ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. নারী ও শিশু

দেশে বাল্যবিয়ের হার ৬৬ শতাংশ

প্রকাশিত: ০৩:৪৯ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৫

দেশে বর্তমানে বাল্যবিয়ের হার ৬৬ শতাংশ। আর বাল্যবিয়ের ফলে ১৮ বছরের আগেই প্রথম সন্তানের মা হচ্ছেন ১০ শতাংশ শিশু। শনিবার শেরপুর শিশু ফোরামের বার্ষিক সমাবেশের মূলপ্রবন্ধে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাম্প্রতিক জরিপের এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

জরিপে বলা হয়, দেশের ২০টি জেলায় বাল্যবিয়ের হার সবেচেয়ে বেশি। ২০১০ সাল পর্যন্ত ১৮ বছরের আগে সাড়ে ১৩ মিলিয়ন শিশুর বিয়ে হয়েছে। এখনই বাল্যবিয়ে বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে সাড়ে ১৫ মিলিয়ন শিশু বাল্যবিয়ের শিকার হবে।

এ সময় আরো বলা হয়, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিয়ের বয়স কমানো কোনো সমাধান নয় বরং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, জোরদার প্রচারাভিযান, এ সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং মেয়ে শিশুর সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

ওয়ার্ল্ডভিশন শেরপুর এডিপি’র স্পন্সরশীপ প্রকল্পের আয়োজনে ‘১৮ বছরের আগে বিয়ে নয়’-এ শ্লোগানে শেরপুর শহরের নিউমার্কেট হোটেল আলিশান হলরুমে দিনব্যাপী শিশু ফোরামের এ বার্ষিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এডিপি’র শিক্ষা প্রকল্প কর্মকর্তা সুজিত বানোয়ারী। তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে আমাদের সমাজের জন্য একটি অভিশাপ। এর ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার বাড়ছে। শিক্ষার হার ও গুণগত মান হ্রাস, শিশু অপুষ্ঠির হার এবং নারী-শিশু সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা টেকসই উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্ত করছে।

তিনি আরো বলেন, শিশু ফোরাম গঠনের লক্ষ্য হলো শিশু-কিশোরদের বেড়ে ওঠা ও পরিপূর্ণ বিকাশ। এর মধ্য দিয়ে শিশু-কিশোরদের দক্ষ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তোলা। শিশু ফোরামের সদস্যরা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সহায়ক পালন করছে। সারাদেশে এমন ৪০ হাজার শিশু-কিশোর বাল্য বিয়ে বন্ধে কাজ করছে। বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাথে যৌথভাবে ওয়ার্ল্ডভিশন সারাদেশে প্রচারাভিযান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার বলাইয়ের চর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের শিশু ফোরাম সদস্য বেবী চিশিম নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানায়, শিশু ফোরামের মাধ্যমে তারা নিজেদের এলাকায় দুইটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছে। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদ শ্রীপুরের আদিবাসী পল্লীতে একটি চাইল্ড কর্ণার নির্মাণ করে দিয়েছে বলে উল্লেখ করে।

দিনব্যাপী বার্ষিক এ শিশু সমাবেশে শিশুর শিক্ষা, বেড়ে ওঠা, বিকাশ, সুরক্ষা, বাল্য বিবাহ, শিশু পাচার এবং জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদ সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে সমাপনী অধিবেশনে শিক্ষা প্রকল্প কর্মকর্তা সুজিত বানোয়ারীর সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান বেগম সামসুন্নাহার কামাল, শেরপুর প্রেসক্লাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার, সাধারণ সম্পাদক সাবিহা জামান শাপলা। অন্যান্যের মধ্যে নবকলি পুষ্টি প্রকল্পের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সিন্ধু কুমার রায়, শিশু সংগঠক সাংবাদিক হাকিম বাবুল, প্রধান শিক্ষক মলয় মোহন বল, আসাদুজ্জামান মোরাদ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে শেরপুর সদর উপজেলার পৌর এলাকা ও ৪টি ইউনিয়নের ৩২টি শিশু ফেরামের ১২ জন করে ৩৮৪ জন সদস্য সহ চার শতাধিক শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে। পরে শিশু ফোরাম সদস্যরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।

হাকিম বাবুল/আরএস/এমআরআই