ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. তথ্যপ্রযুক্তি

দিনে কতক্ষণ ইয়ারবাড ব্যবহারে কানের ক্ষতি হতে পারে?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০:৩১ এএম, ১০ মার্চ ২০২৬

সকালে বাসে অফিসে যাওয়ার পথে গান শোনা, জিমে ব্যায়ামের সময় পছন্দের প্লেলিস্ট চালানো কিংবা রাতে একা বসে পডকাস্ট শোনা এসব মুহূর্তে অনেকের সঙ্গী হয়ে উঠেছে ছোট্ট একটি ডিভাইস, ইয়ারবাড। তারবিহীন এই ডিভাইসটি যেমন ব্যবহার সহজ, তেমনি আধুনিক জীবনযাপনের সঙ্গে মানানসইও।

তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে প্রায় সব বয়সী মানুষের মধ্যেই এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে আরামদায়ক ও সুবিধাজনক হলেও অতিরিক্ত সময় ধরে ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কানের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে সেটি নিয়ে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা এখন বেশ সতর্ক করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা ইয়ারবাডে নয় সমস্যা এর ব্যবহার পদ্ধতিতে। সাধারণ হেডফোন যেখানে কানের বাইরে থাকে, সেখানে ইয়ারবাড সরাসরি কানের ভেতরে বসানো হয়। ফলে শব্দের উৎস কানের পর্দার খুব কাছাকাছি চলে আসে। এতে শব্দের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয় এবং ভলিউম একটু বাড়ালেই কানের ভেতরের অংশে চাপ অনেক বেড়ে যেতে পারে।

মানুষের অভ্যন্তরীণ কানে খুব সূক্ষ্ম কিছু কোষ থাকে, যেগুলো শব্দের কম্পনকে স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে থাকলে এই কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এই কোষগুলো একবার নষ্ট হয়ে গেলে সাধারণত আর পুনরুদ্ধার হয় না। অর্থাৎ শব্দের কারণে শ্রবণশক্তি কমে গেলে তা অনেক সময় স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।

এই ঝুঁকি যে ক্রমশ বাড়ছে, তা বিভিন্ন গবেষণাতেও উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অনিরাপদভাবে হেডফোন বা ইয়ারবাড ব্যবহারের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১.১ বিলিয়ন তরুণ-তরুণী শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞরা এখন থেকেই নিরাপদভাবে অডিও শোনার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন।

কেবল ভলিউমই নয়, শোনার সময়কালও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা ধরে বেশি শব্দে গান বা অডিও শুনলে কানের ওপর চাপ বাড়ে। এক্ষেত্রে অনেক বিশেষজ্ঞ ৬০/৬০ নিয়ম অনুসরণ করার কথা বলেন। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ভলিউমের ৬০ শতাংশের বেশি নয় এবং একটানা ৬০ মিনিটের বেশি না শোনা। মাঝেমধ্যে বিরতি নিলে কান বিশ্রাম পাওয়ার সুযোগ পায় এবং ক্ষতির ঝুঁকি কমে।

অনেক সময় দেখা যায়, জিম, ব্যস্ত রাস্তা বা গণপরিবহনের মতো শব্দপূর্ণ পরিবেশে মানুষ নিজের অজান্তেই ভলিউম বাড়িয়ে দেয়। এটিকে বলা হয় লম্বার্ড ইফেক্ট। পেছনের শব্দ ঢাকতে গিয়ে আমরা অডিওর আওয়াজ বাড়িয়ে দিই, যা কানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন বা ইয়ারবাড ব্যবহার করলে ভলিউম বাড়ানোর প্রয়োজন কমে যায়।

দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহার করলে আরও কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কানের ভেতরে তাপ ও আর্দ্রতা জমে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার ঘন ঘন ব্যবহারে কানের ময়লা ভেতরে জমে যেতে পারে, যার ফলে কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, কান বন্ধ লাগা বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

সংগীত, অডিওবুক কিংবা পডকাস্ট এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তাই এগুলো শোনা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, বরং সচেতনভাবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভলিউম নিয়ন্ত্রণে রাখা, নির্দিষ্ট সময় পরপর বিরতি নেওয়া এবং প্রতিদিন কতক্ষণ ইয়ারবাড ব্যবহার করা হচ্ছে সেদিকে নজর রাখলেই কানের সুস্থতা অনেকটাই বজায় রাখা সম্ভব।

কেএসকে

আরও পড়ুন