প্রযুক্তির কল্যাণে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বই পড়ার আগ্রহ গ্রাস করেছে। তবে তথ্য প্রযুক্তির এ যুগেও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার।
সপ্তাহের শনি থেকে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকছে। সেই সঙ্গে রয়েছে নিয়মিত পাঠকের যাতায়াত। প্রতিদিন প্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক পাঠক এখানে এসে বই পড়ছেন। কোনোদিন আবার এ সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়।
শহরের শায়েস্তা খান রোড এলাকায় তিন তলাবিশিষ্ট গণগ্রন্থাগারের তৃতীয় তলায় রয়েছে লাইব্রেরিয়ানের কক্ষ, শিশুদের সুন্দর পাঠকক্ষ, পত্রিকা/সাময়িকী পাঠকক্ষ, বিজ্ঞান/রেফারেন্স পাঠকক্ষ ও নারীদের নামাজ কক্ষ। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে অফিস কক্ষ, জুনিয়র লাইব্রেরিয়ানের কক্ষ, সাইবার ক্যাফে ও সাধারণ পাঠকক্ষ। সেই সঙ্গে নিচ তলায় রয়েছে বুক স্টেক, সেমিনার কক্ষ, অডিটোরিয়াম ও জেনারেটর কক্ষ।
গণগ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, ৩২ হাজারের বেশি বই থাকা এ লাইব্রেরির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৪২। গড়ে নিয়মিত পাঠক প্রায় শতাধিক। পাশাপাশি তাদের অধীনে তালিকাভুক্ত লাইব্রেরির সংখ্যা ৫২। লাইব্রেরিতে আগে যেমন পাঠক ছিল এখনও আগের মতোই পাঠক রয়েছে। লাইব্রেরিতে প্রতিদিন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আসছেন বই পড়তে।
লাইব্রেরির সদস্য হতে হলে ৫০০ জামানত নেওয়া হয়। যারা সদস্য হবেন তারা এখান থেকে বই নিয়ে বাসায় পড়তে পারবেন। সদস্যপদ বাতিল করলে টাকা ফেরত পাবেন। তাদের সদস্য সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সদস্যরা নিয়মিত বই নিচ্ছেন আবার জমাও দিচ্ছেন। সদস্যের বাইরে পাঠকরা লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করছেন। কোনো কোনো শিক্ষার্থী এখান থেকে বই পড়ে চাকরির প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
লাইব্রেরিতে বই পড়তে আসা আকাশ আহমেদ নামে এক যুবক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স করেছি। চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রতিদিন পড়তে আসি। এখানে বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে। সেইসঙ্গে যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে।
কথা হয় আরেক পাঠক আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি। অবসর সময়ে বিভিন্ন বই পড়ে এখানে সময় কাটাই।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মারুফা আক্তার বলেন, আমরা পাঠকদের অনুপ্রেরণার জন্য নানা কার্যক্রম করে থাকি। আমরা চাই পাঠকরা লাইব্রেরিতে এসে বই পড়ুক। খুব বেশি না হলেও মোটামুটি ভালোই পাঠক আসে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা বিভিন্ন চাকরির জন্য চেষ্টা করছে তারাই বেশি এসে থাকে। সিনিয়র সিটিজনরা কম আসে।
আমরা প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে লাইব্রেরিকেও অনলাইনে যুক্ত করা হয়েছে। ডিভাইসেও আমাদের লাইব্রেরির বই পড়তে পারবে। আমাদের এখানে ই-লাইব্রেরি কর্নার চালু করা হয়েছে। সেখান থেকে তারা বই পড়তে পারবে ডাউনলোড করতে পারবে। বই নিতে পারবে আবার জমা দিতে পারবে।
লাইব্রেরিয়ান পাঠকদের জন্য গ্রন্থাগার নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। ডিভাইসমুখী পাঠকদের জন্য আমাদের এখানে ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া সপ্তাহের শনিবার থেকে বুধবার সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সর্বস্তরের পাঠকদের অনুরোধ করবো আপনারা এখানে আসুন। জ্ঞান অর্জন করুন নিজেকে সমৃদ্ধ করুন। আমরা সমৃদ্ধ হলে দেশ ও জাতি সমৃদ্ধ হবে।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/আরএইচ/এমএস