ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. তথ্যপ্রযুক্তি

নির্বাচনের এসময় হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জারে অপরিচিত লিঙ্ক এলে সাবধান হোন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩:৩৩ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনি হাওয়া বইছে, এসব বিভিন্ন প্রার্থীদের ফোন কল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার বার্তা সব মিলিয়ে নাগরিকদের মোবাইল ইনবক্স ভরে ওঠে। কিন্তু এই সুযোগেই সক্রিয় হয়ে ওঠে সাইবার অপরাধীরা। ভোটের উত্তেজনা, রাজনৈতিক কৌতূহল আর দ্রুত তথ্য জানার আগ্রহকে টোপ বানিয়ে হ্যাকাররা ছড়ায় ম্যালওয়্যার লিঙ্ক, ফিশিং মেসেজ ও ভুয়া জরিপ ফর্ম। অসাবধানতাবশত একটি ক্লিকেই ফাঁস হতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য, এমনকি খোয়া যেতে পারে ব্যাংক হিসাবের টাকা।

কীভাবে টোপ ফেলে হ্যাকাররা?
নির্বাচনের সময় সাইবার অপরাধীরা সাধারণত কয়েকটি কৌশল নেয়-

১. ভুয়া প্রচার বার্তা
‘আপনার এলাকায় ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন হয়েছে’, ‘আপনার ভোটার আইডি আপডেট করুন’, ‘নতুন সরকারি অনুদান পেতে এখানে ক্লিক করুন’ এমন বার্তা পাঠিয়ে একটি লিঙ্ক দেওয়া হয়। লিঙ্কে ক্লিক করলেই নকল ওয়েবসাইটে নিয়ে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য চাইতে পারে।

২. ফিশিং মেইল বা মেসেজ
সরকারি সংস্থা বা নির্বাচন কমিশনের লোগো ব্যবহার করে ই-মেইল পাঠানো হয়। দেখতে একদম অফিসিয়াল মনে হলেও ভেতরের লিঙ্কটি ভুয়া। সেখানে নাম, এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর, ওটিপি বা ব্যাংক তথ্য দিলে তা সরাসরি হ্যাকারদের হাতে পৌঁছে যায়।

৩. ম্যালওয়্যার অ্যাপ বা ফাইল
‘ভোটের ফল লাইভ দেখুন’, ‘গোপন জরিপ রিপোর্ট ডাউনলোড করুন’ এমন প্রলোভন দেখিয়ে একটি ফাইল বা অ্যাপ ডাউনলোড করানো হয়। সেটি ইনস্টল করলে ফোনে স্পাইওয়্যার ঢুকে পড়ে, যা আপনার কল, মেসেজ, পাসওয়ার্ড পর্যন্ত নজরদারি করতে পারে।

৪. সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
কেউ নিজেকে প্রার্থীর প্রতিনিধি, জরিপকারী বা স্বেচ্ছাসেবক পরিচয় দিয়ে ফোন করে ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাইতে পারে। কখনো আবার সহানুভূতি বা ভয় দেখিয়ে তথ্য আদায় করা হয়।

হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জারে কেন বেশি ঝুঁকি?
হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় যোগাযোগমাধ্যম। এখানে বার্তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় পরিচিত কারও অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই লিঙ্ক পাঠানো হয়। ফলে সন্দেহ কম হয়। আবার গ্রুপ চ্যাটে একটি লিঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে কয়েক মিনিটেই শতাধিক মানুষ সেটিতে ক্লিক করতে পারেন। এছাড়া এনক্রিপ্টেড মেসেজিং হওয়ায় ভুয়া লিঙ্ক শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ব্যবহারকারীর সচেতনতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

কীভাবে বুঝবেন লিঙ্কটি সন্দেহজনক?
১. ওয়েবসাইটের ঠিকানায় বানান ভুল বা অদ্ভুত ডোমেইন (যেমন .xyz, .top ইত্যাদি)
২. অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য বা ওটিপি চাওয়া। জরুরি বা ভয়ভীতির ভাষা ‘এখনই ক্লিক করুন’, ‘না করলে আইডি বন্ধ হবে’
৩. অপরিচিত নম্বর বা প্রোফাইল থেকে বার্তা
৪. অতিরিক্ত লোভনীয় অফার বা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি

মনে রাখবেন, সরকারি সংস্থা কখনো হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে ব্যক্তিগত ব্যাংক তথ্য বা ওটিপি চায় না।

কী করবেন নিরাপদ থাকতে?
১. অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। যত আকর্ষণীয়ই মনে হোক, আগে যাচাই করুন। প্রয়োজনে গুগলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট খুঁজে নিন।

২. ওটিপি বা পাসওয়ার্ড কাউকে দেবেন না। ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্স বা ই-মেইলের ওটিপি শেয়ার করা মানেই অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে ফেলা।

৩. টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখুন। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ই-মেইল সবখানে দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু করলে হ্যাকের ঝুঁকি কমে।

৪. সফটওয়্যার আপডেট রাখুন। ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ আপডেট করলে নিরাপত্তা দুর্বলতা কমে।

৫. সন্দেহজনক মেসেজ রিপোর্ট করুন। হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে রিপোর্ট ও ব্লক অপশন ব্যবহার করুন।

৬. অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন। বিশ্বস্ত নিরাপত্তা অ্যাপ ফোনে রাখলে ম্যালওয়্যার শনাক্ত করা সহজ হয়।

যদি ভুলবশত লিঙ্কে ক্লিক করে তথ্য দিয়ে ফেলেন, তথ্য ফাঁস হলে কী করবেন?

১. সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলান
২. ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা হলে কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন
৩. সন্দেহজনক লেনদেন নজরে রাখুন
৪. প্রয়োজন হলে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করুন
৫. দ্রুত ব্যবস্থা নিলে বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

আরও পড়ুন
সোশ্যাল মিডিয়া নজর রাখছে আপনার ব্যক্তিগত জীবনেও
সত্যিই কি ভবিষ্যতে ফোন-কম্পিউটার থাকবে না?

কেএসকে

আরও পড়ুন