রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ছোটগল্প ‘শাস্তি’ অবলম্বনে একই নামের সিনেমা তৈরি হচ্ছে ঢালিউডে। এ ছবি দিয়ে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন চঞ্চল চৌধুরী ও পরীমনি। ছবিটি নির্মাণ করছেন লিসা গাজী। গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজন করা হয় একটি সংবাদ সম্মেলন। উপস্থিত ছিলেন ছবিটির কলাকুশলীরা।
সেখানে চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করার অনুভূতি জানতে চাইলে প্রথমে কিছুটা ভাষাহীন হয়ে পড়েন পরীমনি। ইশারা-ইঙ্গিতে চঞ্চলের প্রতি তার মুগ্ধতা প্রকাশ করেন তিনি। এরপরই হালকা হাসির ছলে শোনান চঞ্চলকে নিয়ে নিজের এক ‘আফসোসের’ গল্প।
পরীমনি বলেন, ‘লিফটে আসার সময় আমরা কথা বলছিলাম। মজা করতে করতে চঞ্চল ভাইকে বললাম, ‘বুড়া বয়সে এসে আমাদের একসঙ্গে কাজ হচ্ছে!’’
পরীমনির এই মন্তব্যে মুহূর্তেই হাসির রোল পড়ে যায় পুরো মিলনায়তনে। তবে এর মধ্যেই লুকিয়ে ছিল বহুদিন ধরে চঞ্চলের সঙ্গে পরীর একসঙ্গে কাজ করার আক্ষেপ।
চলচ্চিত্রটির প্রযোজনায় যুক্ত রয়েছে একাধিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। চঞ্চল চৌধুরী ও পরীমনি ছাড়াও ছবিতে অভিনয় করবেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী শিল্পী অর্ক। নির্মাতা লিসা গাজী জানান, আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে শুটিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।আরও পড়ুনপ্রথমবার বাংলাদেশি সিনেমায় কবীর সুমনের গান, গাইবেন আসিফহিমালয়ে মাইনাস ৮ ডিগ্রিতে কী করলেন সুনেরাহ-রেহান?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শাস্তি’ গল্পটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী মানবিক আখ্যান। পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক বাস্তবতা, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং নারীর নীরব আত্মত্যাগ- এই বিষয়গুলো গল্পটিকে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে।
মূল গল্পে দুই ভাই চিদাম ও দুখিরামের পারিবারিক জীবনের মধ্য দিয়ে এগোয় কাহিনি। এক তুচ্ছ ঝগড়ার জেরে দুখিরামের স্ত্রী নিহত হন। আইনের হাত থেকে বাঁচতে চিদাম হত্যার দায় চাপিয়ে দেন নিজের স্ত্রী চন্দরার ওপর। নির্দোষ হয়েও চন্দরা দায় স্বীকার করে নেন এবং মৃত্যুদণ্ডের আগেও সত্য প্রকাশ না করে নীরব থাকেন। এই নীরবতাই হয়ে ওঠে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে এক গভীর প্রতিবাদ।
চঞ্চল-পরীমনির অভিনয়ে ‘শাস্তি’ নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে এই গল্পকে কতটা নতুন করে তুলে ধরতে পারে তা নিয়েই এখন কৌতূহল সিনেমাপ্রেমীদের।
এলআইএ