লাইফস্টাইল

শক্তিশালী পায়ের পেশি কমাবে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি

মস্তিষ্ক ভালো রাখতে চাইলে শুধু ব্রেন এক্সারসাইজ নয়, পায়ের পেশিও শক্ত রাখা জরুরি। শুনতে অবাক লাগলেও আধুনিক গবেষণা বলছে, পায়ের শক্তি যত ভালো, বয়স বাড়লেও মস্তিষ্ক তত সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।

গবেষণা কী বলছে?

ইংল্যান্ডের কিংস কলেজ লন্ডনের এক দীর্ঘ ১০ বছরের গবেষণায় যমজ ভাইবোনদের নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়। সেখানে দেখা গেছে, জিনগত পার্থক্য থাকলেও যাদের পায়ের পেশি বেশি শক্ত, তাদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি তুলনামূলক ভালো থাকে। অর্থাৎ পায়ের শক্তি মস্তিষ্কের সুস্থ বার্ধক্যের অন্যতম শক্তিশালী পূর্বাভাস।

পা আর মস্তিষ্কের সংযোগ কোথায়?

বিজ্ঞানীরা একে বলেন মাসল-ব্রেন অ্যাক্সিস। অর্থাৎ, পেশি ও মস্তিষ্কের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা।

১. মস্তিষ্ক রক্ষাকারী হরমোন নিঃসরণপায়ের বড় পেশি নড়াচড়া করলে শরীর থেকে বিশেষ প্রোটিন বের হয়, যাকে বলা হয় মায়োকাইন। এগুলো রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কে গিয়ে বিডিএনএফ নামের উপাদান বাড়ায়, যা নতুন স্নায়ুকোষ তৈরি ও স্মৃতিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

২. মস্তিষ্কের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানিজোরে হাঁটা বা স্কোয়াটের মতো ব্যায়ামে পায়ের পেশি থেকে ল্যাকটেট তৈরি হয়। এই ল্যাকটেট মস্তিষ্কের জন্য বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাজ করে, মনোযোগ ও স্মৃতিকে সক্রিয় রাখে।

৩. স্মৃতির কেন্দ্রকে সুরক্ষাযাদের পায়ের পেশি শক্ত, তাদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস বা স্মৃতির কেন্দ্র কম সঙ্কুচিত হয়। আলঝেইমার রোগে সাধারণত এই অংশই আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৪. রক্তপ্রবাহ ও অক্সিজেন বাড়ায়পা শরীরের সবচেয়ে বড় পেশি। এগুলো শক্ত হলে রক্ত চলাচল ভালো হয়, ফলে মস্তিষ্কে বেশি অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায়।

৫. ডায়াবেটিস ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখেপেশি শক্ত হলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ কমে। এই দুই সমস্যা ডিমেনশিয়ার বড় ঝুঁকি।

তাই দৌড়ঝাঁপ নয়; নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা, স্কোয়াট বা চেয়ার থেকে ওঠাবসা - এগুলোই পায়ের পেশি ও মস্তিষ্ক দুটোই ভালো রাখার সহজ উপায়।

সূত্র: কিংস কলেজ লন্ডনের টুইন স্টাডি ও পেশি–মস্তিষ্ক সম্পর্ক, জার্নাল অব জেরোন্টোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ

এএমপি/জেআইএম