বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেও আর্থিক সমীকরণে ধাক্কা খেল রণবীর সিংয়ের আলোচিত স্পাই অ্যাকশন থ্রিলার ‘ধুরন্ধর’। বিশ্বজুড়ে হাজার কোটি টাকারও বেশি আয় করেছে সিনেমাটি। তবুও নাকি এটি ক্ষতির মুখে। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ছবির পরিবেশক।
বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক বাজারের জটিলতা মিলিয়ে ছবিটির লাভ-লোকসানের অঙ্ক নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।
মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছে ‘ধুরন্ধর’। তবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ছবিটির প্রদর্শনী নিষিদ্ধ হওয়ায় সম্ভাব্য আয়ের বড় একটি অংশ হাতছাড়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন পরিবেশক পর্ণব কাপাডিয়া।
আরও পড়ুনহৃতিক রোশনই কি হচ্ছেন নতুন ‘ডন’শাহরুখপুত্রের প্রেমিকা কে এই ব্রাজিলিয়ান সুন্দরী লারিসা
সিএনএন-নিউজ১৮-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে মুক্তি না পাওয়ার কারণেই প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার বা আনুমানিক ৯০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তার মতে, অ্যাকশন ঘরানার ছবিগুলো ওই অঞ্চলে বরাবরই ভালো ব্যবসা করে।
তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব নিয়ম-কানুন রয়েছে এবং সেগুলোকে সম্মান করতেই হয়। এর আগেও ‘ফাইটার’-সহ একাধিক ভারতীয় ছবি মধ্যপ্রাচ্যে নিষিদ্ধ হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরিবেশকের দাবি, ডিসেম্বরের শেষ ভাগে মুক্তি পাওয়ায় অনেক দর্শক বিদেশ ভ্রমণে থাকলেও ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে ভালো সাড়া মিলেছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় ছবিটির আয় ছিল চোখে পড়ার মতো।
উল্লেখ্য, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানে মুক্তি পায়নি ‘ধুরন্ধর’। তবুও ২০২৫ সালে বিদেশের বাজারে এটি সবচেয়ে সফল ভারতীয় সিনেমাগুলোর একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। মাত্র ২৬ দিনে বিদেশে ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৭ মিলিয়ন ডলার এসেছে উত্তর আমেরিকা থেকে।
সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট আয় এখন পর্যন্ত ১১০১ কোটি রুপি। আদিত্য ধর পরিচালিত এই সিনেমায় রণবীর সিংয়ের সঙ্গে অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না, অর্জুন রামপাল, আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, রাকেশ বেদী ও শিশু শিল্পী সারা অর্জুন।
এদিকে দর্শকরা ইতিমধ্যেই ‘ধুরন্ধর’-এর সিক্যুয়ালের অপেক্ষায়। জানা গেছে, পরবর্তী পর্ব মুক্তি পেতে পারে ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ।
এলআইএ