সাহিত্য

জিল্লুর রহমান শুভ্রর কবিতা: যে হৃদয় কাঠঠোকরার এবং অন্যান্য

যে হৃদয় কাঠঠোকরার

একপ্রস্ত কাপড়ে, প্রত্যালীঢ় হয়ে ছুঁড়েছি প্রেমবাণ কিশোরী, তোমার দিকে জ্যামিতিক সুখের আশায় বিচূর্ণ ঢেউয়ের মতো,পৌনঃপুন্য, সরে গেছ নিষিদ্ধ চোরাবালির ঘ্রাণ নিতে।না পাওয়ার যতসব অস্ফুট বেদনা ধূসর নগর থেকে নগর ঘুরে,যে নক্ষত্র অহর্নিশ একাকিত্বের চরকা কাটে তার পাঁজর ছুঁয়েফিরে আসে প্রত্যভিজ্ঞানের ভায়োলিন হয়ে;অতঃপর অভিরোষে মেজাজ হারায়, সুতীব্র মূর্ছনার বিষ ঢালে—যে হৃদয় কাঠঠোকরার তার কাছেমধুবর্ষণ আশা করা বৃথা!সেই থেকে অভাজন দেখেনাশপাতি রং আকাশের বিলোল চোখেকূটাভাস আর কূটচালের সমূহ ইঙ্গিত।...এক অন্তহীন দুঃস্বপ্নের ছায়াপথ ঘুরেতুমি এখন নষ্ট মানুষের জাদুঘরে;তোমাকে লজ্জা দিতে চাই না বলেকোনোদিন টিকিট কাটবো নাসেই জাদুঘরের।

****

বোধিবৃক্ষ

বোধিবৃক্ষের নিচে আদমের কঙ্কাল হাতেযখন নিঃশ্বাস নিইসমুদ্র তখন বিক্ষুব্ধ চিত্তে তার জাতকিনীর ডায়েরি পড়েঃআমি ভালো নেই রে মা! মানবদূষণ! বায়ূদূষণ! ভূমিদূষণ! এ কী দেখছি আজ! কামারশালার গনগনে আগুনের গর্ভাশয়ে বেজন্মাদের ভ্রূণ! চাণক্যনীতি ও চার্বাকনীতি বিভাজনের মহাকাব্য লিখেই চলেছে। ফিসফাসের মহামারি আজ। ষড়যন্ত্রের মাকড়সা-বুনন। অর্থগৃধ্নুদের অহেতুক ষাষ্টাঙ্গে প্রণাম। দস্যুদের গেণ্ডুয়া প্রদর্শন। মোহ, মদ ও মাৎসর্যের অগ্নিপ্রসব। মারীচদের স্ফীতোদর। ভব্যতার মন্বন্তর সর্বত্র। শান্তির ললিত বাণী পরভৃৎ-এর অন্নপ্রাশন। ভুজঙ্গ-শ্বাস ভূশণ্ডিদের নাস্তার টেবিলে নতুন ডাইমেনশন। চটকদার বিজ্ঞাপন ঘুম কাড়ে অসূর্যস্পর্শাদের। দম্ভোক্তির রকেটগতি মড়ুঞ্চের। তাঁবুতে ফেরে না মাৎস্যনীতির হাড়চাঁছা উন্মাদ বালক। হা করে দেখি আদিতম ইতিহাসের বহুল চর্চিত হাবিল-কাবিলের প্যারাডক্স। ভাই হাবিলকে হত্যার পর কাবিলের উদ্ভ্রান্ত, হতভম্ব ও বিমূঢ় মুখের প্রতিছাপ বিজ্ঞাপিত হলো পার্চমেন্টে। সেই থেকে বৈশ্যদের বাড়ন্ত গতি। সেই থেকে উড়ছে বিনাশের মকরধ্বজ, ক্ষীয়মান চাঁদ ঘুরছে আমার ’পর।

বোধিবৃক্ষের নিচে দাঁড়িয়েতুমি, আমি, সেমুখাগ্নি করি তাদের;যারা পুঁজিবাদের পুরুষ্টু ঠোঁটে আঙুল ছোঁয়ায় প্রতিদিনঠুলিপরা চোখে দেখে বিনীত সুন্দরনুনমুখে অগ্রাহ্য করে মানুষের অধিকার।সমস্বরে বলি, মার্কস, তুমি সিসিফাসের ঘাম হয়ে ফিরে এসো! আমরা এখন পাথর ছুঁড়ে মারবো দেবতাদের দিকে!

****

স্নানঘাট

রেবতী-রমণ সেরাতে বন্ধ রেখেছিল দুয়ারমেঘেদের জাল ছিঁড়ে মাছবৃষ্টি নামবেএরকম পূর্বাভাস ছিল গতজনমে।জাতিস্মরদের স্নানঘাটে দাঁড়িয়ে ছিলাম একাকীতোমার উলঙ্গস্নান দেখবো বলে।তিরপল রং অন্ধকারে যারা উল্লাস করে,তাদের কেউ বাজাচ্ছিল সম্মোহনী বাঁশিযৌন সুড়সুড়ি নিতেপা টিপে টিপে তুমি চলে গেছ ভুল ঘাটে।মাছবৃষ্টি নামেনিতোমার কার্পাস দেহেনাংচোরার আঙুলে রিরংসার ঝাঁপতালহে প্রেম তুমি এখন নিশিকুটুম।

এসইউ