয়েন্টিতে খুব ভালো দল। সুতরাং, এই ম্যাচে টসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এ কারণে যে, দুটো দলই রান চেজিংয়ে খুব ভালো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাওয়ার বেশি ইংল্যান্ডের চেয়ে; কিন্তু ইংল্যান্ডের আবার টেকনিক চমৎকার। ওদের জো রুট, জস বাটলার চমৎকার খেলছে। জ্যাসন রয় ওপেনিংয়ে প্রতিটি ম্যাচের শুরুটা ভালো করে দিচ্ছে।

দু’দলেরই স্পিনার আছে ভালোমানের। সুলেমান বেন আর স্যামুয়েল বদ্রি। ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ এবং মঈন আলি। এ কারণেই আমার কাছে মনে হচ্ছে টসটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এই ম্যাচে। ফলে এখনই বলা যাচ্ছে না কোন দল এগিয়ে। তবে আগের রেকর্ড যদি একটু ঘাঁটি, তাহলে দেখবো, ইংল্যান্ড শেষ চারটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে হেরেছে।

এই ইতিহাস দেখলে অবশ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এগিয়ে রাখতে হবে; কিন্তু যেহেতু এটা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ সেহেতু ইংল্যান্ড এই ম্যাচে ভালো কিছু করতে চাইবে। আবার তারা বেশ কিছুদিন ধরে খুব ভালো খেলছে। জয়ের ব্যাপারে তাদেরও অভ্যাস এবং আত্মবিশ্বাস রয়েছে। যদিও এই বিশ্বকাপে একটি ম্যাচে হেরেছে ইংল্যান্ড এবং সেটা এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথেই।

ক্রিস গেইল প্রথম ম্যাচেই ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করার পর সবাই ভেবেছিল এই বিশ্বকাপটা বুঝি তারই হতে যাচ্ছে। কিন্তু পরের চার ম্যাচে তাকে আর খুঁজে পাওয়া গেলো না। তবে ক্যারিবীয়রা যে শুধু গেইল নির্ভর নয়, তা তারা প্রমাণ করেছে। পরের ম্যাচগুলোতে তাদেরকে জিতিয়েছে একএকজন ভালো খেলে। একই সাথে এটাও বলবো, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে তারা যে সেলিব্রেশন চালু করেছে সে কারণে আমার কাছে মনে হচ্ছে তারা চাইবে অবশ্যই শেষটা ভালো করে আরও উৎসবে মাততে।

বিশ্বকাপের ফাইনালের মত মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং তার ভক্তরা চাইতে গেইল জ্বলে উঠুক। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তাকে জ্বলে উঠতে দেখিনি এখনও। ফাইনাল বলে হয়তো সে চেষ্টা করবে ভালো কিছু করার। ভক্তরাও তার কাছ থেকে ভালো একটা ইনিংস আশা করবে। গেইল যদি অন্তত প্রথম তিনটা ওভার টিকে থাকতে পারে, তাহলে তারকাছ থেকে ভালো কিছু আশা করতে পারি। তবে নতুন বলে যখন সুইং করে, তখন একটু কঠিনই হয়ে যায়।

ইংল্যান্ডও কিন্তু পিছিয়ে থাকবে না। তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে প্রথম ম্যাচ হেরেছে সত্য, কিন্তু এই ম্যাচে আমার মনে হয় ইংল্যান্ড ফিল্ডিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে। ব্যাটিংয়ে আমি বলবো দু’দলই প্রায় সমান। তবে টিম হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে আমার কাছে মনে হয় ইংল্যান্ড একটু এগিয়ে, একটু ভালো। কারণ হলো, ওরা একটু শৃঙ্খলাবদ্ধ টাইপের। বোলিংয়েও এগিয়ে থাকবে। ওদের ক্রিস জর্ডান নিখুঁত বোলিং করছে। এছাড়া ডেভিড উইলিও দেখছি খুব সুন্দর সুইং করাতে পারে।  

তবে এটা যেহেতু টি-টোয়েন্টি ভার্সনের খেলা সে কারণে এগিয়ে থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কারণ ওদের দলে প্রচুর ম্যাচ উইনার। এছাড়া তাদের সাত-আটজন ক্রিকেটার রয়েছে যারা আইপিএল-বিগব্যাশ এ ধরনের ক্রিকেট খেলে অভ্যস্ত। তবে ইংল্যান্ডেও ম্যাচ উইনার রয়েছে। ভালো ব্যাটসম্যান আছে। জো রুট, জস বাটলার কিংবা জ্যাসন রয়রা খুব ভালো খেলছে। দলটির মূল অ্যাডভান্টেজ হলো, প্রথম বল থেকেই তারা মারমুখি। ফলে প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিতে পারছে এভাবে খেলে।

ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা কিন্তু বেশ উন্নতমানের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের মাঝে রয়েছে শুধু পাওয়ার। তারা পাওয়ার দিয়েই চেষ্টা করে খেলার। আমার কাছে দল হিসেবে ইংল্যান্ডকেই বেশ ভারসাম্যপূর্ণ মনে হয়; কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটা টি-টোয়েন্টি ভার্সনের জন্য সেরা। দু’দলই খুব চমৎকার খেলছে।

এই ম্যাচে কী ফ্যাক্টর হতে পারে মূলতঃ টসই। কারণ, পরে যারা ব্যাট করবে তাদের জন্য ম্যাচটা সহজ হতে পারে। রাতের দিতে অনেক শিশির পড়ে। এবারের টুর্নামেন্টে ভারতের প্রায় সবগুলো ভেন্যুতেই এটা দেখা গেছে যে শেষের দিকে ব্যাটসম্যানদের জন্য সুবিধা। যদি না স্পিন উইকেট হয়।   


লেখক : বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক।

আইএইচএস/এসএইচএস