ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

পাওয়ার ক্রিকেটেরই জয় হয়েছে

প্রকাশিত: ০৮:৪৩ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৬

অসাধারণ একটি ম্যাচ দেখলাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এই জযের জন্য অভিনন্দন। ইংল্যান্ড অবশ্যই শক্তিশালি এবং শিরোপা পাওয়ার যোগ্য একটি দল; কিন্তু আগেরদিনই বলেছিলাম টি-টোয়েন্টি হলো পাওয়ার ক্রিকেটের খেলা। এখানে যে যত পাওয়ার দেখাতে পারবে, সে ততই এগিয়ে থাকবে। কার্লোস ব্র্যাথওয়েট যে শেষ ওভারে টানা চারটি ছক্কা মারলো সেটা শুধুমাত্র এক্সট্রা পাওয়ার থাকার কারণেই সম্ভব হয়েছে। এই একটি জায়গাতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে পিছিয়ে ইংল্যান্ড। সুতরাং ওয়েস্ট ইন্ডিজই যোগ্য চ্যাম্পিয়ন।

দিনটা ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই যেন। নারী টি-টোয়েন্টিতে দেখুন অস্ট্রেলিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্য। সেখানে টি-টোয়েন্টির ফাইনালে প্রথমবারেরমত উঠে এলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের নারীরা। আবারও দেখুন, টি-টোয়েন্টিতে এর আগে আটবার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, প্রতিবারই হেরেছে তারা; কিন্তু বিশ্বকাপে গত তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের ফাইনালেই হারিয়ে দিল ক্যারিবীয় নারীরা। কী অসাধারণ এক ম্যাচ ছিল সেটিও। পুরো ম্যাচটি এতটা সুন্দর ছিল যে, দেখে মনেই হয়নি নারীরা খেলছে না পুরুষরা খেলছে।

বিকালে জিতলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের নারীরা, তারই ধারাবাহিকতায় রাতে জিতল পুরুষ ক্রিকেট দল। এর আগে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনুধর্ব-১৯ বিশ্বকাপেরও শিরোপা জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বছরটা পুরোটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রইল। অথচ এই দলটির ক্রিকেটারদের কত সমস্যা। বোর্ডের সঙ্গে পারিশ্রমিকসহ নানান আর্থিক বিষয়ে ঝামেলা লেগেই থাকে। তবুও খেলার মাঠে কী আত্মনিবেদন! দেখলে অবাক হতে হয়। বিশ্বকাপ জয় আসলে এমন একটি দলের হাতেই মানায়, যারা মন-প্রাণ দিয়ে ক্রিকেট খেলে এবং ক্রিকেটকে ভালোবাসে।

ইডেন গার্ডেনের উইকেট ভেবেছিলাম হাই স্কোরিং হবে। যদিও বিকেলে এই উইকেটে আরেকটি ফাইনাল হয়েছিল এবং ওই ম্যাচে প্রায় ৩০০’র মত রান হয়েছিল। ফলে পরের ম্যাচে উইকেটটা একটু স্লো হয়ে পড়ে। তবে যত যাই হোক উইকেটটা ছিল স্পোর্টিং। না ব্যাটসম্যানদের জন্য না বোলারদের জন্য। পুরোপুরি প্রতিযোগিতামূলক।

খেলার শেষ ওভারের আগ পর্যন্ত বোঝা যায়নি কে জিততে যাচ্ছে। টি-টোয়েন্টি আসলে এমনই হওয়া উচিৎ। টান-টান উত্তেজনা না থাকলে, শেষ পর্যন্ত স্নায়ুক্ষয়ী পরিস্থিতি তৈরী না হলে তো টি-টোয়েন্টিরই আবেদন তৈরী হয় না। সে দিক থেকে অবশ্যই এটা একটা আদর্শ ম্যাচ। তারওপর বিশ্বকাপের ফাইনাল। এ ম্যাচের জন্য এমন একটি পরিস্থিতি তৈরী হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন ছিল।

পুরো ম্যাচের দিকে তাকালে কোন পর্যায়েই বলা যায়নি কোন দল জিততে। ইংল্যান্ড টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারালো। হেলস, জ্যাসন রয়, মরগ্যান। এদের আউট হয়ে যাওয়ার পর কিন্তু জো রুট আর জস বাটলার ধরে ফেলেন। শেষের আগে আবারও ক্যারিবীয় ঝড়; কিন্তু সেই ঝড় থামিয়ে ক্রিস জর্ডান আর ডেভিড উইলি যখন ইংলিশদের পৌঁছে দেন ১৫৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোরে।

এরপর ব্যাট করতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কী মহা বিপর্যয়। ১১ রানে নাই তিন উইকেট। সে জায়গা থেকে স্যামুয়েলস আর ডোয়াইন ব্র্যাভো মিল ৭৫ রানের জুটি গড়েন। আবার রাসেল আর স্যামি খুব দ্রæত আউট হয়ে গেলে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ পর্যন্ত স্যামুয়েলস আর ব্র্যাথ্রওয়েটই ম্যাচ বের করে আনে। এমনই পেন্ডুলামের মত ঢুলছিল আসলে ম্যাচ।

আর অসাধারণ ফিনিশিং দেখলাম শেষ ওভারে। ব্র্যাথওয়েট শুধুমাত্র হাতের জোরেই এমন অসাধ্য সাধন করেছে। ১৯ রানওে তখন এক ওভারে মামুলি মনে করলেন ব্র্যাথওয়েট। আর আগেরদিনই বলেছিলাম, ইডেনে টসটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সত্যিই, টস জিতেই ম্যাচের অর্ধেকটা জেতা হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই হলো।

সব মিলিয়ে অসাধারণ একটি ম্যাচ দেখলাম। ক্রিকেটে এ ধরনের ম্যাচ খুব কমই আসে। তেমনই ্এক কালজয়ী টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলো ভারতে।  প্রথমে ব্যাট করা দল সব সময়ই ছিল চাপে। যে কারনে দেখা গেছে রান তাড়া করা দলই অধিকাংশ সময় জয় পেয়েছে। ফাইনালেও ব্যতিক্রম হলো না। তারওপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিানয়ক ড্যারেন স্যামি যে তার দলে ১৫জনই ফিনিশার বলেছিলেন, সে কথার মর্যাদা রাখলেন ব্র্যাথওয়েট। গেইল থেকে শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইন-ফর্ম সবাই যেখানে ব্যর্থ হচ্ছিল সেখানে ব্র্যাথওয়েট হয়ে গেলেন নায়ক। এটা মূলতঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলেই সম্ভব হয়েছে।


লেখক: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক।

আইএইচএস/এসকেডি


   

আরও পড়ুন