হোয়াটসঅ্যাপের সবুজ রঙে একঘেয়েমি? মনের মতো রঙে সাজিয়ে নিন
হোয়াটসঅ্যাপের একই সবুজ আইকন, একই চ্যাট স্ক্রিন, একই ব্যাকগ্রাউন্ড প্রতিদিনের ব্যবহারে প্রিয় অ্যাপও কখনো কখনো একঘেয়ে লাগে। অথচ এই অ্যাপই আমাদের ব্যক্তিগত আলাপ, অফিসের কাজ, পারিবারিক গ্রুপ, ছবি-ভিডিও সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু। তাই ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মকে নিজের মনের মতো সাজিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা অস্বাভাবিক নয়। লাইট মোড-ডার্ক মোড বদলানো বা আলাদা চ্যাটে আলাদা ওয়ালপেপার দেওয়ার সুবিধা আগেই ছিল। কিন্তু এবার কাস্টমাইজেশনের জগতে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন এক ডিজাইন আপডেটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে অ্যাপের চেহারা বদলে ফেলার একাধিক সুযোগ মিলতে পারে। শুধু চ্যাট ব্যাকগ্রাউন্ড নয়, হোম স্ক্রিনের আইকন থেকে শুরু করে অ্যাপের ভেতরের অ্যাকসেন্ট রং সবকিছুতেই আসতে পারে ব্যক্তিগত পছন্দের ছোঁয়া।
বিটা সংস্করণে ধরা পড়ল নতুন চমক। ফিচার ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ওয়েবিটাইনফোর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই নতুন কাস্টমাইজেশন সুবিধাগুলো দেখা গেছে হোয়াটসঅ্যাপের অ্যান্ড্রয়েড বিটা ভার্সন ২.২৬.৬.১-এ। আপাতত এটি ডেভেলপার ও নির্বাচিত পরীক্ষকদের জন্য সীমিত। তবে ভবিষ্যতের আপডেটে সাধারণ ব্যবহারকারীরাও এই সুবিধা পেতে পারেন।
বিটা সংস্করণে সাধারণত পরীক্ষামূলক ফিচার যুক্ত করা হয়। ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণের পর সেগুলো ধাপে ধাপে স্থায়ী আপডেটে আনা হয়। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, হোয়াটসঅ্যাপ কেবল ছোটখাটো পরিবর্তন নয় বরং অ্যাপের সামগ্রিক লুক ও অনুভূতিতে বড় রকমের পরিবর্তন আনতে চাইছে।
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনটি হলো একাধিক নতুন অ্যাপ আইকন যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা। রিপোর্ট বলছে, অন্তত ১৪টি ভিন্ন স্টাইল ও রঙের আইকন বেছে নেওয়ার সুযোগ মিলতে পারে। একক রঙের মধ্যে থাকতে পারে নীল, বাদামী, সবুজ, গোলাপি, বেগুনি, কমলা ইত্যাদি। আবার থিম-ভিত্তিক ডিজাইনেও আসতে পারে ‘অরোরা’, ‘গ্যালাক্সি’, ‘নিয়ন’, ‘স্পারকেল’, ‘ক্লে’ কিংবা ‘ফ্লাফি’ স্টাইল। অর্থাৎ আর তৃতীয় পক্ষের লঞ্চার বা আইকন প্যাকের দরকার হবে না অ্যাপের ভেতর থেকেই হোম স্ক্রিনে নিজের পছন্দের লুক সেট করা যাবে।
এই পরিবর্তন বিশেষ করে তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক, যারা ফোনের থিম ও ওয়ালপেপারের সঙ্গে মিলিয়ে অ্যাপ আইকন সাজাতে ভালোবাসেন। শুধু আইকন নয়, অ্যাপের ভেতরের অ্যাকসেন্ট কালারও বদলানো যাবে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ চ্যাট বুদবুদ, বাটন, হাইলাইট অংশ সবকিছুর রঙে আনা যাবে ব্যক্তিগত পছন্দ।
সম্ভাব্য রঙের তালিকায় রয়েছে রয়্যাল ব্লু, বেগুনি, প্রবাল, টিল, বাদামি, বেইজ, হলুদ, গোলাপি, লাল, কমলা, গাঢ় জলপাই সবুজসহ মোট ১৯টি বিকল্প। তবে যারা পুরোনো ক্ল্যাসিক সবুজ লুকেই স্বচ্ছন্দ, তাদের জন্য সেটিও থাকবে। এই বৈশিষ্ট্য ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রঙের প্রভাব ব্যবহারকারীর মুড ও অভিজ্ঞতায় বড় ভূমিকা রাখে। কেউ উজ্জ্বল রঙে প্রাণবন্ত অনুভব করেন, কেউ বা নরম টোনে শান্তি খুঁজে পান।
আজকের ডিজিটাল দুনিয়ায় কাস্টমাইজেশন শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয় এটি পরিচয়ের প্রকাশ। যেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোফাইল ছবি বা বায়ো দিয়ে নিজের পরিচয় তুলে ধরা হয়, তেমনি প্রতিদিন ব্যবহৃত অ্যাপের চেহারাও অনেকের কাছে ব্যক্তিত্বের অংশ হয়ে ওঠে।
হোয়াটসঅ্যাপ যেহেতু ব্যক্তিগত আলাপ থেকে অফিসিয়াল যোগাযোগ সব ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, তাই এর ইন্টারফেসে ব্যক্তিগত ছোঁয়া থাকলে ব্যবহার আরও আরামদায়ক হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা স্মার্টফোনের প্রতিটি অংশ কাস্টমাইজ করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই আপডেট হতে পারে বড় আকর্ষণ।
যদি এই আপডেট সফলভাবে রোল আউট হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত থিম সাপোর্ট, অ্যানিমেটেড আইকন বা ডাইনামিক কালার স্কিম যুক্ত হতে পারে। এছাড়া আলাদা আলাদা চ্যাটের জন্য আলাদা রঙের সেটিং বা সময়ভিত্তিক (দিন–রাত) অটো-থিম পরিবর্তনের মতো ফিচারও আসতে পারে।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপে ব্লক হয়েছেন নাকি নেটওয়ার্কে সমস্যা জানুন এক ক্লিকে
হোয়াটসঅ্যাপে এখন মেসেজ শিডিউল করতে পারবেন
কেএসকে