ক্যাম্পাস

গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে অপপ্রচার হচ্ছে: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

আসন্ন গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমার্যাদা) অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, প্রচার করা হচ্ছে গণভোটের মধ্য দিয়ে যে জুলাই সনদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে সেটির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ তুলে দেওয়া হচ্ছে। অথচ জুলাই সনদের কোথায় এটি (বিসমিল্লাহ তুলে দেওয়া) উল্লেখ নেই।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এবং গণভোটের প্রচার’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে প্রচার করা হচ্ছে, এই সনদের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা হচ্ছে। অথচ জুলাই সনদে কয়েকটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও একটি বিষয়ে সব দল একমত হয়েছেন যে, বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায় বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি উল্লেখ থাকবে।

তিনি বলেন, এদিকে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার হবে বাংলাদেশের ভিত্তি। সেই আদর্শগুলোকে যে কমিশন, যে সনদ বলছে এগুলো রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, সেটিকে কীভাবে বলা হয় মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে? তার মানে এগুলো মিথ্যাচার।

তিনি আরও বলেন, বলা হচ্ছে সেকুলারিজম তুলে দেওয়া হয়েছে, মানে বাংলাদেশকে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। অথচ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ নেওয়া ৩০টি রাজনৈতিক দলের ২৯টি দল একমত হয়েছে সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, বাংলাদেশ একটি বহু জাতিগোষ্ঠী, বহুধর্মী, বহুভাষী ও বহুসংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। আর কতটা সুস্পষ্ট করে বলা যেতে পারে যে বাংলাদেশ সব ধর্মের রাষ্ট্র।

অপপ্রচার কাজে দিবে না উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, তাদের অপপ্রচার কাজে দিবে না, কারণ গণভোটের প্রশ্নটা ওই জায়গাতে না। প্রশ্নটা খুবই সহজ সেটি হলো, ‘২০২৪ এর জুলাই মাসে যারা প্রাণ দিয়েছিলেন তাদের রক্তের মধ্য দিয়ে যে সনদ তৈরি হয়েছে সেই সনদ আপনারা গ্রহণ করবেন, নাকি করবেন না।

এসএইচ জাহিদ/কেএইচকে/জেআইএম