ভেনেজুয়েলায় ‘রাজনৈতিক বন্দি’ হিসেবে পরিচিত অন্তত ৩০ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ফোরো পেনাল। তবে বন্দিদের পরিবারগুলোর অভিযোগ, মুক্তির প্রক্রিয়া এখনো খুব ধীরগতিতে চলছে।
এই মুক্তির ঘটনা আসে এমন এক সময়, যখন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শত শত বন্দির জন্য একটি প্রস্তাবিত ‘সাধারণ ক্ষমা আইন’ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজধানী কারাকাসের হেলিকোইডে আটক কেন্দ্রকে খেলাধুলা ও সামাজিক সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হেলিকোইডে বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। তবে ভেনেজুয়েলা সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ফোরো পেনাল জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে বন্দি মুক্তির নতুন উদ্যোগ ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪৪ জন ‘রাজনৈতিক বন্দি’ মুক্তি পেয়েছেন। এর মধ্যে রোববার মুক্তি পেয়েছেন ৩৩ জন।
রোববার মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন মানবাধিকারকর্মী হাভিয়ের তারাসোনা। তিনি ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে হেলিকোইডে বন্দি ছিলেন।
তার ভাই হোসে রাফায়েল তারাসোনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেন, চার বছর সাত মাস পর আমাদের বহুদিনের প্রত্যাশিত দিনটি এসেছে। আমার ভাই হাভিয়ের তারাসোনা মুক্ত। একজনের মুক্তি সবার জন্য আশার আলো।
হাভিয়ের তারাসোনা ‘ফুন্দারেদেস’ নামের একটি সংগঠনের পরিচালক। এই সংগঠন কলম্বিয়া-ভেনেজুয়েলা সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য সংগ্রহ করে। তাকে গ্রেফতার করে সন্ত্রাসবাদ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি বন্দি মুক্তির নীতি ঘোষণার পর থেকে এই প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার ঘটনার পরপরই শুরু হয় বলে জানা গেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম