আইন-আদালত

লায়লাকে মারধরের মামলায় মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

আলোচিত লায়লা আখতার ফরহাদকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। একই দিনে মামুনের পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করেন।

এদিন সকালে মামলার বাদী লায়লা আখতার ফরহাদ বোরকা পরে আদালতে হাজির হন। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের প্রতি তার আস্থা রয়েছে এবং ন্যায়বিচার পাচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নিতে প্রিন্স মামুন তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামুন একজন কিশোর গ্যাং লিডারের মতো আচরণ করছে।

বৃহস্পতিবার মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। তবে ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করায় প্রিন্স মামুন আদালতে উপস্থিত হননি। তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশিকুল ইসলাম সময় চেয়ে আবেদন করেন।

অন্যদিকে, বাদীপক্ষ আসামির জামিন বাতিল ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানান। লায়লার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সরকার সাব্বির হোসেন (ফয়সাল)।

শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অন্য একটি আদালতে ধর্ষণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া চলমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীর বাসায় অনধিকার প্রবেশ করে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল হওয়ায় আসামির জামিন বহাল থাকা তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত প্রিন্স মামুনের জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। আগামী ৫ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্রে লায়লার সঙ্গে প্রিন্স মামুনের যোগাযোগ হয়। এক পর্যায়ে তিনি লায়লার বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। চলতি বছরের ১০ মে ভোরে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ডিওএইচএসে অবস্থিত লায়লার বাসায় গিয়ে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলা ও একটি সাধারণ ডায়েরি তুলে নিতে চাপ দেন মামুন।

বাদী এতে সম্মতি না দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে গিয়ে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরে লাইভ বন্ধ করে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং ছুরি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। আত্মরক্ষার সময় লায়লা আহত হন।

এ ঘটনায় একই দিন ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে থানার উপপরিদর্শক আতিকুর রহমান সৈকত গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রিন্স মামুনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

এমডিএএ/এএমএ/বিএ/জেআইএম