দেশের নগরাঞ্চলে স্মার্টফোন ব্যবহার বিস্তারের ফলে মানুষের যোগাযোগের ধরনে দ্রুত ও গভীর পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তনকে গবেষণাভিত্তিকভাবে বিশ্লেষণ করা সময়ের দাবি, এমন মতামত তুলে ধরেছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকেরা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক ডক্টরেট (পিএইচডি) পর্যায়ের গবেষণা সেমিনারে বক্তারা বলেন, স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের একটি মাধ্যম নয়; এটি নগর সমাজের আচরণ, সম্পর্কের ধরণ এবং তথ্য গ্রহণের প্রক্রিয়াকেও নতুনভাবে গড়ে তুলছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মিডিয়া ল্যাব কক্ষে এই সেমিনার হয়।
সেমিনারে বিভাগের পিএইচডি গবেষক ও বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলাম তার গবেষণার প্রথম সেমিনার উপস্থাপন করেন। তার গবেষণার শিরোনাম ছিল স্মার্টফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের ধরন পরিবর্তন: বাংলাদেশের নগর এলাকাভিত্তিক একটি বিশ্লেষণ।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুল আলম। গবেষণাটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আনওয়ারুস সালাম।
আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারে নগর জীবনে মুখোমুখি যোগাযোগের ধরন যেমন পরিবর্তিত হচ্ছে, তেমনি ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগেও যুক্ত হচ্ছে নতুন মাত্রা। এসব পরিবর্তনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিকগত প্রভাব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, স্মার্টফোননির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা নগরবাসীর তথ্যপ্রাপ্তির গতি বাড়ালেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা জরুরি। এতে ভবিষ্যৎ যোগাযোগ কাঠামো ও গণমাধ্যম নীতিনির্ধারণে কার্যকর দিকনির্দেশনা পাওয়া সম্ভব হবে।
সেমিনারে উপস্থিত বিভাগের শিক্ষকরা গবেষণার বিষয়বস্তু, গবেষণা পদ্ধতি ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ দেন। আলোচকরা বিশেষভাবে স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের নগরাঞ্চলে যোগাযোগের ধরনে যে পরিবর্তন ঘটছে, তা বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনার শেষে গবেষক রাইসুল ইসলাম প্রাপ্ত পরামর্শ ও সুপারিশসমূহ গবেষণার পরবর্তী ধাপে অন্তর্ভুক্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এমডিএএ/এমআইএইচএস