ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ভ্রমণ

অবরোধের কারণে পর্যটকশূন্য বাওয়াছড়া

এম মাঈন উদ্দিন | প্রকাশিত: ০৫:৫৩ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০২৩

ঘড়ির কাঁটা তখন বিকেল ৪টা ছুঁই ছুঁই। সুনসান নীরব চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার অন্যতম পর্যটন স্পট বাওয়াছড়া সেচ প্রকল্প ও কৃত্রিম লেক। দিনের এই সময়ে অন্যদিন এখানে মানুষের বেশ আনাগোনা থাকলেও এখন একজন পর্যটকেরও দেখা মিলছে না।

চলতি (নভেম্বর) মাসের শুরু থেকে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে বাওয়াছড়া প্রকল্পে। প্রতিদিন যে লেকে শতাধিক পর্যটক আসার কথা, সেখানে সারাদিনে হাতেগোনা কয়েকজন পর্যটক আসছেন।

jagonews24

আরও পড়ুন: দুবাই ভ্রমণে যে ভুলে হতে পারে জেল-জরিমানা

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার অন্য পর্যটন স্পটের মতো বাওয়াছড়া লেকে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসেন। এখানে বোট নিয়ে লেকের মধ্যে ঘুরে বেড়ান। ঝরনায় বেড়াতে যান।

তবে অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় লোকজন আসতে পারছেন না। এতে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ে এই স্পট। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ইজারা পাওয়া প্রতিষ্ঠান ও বাওয়াছড়াকে ঘিরে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।

jagonews24

মিরসরাই উপজেলার ১৫ নাম্বার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুরে পাহাড়ের পাদদেশে এটি অবস্থিত। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছোট কমলদহ নেমে পূর্বদিকে গেলে এই পর্যটন কেন্দ্র।

আরও পড়ুন: কম খরচেই ঘুরে আসুন প্রাচ্যের প্যারিসে

২০০৫ সালে এলজিইডির অধীনে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রাকার সেচ প্রকল্পের আওতায় বাওয়াছড়া লেক স্থাপন করা হয়েছে। তৎকালীন ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সেলিমের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

jagonews24

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাওয়াছড়া সেচপ্রকল্পের বাঁধে ও লেকে কোনো মানুষ নেই। লেকের একপাশে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে কায়াকিং, প্যাডেল বোট ও পানসি বোট। শিশুদের জন্য গড়ে ওঠা রাইটগুলোও চলছে না। একই অবস্থা গত ১৫ দিন ধরে।

কমলদহ বাওয়াছড়া রাস্তার মাথা থেকে লেক রুটে চলাচল করা সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন নিয়ে লেক পর্যন্ত ভাড়া নিয়ে যাই।’

jagonews24

আরও পড়ুন: পার্ক নাকি হীরার খনি!

‘তবে গত ১৫ দিন ধরে কোনো মানুষ ঘুরতে আসছেন না। এখন এই রুটে গাড়ি না চালিয়ে কমলদহ-কানগুরহাট রুটে চলাচল করছি। যতদিন অবরোধ থাকবে; ততদিন মনে হয় লেকের রোডে আর যাত্রী হবে না।’

লেকপাড়ের ব্যবসায়ী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘গত ১৫ দিন ধরে বেচাকেনা নেই বললেই চলে। লোকজন আসছে না, বিক্রি করবো কার কাছে? সারাদিন দোকান খুলে অলস বসে দিন পার করছি। এভাবে আর কতদিন চলতে হবে বুঝতে পারছি না। যদি দীর্ঘসময় এ অবস্থা থাকে তাহলে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যেতে হবে।’

jagonews24

বাওয়াছড়া প্রকল্প ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠান এএইজ এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘বাওয়াছড়া লেকে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন পর্যটক আসেন। প্রতিজনের টিকিট ২০ টাকা। ছুটির দিন শতাধিক পর্যটক এখানে বেড়াতে এসে থাকেন।’

আরও পড়ুন: ইতালির যে ২ শহরে সংসার পাতলেই পাবেন ৩৫ লাখ টাকা

তিনি বলেন, ‘এখানে কায়াকিং, প্যাডেল বোট, পানসি বোট, শিশুদের খেলার রাইট ও পিকনিকের জন্য স্পট আছে। এছাড়া দুটি ঝরনা আছে, ঝরনায় যাওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে গাইডের ব্যবস্থা আছে।’

jagonews24

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি মাসের শুরু থেকে পর্যটক আসছে না বললে চলে। গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় মানুষ আসতে পারছে না। সারাদিন লেকের পাড়ে বসে অলস সময় কাটছে।’

বাওয়াছড়া প্রকল্প ইজারা পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এএইচ এন্টারপ্রাইজ তত্ত্বাবধায়ক নাজমুল হাসান বলেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরে বারৈয়ঢালা রেঞ্জের সবকটি ঝরনা ২৯ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছি।’

jagonews24

তিনি বলেন, ‘জামানত দিয়েছি ৭ লাখ টাকা। তার মধ্যে বাওয়াছড়া লেকও আছে। কিন্তু এখন অবরোধের কারণে পর্যটকশূন্য হওয়ায় লোকসান গুনতে হবে।’

জেএমএস/এসইউ/এমএস

আরও পড়ুন