দেশজুড়ে

রিকশা মার্কায় ভোট চাওয়ায় মাদরাসাশিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ

ফরিদপুরের সালথায় ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে রিকশা মার্কায় ভোট চাওয়ার অভিযোগে মুকতার হুসাইন (৫০) নামের এক মাদরাসাশিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সালথা উপজেলা খেলাফত মজলিস কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী হাফেজ মুকতার হুসাইন উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া রহমানিয়া তালতলা মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক। তিনি নগরকান্দার উপজেলার ইশ্বর্দী গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী হাফেজ মুকতার হুসাইন তার বক্তব্যে বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাদরাসায় ক্লাস নিচ্ছিলাম। এসময় মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা হেদায়েত উল্লাহর ভাই কাইয়ুম মোল্যা ও স্থানীয় ফজলুল মাতুব্বর মাদরাসায় এসে আমাকে ক্লাস রুম থেকে ডেকে নেন। এরপর তারা প্রথমে আমার প্রশংসা করে বলেন, আপনি রিকশা মার্কায় ভোট চান ও হুজুরের নির্বাচনি সভায় অংশ গ্রহণ করেন? উত্তরে আমি বলি, ‌হ্যাঁ। হুজুরকে আমি ভালোবাসি, তাই ভোট চাই।

তিনি বলেন, ‌‘এ কথা বলার পর কাইয়ুম মোল্যা আমাকে খারাপ ভাষায় গালাগালি করে ও হুমকি দেয়। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আমার বকেয়া বেতন দিয়ে আমাকে বিদায় করে দিলো। আমি এ ঘটনার ন্যায় বিচার চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সালথা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফরিদপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আল্লামা আকরাম আলী হুজুরের পক্ষে ভোট চাওয়ায় আমাদের একজন কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকী তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা ১১ দলের পক্ষ থেকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

হুমকি ও গালাগালি করার বিষয়টি অস্বীকার করে মাদরাসার মোহতামিমের ভাই কাইয়ুম মোল্যা বলেন, ‘ওনাকে কোনো হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়নি। তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। উনি আগেও একবার মাদরাসা থেকে চাকরি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। পরে আবার চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। মাঝে মাঝে তিনি ছাত্রদের মারধর করেন। তারপরও উনি একজন হাফেজ দেখে সম্মান করে আমরা কিছু বলিনি। কিন্তু উনি কয়দিন ধরে ক্লাস চলাকালে মাদরাসা ছাত্রদের কাছে রিকশার ভোট চান এবং চাপ দেন। ছাত্রদের পরিবারের কাছে ভোট চাইতে বলেন। এতে মাদরাসার পরিবেশ নষ্ট হয়। তাই আজকে সকালে আমরা মাদরাসার গিয়ে হুজুরকে এভাবে ভোট চাইতে নিষেধ করি। পরে তিনি উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়ে মাদরাসা থেকে বের হয়ে যান।’

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সঠিক নয়। তারা আজ পর্যন্ত আমাকে একটা লিখিত অভিযোগও দেয়নি। এমনকি আমার কার্যালয়ের সামনে একটি অভিযোগ বাক্স রাখা হয়েছে। সেখানেও ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কোনো হুমকি-ধমকি বা নির্বাচনি কাজে বাধা দেওয়ার কোনো অভিযোগ দেয়নি।

এন কে বি নয়ন/এসআর/জেআইএম