ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ভ্রমণ

মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে বরিশালের গুঠিয়া মসজিদ

শাওন খান | বরিশাল | প্রকাশিত: ১১:২৫ এএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্মাণের ২০ বছর পরও মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স বা গুঠিয়া মসজিদ। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই মসজিদের নাম বাইতুল আমান জামে মসজিদ হলেও দক্ষিণাঞ্চলে গুঠিয়া মসজিদ নামেই ব্যাপক পরিচিত। বাংলাদেশের যে কয়টি সুন্দর এবং দৃষ্টিনন্দন মসজিদ আছে, তার মধ্যে বরিশালের গুঠিয়া মসজিদ অন্যতম। এটি এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ জামে মসজিদ।

গুঠিয়া মসজিদের মূল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে সন্ধ্যার পর। মসজিদ ভবনের সৌন্দর্য বাড়াতে বর্ণিল আলোকসজ্জা, বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল কাচ, মূল্যবান মার্বেল পাথর, গ্রানাইট ও সিরামিক দিয়ে করা হয়েছে নকশার কাজ। যা দেখতে সারাবছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ছুটে আসে শত শত মানুষ। শুধু মুসলিমরাই নয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এখানে সবাই আসেন মসজিদটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

মসজিদটির অবস্থান বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে। বরিশাল শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার। প্রায় ১৪ একর জমির ওপর সুবিশাল মসজিদটি গড়ে তোলা হয়েছে। বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থান থেকে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ ঘুরতে এসেছেন মসজিদ প্রাঙ্গণে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরতে আসা লোকজন যে যার মতো ছবি তুলে সময় পার করছেন।

বরিশাল নগরী থেকে ঘুরতে আসা আমিনুল সোহেল বলেন, ‘এর আগে অনেকবার এসেছি। তারপরও সুযোগ পেলে চলে আসি। মূলত মসজিদটির সৌন্দর্য কাছে টানে। এর আগে বিকেলে দুর্গা সাগর দিঘিও ঘুরে দেখেছি। সন্ধ্যায় মসজিদ প্রাঙ্গণে এসেছি। কারণ সন্ধ্যায় লাইটগুলো জ্বললে মসজিদের আসল সৌন্দর্য দেখা যায়।’

guthia

আগৈলঝাড়া থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা নাজমুল রিপন বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই আসবো আসবো করে আসা হয়নি। আজ পরিবার নিয়ে চলে এসেছি। মসজিদটি আসলেই সৌন্দর্যের দারুণ নিদর্শন। যে কেউ এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবেন। তাছাড়া মূল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে রাতে। নান্দনিক কারুকার্য খচিত অংশগুলো রাতের বর্নিল আলোকসজ্জায় আরও সৌন্দর্য মুখরিত করে তোলে। যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে লোকজন।’

মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্সের মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করলে ডানপাশে আছে একটি পুকুর। পুকুরটির চারপাশ নানান রঙের ফুল ও গাছ দিয়ে সাজানো। দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য পুকুর পাড়ের রাস্তা পাকা করে দেওয়া হয়েছে। মসজিদটির দক্ষিণ দিকে আছে প্রায় ১৯৩ ফুট উচ্চতার একটি মিনার। পুরো মসজিদজুড়ে আছে ছোট-বড় ৯টি গম্বুজ। মসজিদ ভবনকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে লেখা হয়েছে আয়াতুল কুরসি, সুরা আর রহমানসহ আল কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও সুরা। মসজিদ কমপ্লেক্সে কাবা শরীফ, আরাফার ময়দান, জাবালে রহমত, জাবালে নূর, নবীজির জন্মস্থান, মা হাওয়ার কবরস্থান, খলিফাদের কবরস্থানসহ মক্কা-মদিনার বিভিন্ন স্থানের মাটি সংরক্ষণ করা আছে।

মসজিদের শিলালিপি সূত্রে জানা যায়, বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা। ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর ব্যক্তি উদ্যোগে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। যা শেষ হয় ২০০৬ সালে। প্রায় ১৪ একর জমির ওপর স্থাপিত মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার শ্রমিক ৩ বছর কাজ করেছেন। ২০টি গম্বুজের স্থাপত্যকলায় সাজানো হয়েছে মসজিদটি।

এ ছাড়া আছে একটি ডাকবাংলো, এতিমখানা, গাড়ি পার্কিং, পুকুর, লেক এবং বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বাগান। একটি হ্যালিপ্যাডও আছে। মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় ১৫০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। যেখানে নারী ও পুরুষদের জন্য আছে আলাদা নামাজের স্থান। এ ছাড়া ২০ হাজারের বেশি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ঈদগাহ ময়দান আছে।

guthia

মসজিদের দৃষ্টিনন্দন ঝাড়বাতি ছাড়াও আছে বাহারি নকশার আলোকবাতির ব্যবস্থা। এ ছাড়া বাইরে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স ঘিরেও আছে বাহারি আলোকবাতি। যা রাতের বেলা মসজিদের শোভা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। মসজিদের তিন পাশে খনন করা হয়েছে কৃত্রিম লেক।

জানা যায়, মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু কয়েকজন স্থপতি বন্ধুকে নিয়ে দুবাই, তুরস্ক, মদিনা শরীফ, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যান। সেখানে তারা বিভিন্ন মসজিদ ঘুরে দেখেন ও সেসব মসজিদের স্থাপত্যশৈলী প্রয়োগ করে গুঠিয়ায় মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির আরেকটি বিশেষ দিক হলো, এর সামনের পুকুরটি এমনভাবে খনন করা হয়েছে যাতে পানিতে মসজিদটির পুরো প্রতিবিম্ব দেখা যায়।

বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বাস বা মাহিন্দ্রায় করে আধঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছানো যায় গুঠিয়া মসজিদে। বরিশাল-বানারিপাড়া আঞ্চলিক মহাড়কের পাশে হওয়ায় বাস বা অটো থেকে নেমেই মসজিদটি চোখে পড়বে। সন্ধ্যার সময় মসজিদটি ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত। কারণ মসজিদটি তার রূপ দিনের অপেক্ষা রাতেই বেশি মেলে ধরে।

এইচআরএস/এসইউ

আরও পড়ুন