ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ভ্রমণ

এভারেস্ট চূড়ার কতটা কাছে ব্যালকনি

ইকরামুল হাসান শাকিল | প্রকাশিত: ০৪:৩৫ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

খুব খেয়াল করে দেখুন, এভারেস্টের চূড়ার ঠিক কতটা নিকটে ব্যালকনি। সামিট থেকে ফিরে ব্যালকনিতে বসে একটু দম নেওয়া আরকি। এখানে বসেই অক্সিজেন সিলিন্ডার পরিবর্তন করা হয় সাধারণত।

এভারেস্টের সামিটের পথে এমন কিছু জায়গা আছে; যেগুলো কেবল ভৌগোলিক অবস্থান নয়, মানুষের মানসিক শক্তির পরীক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়। ব্যালকনি ঠিক তেমনই একটি স্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮,৪০০ মিটার উচ্চতায়, ক্যাম্প-৪ সাউথ কোলের ওপরে অবস্থিত এই ছোট সমতল অংশটি সামিট অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর একটি। এখান থেকে হাতের বামে মোড় নিয়ে রিজ ধরে ওপরে উঠে যেতে হয়।

রাতের অন্ধকারে সাউথ কোল ছেড়ে যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ ক্লান্তি, অক্সিজেনের ঘাটতি আর হাড়কাঁপানো ঠান্ডা পেরিয়ে ভোরের আলো ফোটার সময় ক্লাইম্বাররা পৌঁছায় ব্যালকনিতে। আমি ও গ্যালজেন যদিও রাতের অন্ধকারেই পেরিয়ে গেছি জায়গাটি। এখানেই সাধারণত বদলানো হয় অক্সিজেন সিলিন্ডার, ঠিক করা হয় মাস্ক, আর নেওয়া হয় সামিট পুশের আগে শেষ প্রস্তুতি। কিন্তু ব্যালকনির প্রকৃত গুরুত্ব এসব যান্ত্রিক কাজের চেয়েও গভীরে।

everest

এই উচ্চতায় শরীর থাকে ডেথ জোনে। চিন্তা ঝাপসা, পা ভারী, শ্বাস নিতে কষ্ট, শরীরের শেষ শক্তিটুকুও পরখ করে নিতে হয়। ঠিক তখনই ব্যালকনি হয়ে ওঠে আত্মজিজ্ঞাসার জায়গা। অনেকেই এখানে দাঁড়িয়ে নিজের শরীর ও মনকে প্রশ্ন করে, আর সামনে এগোনো ঠিক হবে, নাকি ফিরে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ? কারণ ব্যালকনির পরের পথ আরও সরু, আরও বিপজ্জনক, আর ফেরার সুযোগও সীমিত।

ব্যালকনি তাই সামিটের নিশ্চয়তা নয় বরং সততার জায়গা। এখানে প্রকৃতি কাউকে প্রলুব্ধ করে না; বরং আয়নার মতো দেখিয়ে দেয় মানুষের প্রকৃত সক্ষমতা ও সীমা কতটুকু। কেউ এগিয়ে যায়, কেউ ফিরে আসে, দুটো সিদ্ধান্তই সমান সাহসের। এভারেস্টের ইতিহাসে ব্যালকনি তাই শুধু একটি জায়গা নয় বরং মানুষের সংকল্প ও সংযমের এক নীরব সাক্ষী হয়েই থাকে।

এসইউ

আরও পড়ুন